ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ৪৩০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করে ২ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে ৪২৯ রান পেরিয়ে এই ঐতিহাসিক জয় অর্জন করে লঙ্কানরা। ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নজির। শ্রীলঙ্কার এই রূপকথার জয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে করা হ্যারি ব্রুকের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডও ফিকে হয়ে যায়।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বেশ চাপে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। দলীয় মাত্র ২৪ রানেই ২ উইকেট হারায় তারা। ১৮ রান করা কামিন্দু মেন্ডিসকে বোল্ড করেন জশ টাঙ। অন্যদিকে দলের অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস কোনো বল না খেলেই রান আউটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। শুরুর প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে তৃতীয় উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে খেলায় ফেরান আভিস্কা ফার্নান্দো ও পাভান রত্মানায়েক। এই দুই ব্যাটার মিলে ১৬৬ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন। তবে ফিফটি পেরিয়ে সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়ে ৩ রান দূরে থামতে হয় আভিস্কাকে। ওভারটনের বলে তাকেই ক্যাচ দিয়ে ৯৭ রানে তিনি আউট হলে ১৯০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় দল।
আভিস্কার বিদায়ের পরও শ্রীলঙ্কার রান সংগ্রহের তীব্র গতি কমেনি। চতুর্থ উইকেটে পাভান রত্মানায়েকের সঙ্গে ১৩৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন দাসুন শানাকা। এই জুটিতেই চমৎকার এক শতক উদযাপন করেন পাভান। দলের স্কোর ৩২৩ রানে পৌঁছালে স্যাম কারানের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি খেলেন ১৩০ রানের ইনিংস। এরপর শানাকাও সেঞ্চুরির দ্বারে গিয়ে আভিস্কার মতোই হতাশায় পড়েন। সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান দূরে থাকা অবস্থায় ৯৭ রানে শানাকা আউট হলে ৩৬৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। পরবর্তীতে ষষ্ঠ উইকেটে জানিথ লিয়ানেজকে সঙ্গ দিয়ে দলের স্কোর চারশো পার করান সাহান আরচ্চিগে। দলীয় ৪০৬ রানে ১৩ রান করে আউট হন আরচ্চিগে।
ম্যাচের শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য দরকার ছিল ৮ রান। জশ টাঙের করা শেষ ওভারের প্রথম বলে ১ রান নেন জানিথ লিয়ানেজ। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে যথাক্রমে ভেল্লালাগে ও ইশান মালিঙ্গাকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগানোর পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বপ্ন দেখান জশ টাঙ। জশ টাঙের হ্যাটট্রিক বলে আসিথা ফার্নান্দো থার্ড ম্যান অঞ্চলে বল পাঠিয়ে এক রান তুলে নেন। ফলে শেষ ২ বলে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন দাঁড়ায় ৬ রান। সেই কঠিন মুহূর্তেও বিচলিত না হয়ে চার মেরে বা সীমানা পার করিয়ে শ্রীলঙ্কাকে স্মরণীয় এক জয় এনে দেন জানিথ লিয়ানেজ।




