পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে এখনো প্রতিক্রিয়া দেবার সময় আসেনি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন,পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির গতিবিধির উপর নজর রাখতে হবে বাংলাদেশকে। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদীর শক্তির জয়ে বাংলাদেশের জন্য কিছু শংকা থাকবে।
শংকা মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশের রাজনীতিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড.শহিদুজ্জামান। একই মত প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাবেক রাষ্ট্রদূত ফযেজ আহমদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক আকমল হোসেন।
অপরদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের একাংশের মধ্যে যে উৎফুল্লতা দেখা যাচ্ছে,তাকে ক্রান্ত নিরাপত্তাবোধ (ফলস সেন্স অব সেফটি) বলে আখ্যায়িত করেছেন ওপার বাংলার রাজনৈতিক বিশ্লেষক চন্দন নন্দী।
তিনি বলেন, গত ১৮ –১৯ মাসে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর যখন আঘাত এসেছে,তখন ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার খুব একটা জোরালো প্রতিবাদ করেনি। এমনকি শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর ইস্যুতেও তাদের শক্ত কোন অবস্থান দেখা যায়নি। বিজেপির জয়েই হঠাৎ করে সব সুবিধা হয়ে যাবে,এমনটা ভাবার কোন যুক্তিক কারণ নেই।
তিনি আরো বলেন,সীমান্তের দুই পাড়ে দক্ষিণপন্তী শক্তির জয়ে ভূরাজনৈতিক দিক থেকে বিশ্লেষণে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।
চন্দন নন্দী উল্লেখ করেন,বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী যে ৬৮ টি আসন পেয়েছে তার মধ্যে ৫১ টি আসনই ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় অবস্হিত। এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলোতে বিজেপি বিপুল সংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে। এরফলে সীমান্তের দুই পাশেই দুটি ভিন্ন আর্দশের কট্টরপন্থী বা দক্ষিণপন্হী শক্তির আধিপত্য তৈরি হলো।
এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কোনো ধরণের নিরাপত্তা সংকটের জন্ম দেয় কিনা,তা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সংস্থাগুলোকে সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আবার বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোর দিয়ে মন্তব্য করেছেন,পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে প্রভাব পড়বে?
Post Views: 11



