বগুড়ায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে কেবল শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হলেও বাকি ১১ উপজেলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কেবল দুটি উপজেলার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে।
গত ৬ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার স্বাক্ষরিত স্মারকে মোকামতলার আট ইউনিয়নে আটজন এবং শিবগঞ্জের ৯ ইউনিয়নে ৯ জন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জেলার বাকি ১১ উপজেলার ১৪১ ইউনিয়নের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একজন করে ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই প্রক্রিয়ায় আবেদনের জন্য ২,০০০ টাকা অফেরতযোগ্য ফি এবং ১০,০০০ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে। বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিলার হওয়ার জন্য মোট ১,২৬৬ জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম ধাপে আট শতাধিক আবেদনকারী বাদ পড়েছেন, তবে বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন। আবেদনকারীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে আগেই তালিকা তৈরি করে রাখা হয়েছিল এবং অর্থের বিনিময়ে তালিকা প্রণয়নের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
জেলা পর্যায়ের ১২ সদস্যের কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য কর্মকর্তা, বিসিআইসি বাফার গুদামের ইনচার্জ এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন। কমিটির প্রতিনিধি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল জানান, নির্ধারিত সময়ে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনটি করে আবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। সদস্য এনামুল হক সুমন জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে বাছাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
নিয়োগের অগ্রগতি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের কাছেও স্পষ্ট তথ্য নেই। বগুড়া সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা জানিয়েছেন এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার জানান, আবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তবে বিস্তারিত তথ্য নেই। জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও কৃষি (বীজ-সার) উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ নিশ্চিত করেছেন যে ১১ উপজেলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তালিকা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ; অনেকেই নিয়োগের সুপারিশ পেতে মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনে একটি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন পড়ে ১৬টি। এছাড়া বগুড়া সদরে ১১টির বিপরীতে ৭৪টি, শাজাহানপুরে ৯টির বিপরীতে ১১৪, শেরপুরে ১১টির বিপরীতে ১১৮, ধুনটে ১৩টির বিপরীতে ১৬৪, গাবতলীতে ১৯টির বিপরীতে ১৬২, সারিয়াকান্দিতে ২১টির বিপরীতে ১৬৩, সোনাতলায় আটটির বিপরীতে ৮১, শিবগঞ্জের ১৬টির বিপরীতে ৪৯, মোকামতলায় (নবগঠিত) ১৮টির বিপরীতে ৩৭, কাহালুতে ১০টির বিপরীতে ১০০, দুপচাঁচিয়ায় আটটির বিপরীতে ৭২, আদমদীঘিতে সাতটির বিপরীতে ৬২, নন্দিগ্রামে ছয়টির বিপরীতে ৫৪টি আবেদন জমা পড়েছে।




