ইসলামের দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা এবং পবিত্রতা লঙ্ঘনকে চূড়ান্ত সীমা বা ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। গালফ নিউজের বরাতে জানা যায়, সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববির ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্ট শেখ আবদুর রহমান আল সুদাইস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা ও পবিত্রতা এমন একটি রেড লাইন, যা কোনো অবস্থাতেই অতিক্রম করা যাবে না। ইসলামের বিধান ও আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালা অনুযায়ী পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক এবং এখানে হামলা চালানো স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া এই রেড লাইন ঘোষণার মধ্যেই রাজধানী রিয়াদসহ দেশের একাধিক অঞ্চলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ভোরে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হুতিদের ছোঁড়া হামলা প্রতিহত করার সময় রিয়াদে পরপর একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সেখানে অবস্থানরত এএফপির এক সাংবাদিক রাজধানীতে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করেছেন। ওই সময় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে শত্রুভাবাপন্ন আকাশপথের হামলার হুমকিতে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাত ১টার কিছু পর এবং ভোর ৫টার দিকে রিয়াদ অঞ্চলকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা দুটি সশস্ত্র ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর General তুর্কি আল মালিকি জানান, রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া রোববার সকালে দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত শহরকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে দেশটির বাহিনী। হামলা চলাকালে আবহা ও নামাস গভর্নরেট এলাকায় বিমান হামলার আগাম সতর্কতা জারি করা হয়। খামিস মুশাইতের এক স্থানীয় বাসিন্দা এএফপিকে জানান, সকাল থেকে সেখানে প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে উঠছিল।
এর আগে গত শনিবার মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের দিকে হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শূন্যেই ধ্বংস করে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র দুটির ধ্বংসাবশেষ পশ্চিমাঞ্চলের মক্কার ওয়াদি আল মুগাম্মাস, জেদ্দার আল নুজহা, তাইফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিগের মাসতুরা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধার ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম শুরু করে সিভিল ডিফেন্স টিম। শেখ আবদুর রহমান আল সুদাইস দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেন, এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে সৌদি আরবের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে না, বরং লাখ লাখ হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার সংকল্প আরও সুদৃঢ় হবে। তবে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা; সৌদি আরবের এই দাবিকে তারা ‘বড় ধরনের মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছে।




