উত্তরা প্রতিনিধিঃ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল ৬ এর প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম আঞ্চলিক নগর বাসীর” জনছেদার ” অফিসে পরিণত হয়েছে। অঞ্চলটির নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ এর বিরুদ্ধে অঞ্চল জুড়ে রোড কাটিং বানিজ্য ও প্রকল্পে অনিয়ম করে মোটাংকের উৎকোচ গ্রহণ সহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে।
অঞ্চলটির অন্তর্ভুক্ত তুরাগ থানার (সাবেক হরিরামপুর ইউনিয়ন) ৫২ নং ওয়ার্ড এর গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল পাবনার টেক। এলাকাটি মূলত দীর্ঘদিনের অবকাঠামোর বেহাল দশা ও অপরিকল্পিত নগরায়ন সংগত
কারণেই নগরবাসী নগর সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
সম্প্রতি অঞ্চলটিতে পাবনা ট্যাগ নামক একটি জনপথ বিনির্মাণ করতে সংশ্লিষ্ঠ সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দকৃত একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটিকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,পর্যায়ক্রমে এলাকাবাসী থেকে একরকম জোর করে ৫ হাজার, ৭ হাজার থেকে, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে রাস্তাটির উন্নয়ন খরচ বাবদ। দি ক্রাইমের অনুসন্ধানে এলাকাবাসীর কাছ থেকে এমন চাঁদা আদায়ের অবৈধ রশিদ পাওয়া যায় প্রায় ডজন খানেক। তথ্য মতে, পাবনার টেক এলাকায় ৫ শতাধিক নগরবাসীর নিকট থেকে কোটি টাকা চাঁদা বাজির বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেছে এ চক্রটি। “বাউনিয়া পশ্চিম পাড়া কল্যাণ সমিতি” নামক একটি অনিবন্ধিত ও সাইনবোর্ডধারী সমিতির নামে একটি প্রভাবশালী চক্র এহেন চাঁদাবাজি করছে বলে জানা যায় ।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এ বিষয়ে সুরাহা পেতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি গণস্বাক্ষর পত্র পেশ করবেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০/ ১০০০ ফিট ও ওয়ার্ক অর্ডার বর্ণিত মেজারমেন্ট অনুযায়ী সড়কটি শুরু( প্রকল্প মতে)বাউনিয়া বাজার হয়ে ইসিবি চত্তর রোড়ের সংলগ্ন পাবনা টেকের মাথা থেকে ১০০০ ফিট অঞ্চলের ভিতরে নির্মিত হবে। ২০২১ সালে পাসকৃত প্রকল্পটির সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত ওই অঞ্চলে ঠিকাদারের গড়িমসি ও অঞ্চল ৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কারসাজিতে এহেন প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম ঘটেছে।
অভিযোগ উঠেছে, “বাউনিয়া পশ্চিম পড়া কল্যাণ সমিতি” প্রকল্পটির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ৮ লক্ষ টাকা ঘুস দিয়ে উল্টো দিক থেকে কাজ শুরু করেছে। বৈশাখী টাওয়ার নামের একটি বহুতল ভবনের মালিককে সুবিধা দিতে তার কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার দাবিতে এহেন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। প্রকল্পটির ওয়ার্ক পারমিট অনুযায়ী কাজ করলে সড়কটির এক হাজার ফিট বৈশাখী টাওয়ার পর্যন্ত যায়না। বাউনিয়া পশ্চম পাড়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিনের চাঁদাবাজির অভিনব কায়দা হিসাবে কল্যাণ সমিতিকে ঢাল হিসাবে ব্যাবহার করছে।
তথ্য সূত্র জানা যায়, প্রকল্পটি প্রথমে ২০/৭০০ ফিট বরাদ্দ হয়, পরে বিগত আওয়ামী লীগের সময় স্থানীয় এমপি হাবিব এর অনুরোধ ক্রমে আরও ৩’শ ফিট বাড়িয়ে তা এক হাজার ফিট বরাদ্দ হয়। বাপনারটেক রোড সংলগ্ন প্রায় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশটি বাড়ি অবৈধ ভাবে সিটি কর্পোরেশন বা রাজউক এর কোন নোটিশ ছাড়াই ভেংগে দেয় ওই কল্যাণ সমিতি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় এলাকা বাসীর ক্ষোভ। অবৈধ কাজে বাধা দিলে এ নিয়ে নারীদেরকেও লাঞ্ছিত করণের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী দি ক্রাইমকে বলেন, একবার তো ভাই ন্যাংটা করছেন আবার কেন ফোন দিলেন।তবে অনিয়ম মানতে নারাজ ফরিদ উদ্দিন, তিনি বলেন, রাস্তার কাজের জন্য জমি কিনতে ও সুয়ারেজ লাইন এর জন্য টাকা উঠানো হচ্ছে। তবে অঞ্চল ৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন আর রশিদ এর সাথে তার অফিসে একাধিক বার গেলে তাকে না পেয়ে তার মুঠোফোনে বার বার ফোন করেও তার সাথে কথা বলা যায়নি।




