প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, আঞ্চলিক সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নীতির কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৯শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে গিয়েছিলেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৪ জন বাংলাদেশি। চলতি বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৩-এ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কর্মী গমন কমেছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২০১ জন।

সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবেও কর্মী যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে দেশটিতে গিয়েছিলেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩ জন। চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ জন, যা ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ কম। ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন বাংলাদেশি বিদেশে যান, যার মধ্যে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জনই সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২১শে অক্টোবর পর্যন্ত বিএমইটি থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৮ জন। বর্তমানে হুতিদের হামলার কারণে দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট বন্ধ থাকায় প্রবাসীরা বিকল্প পথে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে তাদের অতিরিক্ত বিমান ভাড়া ও যাতায়াত খরচ গুনতে হচ্ছে। জেদ্দা থেকে দেশে ফেরা প্রবাসী সুবল দাসের ভাষ্যমতে, একদিনের ব্যবধানে টিকিটের দাম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার রিয়াল থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ রিয়ালে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রিয়াদ থেকে দেশে ফেরা ফরিদপুরের আতিয়ার মণ্ডল জানান, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে জেদ্দা থেকে নতুন টিকিট কেটে বাসে মক্কা হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে ছুটিতে দেশে আসা অন্তত ২০ হাজার প্রবাসী কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

রেমিট্যান্স প্রবাহেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৩ শতাংশ বেশি। আগস্টে এসেছিল ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১লা জুলাই থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৮ হাজার ৫৯১ মিলিয়ন ডলার, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৭ হাজার ৫৮৬ মিলিয়ন ডলার।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০৩টি দেশে কর্মী পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে বিদেশে যাওয়া ১ কোটি ১০ লাখের বেশি কর্মীর প্রায় ৭৯ শতাংশ গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে এবং ৯৪ শতাংশের গন্তব্য ছিল ১০টি দেশ। অন্যদিকে, ৯৮টি দেশে দেড় দশকে ১০০ জন করেও কর্মী পাঠানো যায়নি। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে কর্মী যাওয়ার সুযোগ বন্ধ বা সীমিত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় ২০২৪ সালের জুনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে শ্রমবাজার বন্ধ হয়। ওমানেও ২০২৪ সাল থেকে কর্মী যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ। আমিরাতে ২০২৩ সালে প্রায় এক লাখ কর্মী গেলেও ২০২৫ সালে গেছেন মাত্র ১৩ হাজার ৭৫০ জন। এছাড়া দেশটিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভে অংশ নেয়ার দায়ে ৫৭ বাংলাদেশির কারাদণ্ডের পর দেশটি বাংলাদেশিদের জন্য সাময়িকভাবে ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা জটিলতায় প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি অবৈধ হয়ে পড়েছেন।

নতুন গন্তব্যের সন্ধানে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কর্মীরা। বিএমইটি’র হিসাবে, ২০২৫ সালে কম্বোডিয়ায় যাওয়ার জন্য ১২ হাজার ২৬৩ জন এবং রাশিয়ায় ৪ হাজার ৭২৭ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান, চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন ও কার্যকর অভিবাসন কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। সরকার মালয়েশিয়ায় নতুন করে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিলেও স্বচ্ছতা ও দ্রুততার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া জাপানের সঙ্গে আগামী বছরের ১লা এপ্রিল থেকে কর্মী নিয়োগের চুক্তি থাকলেও বিস্তারিত সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি। গত ১৩ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদির বৈঠকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে শ্রমবাজারের নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, আঞ্চলিক সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নীতির কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৯শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে গিয়েছিলেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৪ জন বাংলাদেশি। চলতি বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৩-এ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কর্মী গমন কমেছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২০১ জন।

সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবেও কর্মী যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে দেশটিতে গিয়েছিলেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩ জন। চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ জন, যা ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ কম। ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন বাংলাদেশি বিদেশে যান, যার মধ্যে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জনই সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২১শে অক্টোবর পর্যন্ত বিএমইটি থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৮ জন। বর্তমানে হুতিদের হামলার কারণে দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট বন্ধ থাকায় প্রবাসীরা বিকল্প পথে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে তাদের অতিরিক্ত বিমান ভাড়া ও যাতায়াত খরচ গুনতে হচ্ছে। জেদ্দা থেকে দেশে ফেরা প্রবাসী সুবল দাসের ভাষ্যমতে, একদিনের ব্যবধানে টিকিটের দাম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার রিয়াল থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ রিয়ালে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রিয়াদ থেকে দেশে ফেরা ফরিদপুরের আতিয়ার মণ্ডল জানান, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে জেদ্দা থেকে নতুন টিকিট কেটে বাসে মক্কা হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে ছুটিতে দেশে আসা অন্তত ২০ হাজার প্রবাসী কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

রেমিট্যান্স প্রবাহেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৩ শতাংশ বেশি। আগস্টে এসেছিল ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১লা জুলাই থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৮ হাজার ৫৯১ মিলিয়ন ডলার, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৭ হাজার ৫৮৬ মিলিয়ন ডলার।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০৩টি দেশে কর্মী পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে বিদেশে যাওয়া ১ কোটি ১০ লাখের বেশি কর্মীর প্রায় ৭৯ শতাংশ গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে এবং ৯৪ শতাংশের গন্তব্য ছিল ১০টি দেশ। অন্যদিকে, ৯৮টি দেশে দেড় দশকে ১০০ জন করেও কর্মী পাঠানো যায়নি। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে কর্মী যাওয়ার সুযোগ বন্ধ বা সীমিত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় ২০২৪ সালের জুনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে শ্রমবাজার বন্ধ হয়। ওমানেও ২০২৪ সাল থেকে কর্মী যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ। আমিরাতে ২০২৩ সালে প্রায় এক লাখ কর্মী গেলেও ২০২৫ সালে গেছেন মাত্র ১৩ হাজার ৭৫০ জন। এছাড়া দেশটিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভে অংশ নেয়ার দায়ে ৫৭ বাংলাদেশির কারাদণ্ডের পর দেশটি বাংলাদেশিদের জন্য সাময়িকভাবে ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা জটিলতায় প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি অবৈধ হয়ে পড়েছেন।

নতুন গন্তব্যের সন্ধানে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কর্মীরা। বিএমইটি’র হিসাবে, ২০২৫ সালে কম্বোডিয়ায় যাওয়ার জন্য ১২ হাজার ২৬৩ জন এবং রাশিয়ায় ৪ হাজার ৭২৭ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান, চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন ও কার্যকর অভিবাসন কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। সরকার মালয়েশিয়ায় নতুন করে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিলেও স্বচ্ছতা ও দ্রুততার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া জাপানের সঙ্গে আগামী বছরের ১লা এপ্রিল থেকে কর্মী নিয়োগের চুক্তি থাকলেও বিস্তারিত সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি। গত ১৩ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদির বৈঠকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে শ্রমবাজারের নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।