বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে আসন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে নতুন এই বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এশীয় অঞ্চলে চীনের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব হ্রাস করা এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। নতুন এই বিনিয়োগ মূলত বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্প, উৎপাদন খাত এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি জাপানি ট্রেডিং হাউস সুমিতোমো করপোরেশন ও তাদের অংশীদারদের গড়ে তোলা 'বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন'-এ বিভিন্ন জাপানি প্রতিষ্ঠান বিনোয়োগ বাড়াবে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এই অগ্রগতি এল।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। এই সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুনির্দিষ্ট প্রবেশাধিকার প্রসারিত করা, বিনিয়োগ টানা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সচিব আরও উল্লেখ করেন, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নানা খাতে সহযোগিতার লক্ষ্যে আটটির মতো সমঝোতা স্মারক নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। সফরকালে এর মধ্যে অন্তত তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর সফর সমন্বয়ের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সচিব ইতোমধ্যে টোকিওতে অবস্থান করছেন, কারণ সফরকালে সেখানে বাংলাদেশের নির্ধারিত রাষ্ট্রদূত থাকবেন না।
পররাষ্ট্রসচিব আশা প্রকাশ করেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে উভয় দেশের যৌথ কাজ করার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। জাপান ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্প, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান 'কৌশলগত অংশীদারত্ব' আরও সুদৃঢ় হবে বলে জাপান আশা করছে।




