গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা সদরের ব্যস্ততম কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়কের দুই পাশ দখল করে প্রতিদিন সকালে বসছে অস্থায়ী বাজার। মাছ, সবজি, হাঁস-মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটায় সকালে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ায় সংকুচিত হয়ে পড়ে মূল সড়ক। ফলে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, যা প্রতিদিন সকালের কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ভোগান্তি অবসানে বাজারটি বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, কোটালীপাড়া পৌরসভার পশ্চিমপাড় এলাকায় সড়কের দুই ধারে সারি সারি দোকান বসানো হয়েছে। মাছ, সবজি ও মুদি সামগ্রীর দোকানে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে থিকথিকে ভিড়ের মাঝখান দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। এতে সড়কজুড়ে যান চলাচলের পথ অপ্রশস্ত হয়ে পড়েছে এবং সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পথচারীদের এই বাজার পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সূর্যোদয়ের পরপরই প্রতিদিন এই বাজার জমতে শুরু করে এবং চলে সকাল ১০টা পর্যন্ত। কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্রেতারা মাছ, সবজিসহ নানাবিধ সামগ্রী বিক্রির জন্য এখানে আসেন। টাটকা পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে প্রতিদিন সকালেই সাধারণ ক্রেতারাও ভিড় জমান। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, এই সকালে বাজারটিতে দৈনিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়। তবে কেনাবেচার এই ব্যস্ততা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কে মারাত্মক পরিবহন ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
সকালের এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। কর্মজীবী তামান্না খানম বলেন, সকালে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টকর। একই সঙ্গে যানবাহন ও মানুষের ভিড় জমে তৈরি হয় স্থবিরতা। তাই বাজারের জন্য দ্রুত কাছাকাছি একটি পৃথক জায়গার ব্যবস্থা করা জরুরি। কেনাকাটা করতে আসা সজীব জয়ধর জানান, সকালে এখানে প্রয়োজনীয় টাটকা পণ্য মিললেও সড়কের ওপর বাজার বসার কারণে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে বাজারটি স্থানান্তর করা হলে একদিকে ক্রেতাদের সুবিধা হবে, অন্যদিকে সড়কটির জনদুর্ভোগও দূর হবে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা মাছ বিক্রেতা সমরেশ মণ্ডল জানান, কাছাকাছি সুবিধাজনক ও নিরাপদ কোনো স্থানে জায়গা করে দিলে বাজার সরিয়ে নিতে তাঁর বা অন্য ব্যবসায়ীদের কোনো আপত্তি থাকবে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন নিয়ম করে জনদুর্ভোগ তৈরি হলেও সড়কের ওপর থেকে বাজার সরানো বা স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ এত দিন নেওয়া হয়নি। ফলে কর্মস্থলগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন সকালে যানজটের মধ্য দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের রুটিরুজি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত—উভয় দিক বিবেচনা করে বাজারটিকে দ্রুত বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।
জনদুর্ভোগের বিষটি স্বীকার করে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাইফ-উল-আরেফিন জানান, সড়কের ওপর বাজার বসায় যাতায়াত সত্যি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাজারটি বিকল্প একটি স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রশাসনিক পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




