১৯৭০ এর দশকে সারাবিশ্বে খাদ্য সংকট শুরু হয়েছিল।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর সমগ্র বাংলাদেশ এক ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিলো না। আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের যে ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা করা হয়েছে তা হচ্ছে, ” প্রায় ৬ লক্ষ ঘর বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, ১৪ লক্ষ কৃষকের জমি চাষাবাদের কিছুই যেন আর অবশিষ্ট নেই , নৌ পথ , রেল পথ ও সড়ক পথ সব ধ্বংস করে দিয়েছে পাকিস্তানীরা, কলকারখানা থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় সব ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ার লাইন্স চট্রগ্রাম বন্দর নগরীর একাউন্টে মাত্র ১৬ ডলার রেখে যায়।” ১৯৭২ সালের ১৭ ই জানুয়ারী নিউইয়র্ক টাইমস এই রিপোর্ট করে।

স্বাধীনতার পরের দুই বছর খরায় আউশ ও আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৯৭৩ সালে আরব ও ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে সারাবিশ্বে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেয়।১৯৬০ সাল থেকেই কিউবায় আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল। ১৯৭৪ সালে কিউবায় পাটের বস্তা রপ্তানি করার অপরাধে আমেরিকা বাংলাদেশে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিলো। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় বিশ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকা সহ পাশ্চাত্য দেশগুলো শুরু করলো খাদ্য রাজনীতি।একদিকে ১০০ টাকার তেল হয়ে গেছে ২১৫ টাকা আর অন্যদিকে আমেরিকা সহ পাশ্চাত্য দেশগুলো খাদ্যর দাম বাড়িয়ে দেওয়ার খাদ্য ঘাটতি পুরণের জন্য শেখ মুজিব সরকারকে অতিরিক্ত গুনতে হয়েছে ২২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। একদিকে বিশ্ব বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার কৃত্রিম সংকট তৈরি করা এবং অন্যদিকে আমেরিকার মারণাস্ত্র খাদ্য রাজনীতি।

তৎকালীন ৭৭ শতাংশ দরিদ্র মানুষের জন্য ২২ লাখ টন খাদ্যশস্যে আমদানির চুক্তি করে আমেরিকার সাথে। আমেরিকার পিএল- ৪৮০ কার্যাসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশে খাদ্য শস্য পাঠানোর কথা থাকলেও খাদ্যবাহী সেই জাহাজ আমেরিকা মাঝ সমুদ্র থেকেই ফিরিয়ে নেয়।তার মধ্যে আবার একটানা দীর্ঘ বৃষ্টিতে বাংলাদেশে শুরু হয় ভয়াবহ বন্যা। আমেরিকার মানব সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্য না পেয়ে বাংলাদেশে মারা যায় প্রায় ২৭- ৩০ হাজার মানুষ।এমা রসচাইল্ড ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশের দূর্ভিক্ষের জন্য আমেরিকার ‘ফুড পলিটিক্স’ ও আমেরিকার সরকারকে সরাসরি দায়ী করে ‘ ফুড পলিটিক্স’ বইটি লিখেন ।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ত্রিশ লক্ষ শহীদের হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হেনরী ক্রিসিঞ্জার প্রশাসন, চীন ও পাকিস্তানি আইএসআই মিলে এই সুযোগে ৭৪ এর দূর্ভিক্ষের জন্য বঙ্গবন্ধুকে দায়ি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে থাকে। তৎকালীন হাইয়েস্ট সার্কুলেটেড পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টার শফিকুল কবির ফটোগ্রাফার আফতাব আহমেদকে দিয়ে হতদরিদ্র বাসন্তীকে ৫০ টাকা দিয়ে জাল পরিয়ে বাসন্তি নাটক মঞ্চস্থ করে দেশ ও দেশের বাইরে বঙ্গবন্ধুর সরকারকে বিপদে ফেলে দেয়। তৎকালীন সময় দরিদ্র বাসন্তীর কাছে ৫০ টাকা ছিল অনেক টাকা।এই সুযোগটাই তখন লুফে নিয়েছিলো সুযোগ সন্ধানী বাংলাদেশী ও পশ্চিমা মিডিয়া।

১৯৭৪ সালের বাসন্তী নাটকের প্রায় ৫০ বছর পর বিনিয়োগ সম্মেলনে দূর্ভিক্ষে নিহত ২৭ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার মানুষকে ১৫ লক্ষ সাজিয়ে হু হু করে কেঁদে উঠে এই প্রজন্মের আর্টিফিশিয়াল বাসন্তি নাটক মঞ্চস্থ করছেন একজন জোকার ইউসুফ জাই।সেই জোকারের সাথে এই প্রেজেন্টেশনে উপস্থিত ছিলেন জোকারের ক্লোন আশীক চৌধুরী।

লন্ডনের বিজনেস স্কুলে পড়েছেন বলে তাকে বাংলাদেশের ইলন মাস্ক সাজিয়ে মিডিয়া পাড়ায় সে কী হৈ চৈ! অথচ যোগ্যতার বিচারে সে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ” হু অ্যাক্সিলেন্স ” পুরস্কার পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে পিএইচডি করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ধারেকাছেও নেই। বঙ্গবন্ধুর নাতি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে আছেন, যা ওই বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান থেকে অনেক অনেক বেশি সম্মানের।সারাবিশ্ব সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে তাঁর কাজের সম্মানের জন্য যেভাবে চেনে তার হাজার ভাগের এক ভাগও এই আশীক চৌধুরীকে চেনে না। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সম্মানসুচক ডিগ্রি দিয়েছে এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০১৭ সালে প্রতিবন্ধীদের জন্য তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষে ২৭ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যকে ১৫ লক্ষ বলা ইউসুফজাই সেই আমেরিকা , পাকিস্তান ও চীনের ফুড পলিটিক্সের মত করে বাংলাদেশে মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী পরিচালিত ড্রামা পলিটিক্স শুরু করেছেন।একটা মানুষ ক্ষমতা ও গদির জন্য কতটা নীচে নামলে এমন অসুস্থ আচরণ করতে পারে তার হিসেবটা আপনারাই বের করুন। দিনশেষে মানুষের মনে তাই প্রশ্ন জেগেছে, নোবেল পাওয়ার কথা ছিল কে আর পেয়েছে কে?

পৃথিবীর ১২৬ মিলিয়ন লোকের সেবা দেওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি সংস্থা হচ্ছে ব্রাক।১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্রাক প্রতিষ্ঠা করেন।ব্রাকে বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষ কাজ করে।যার আয় হচ্ছে প্রায় ৭২০ মিলিয়ন ইউ এস ডলার।ব্রাকের মাইক্রো ক্রেডিট প্রকল্প গত চল্লিশ বছরে দুস্থ নারীদেরকে ১.৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা করেছে। শুধুমাত্র ব্রাকের প্রতিষ্ঠান আড়ংয়ের অধীনে কাজ করে ৬৫ হাজার মানুষ।ব্রাকের ২২ হাজার ৭০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৭ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।

শুধুমাত্র ২০০৭ সালের বন্যায় ব্রাক ৯ লক্ষ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে ও ৬০ হাজার মানুষের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করে। বাংলাদেশের ৮০ হাজার গ্রামের সবকটি গ্রাম ব্রাকের নিয়ন্ত্রণে। আমেরিকা ও আফ্রিকা সহ পৃথিবীর ১৩ টি দেশে ব্রাকের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশে ব্রাকের একটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আছে।ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার, স্পেনিশ অর্ডার অব সিভিল মেরিট, লিও তলস্তয় আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পদক, জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থার পুরস্কার, গেটস ফাউন্ডেশন পুরস্কার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুরস্কার, এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রের নোবেল খ্যাত ইয়াইদান পুরস্কার পেলেও তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি। ইউসুফ জাইয়ের মতো তিনি আমেরিকানদের পা না চেটে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে জনমত সংগ্রহ ও অর্থ কালেকশন করেছেন। পল কনেট ও অ্যালেন কনেটের সাথে ” অ্যাকশন বাংলাদেশ” নামে সংগঠন গড়ে তোলেন। অ্যাকশন বাংলাদেশ ও হেল্প বাংলাদেশের মাধ্যমে পথ নাটকের আয়োজন করেন লন্ডনের পথে পথে।

১৯৭১ সালের ৬ ই ডিসেম্বর তিনি ডেনমার্কের টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তৃতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানান। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে জার্মানি, ব্রিটেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন আইসল্যান্ড , ইসরায়েল ও ডেনমার্ক ১৯৭২ সালের ৪ ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তিনি তাঁর লন্ডনের ফ্ল্যাট বিক্রি করে আরাম আয়েশী জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং ব্রাক প্রতিষ্ঠা করেন।

মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য শেল অয়েল কোম্পানির হেড অব ফাইনান্সের চাকরি ছেড়ে লন্ডন গিয়ে অ্যাকশন বাংলাদেশ ও হেল্প বাংলাদেশ গঠনের করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আন্তর্জাতিক জনমত ও তহবিল সংগ্রহ করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন । আমেরিকার পা না চেটে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসার জন্য হয়তো স্যার ফজলে হাসান আবেদ নোবেল পুরস্কার না পেলেও আরেক চতুর ব্যক্তি ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের পা চেটে ঠিকই নোবেল বাগিয়ে নিয়ে আজ পুরো দেশটাকেই পরিকল্পিত স্ক্রিপ্ট লেখা নাটকের মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছে।

১৯৭০ এর দশকে সারাবিশ্বে খাদ্য সংকট শুরু হয়েছিল।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর সমগ্র বাংলাদেশ এক ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিলো না। আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের যে ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা করা হয়েছে তা হচ্ছে, ” প্রায় ৬ লক্ষ ঘর বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, ১৪ লক্ষ কৃষকের জমি চাষাবাদের কিছুই যেন আর অবশিষ্ট নেই , নৌ পথ , রেল পথ ও সড়ক পথ সব ধ্বংস করে দিয়েছে পাকিস্তানীরা, কলকারখানা থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় সব ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ার লাইন্স চট্রগ্রাম বন্দর নগরীর একাউন্টে মাত্র ১৬ ডলার রেখে যায়।” ১৯৭২ সালের ১৭ ই জানুয়ারী নিউইয়র্ক টাইমস এই রিপোর্ট করে।

স্বাধীনতার পরের দুই বছর খরায় আউশ ও আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৯৭৩ সালে আরব ও ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে সারাবিশ্বে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেয়।১৯৬০ সাল থেকেই কিউবায় আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল। ১৯৭৪ সালে কিউবায় পাটের বস্তা রপ্তানি করার অপরাধে আমেরিকা বাংলাদেশে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিলো। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় বিশ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকা সহ পাশ্চাত্য দেশগুলো শুরু করলো খাদ্য রাজনীতি।একদিকে ১০০ টাকার তেল হয়ে গেছে ২১৫ টাকা আর অন্যদিকে আমেরিকা সহ পাশ্চাত্য দেশগুলো খাদ্যর দাম বাড়িয়ে দেওয়ার খাদ্য ঘাটতি পুরণের জন্য শেখ মুজিব সরকারকে অতিরিক্ত গুনতে হয়েছে ২২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। একদিকে বিশ্ব বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার কৃত্রিম সংকট তৈরি করা এবং অন্যদিকে আমেরিকার মারণাস্ত্র খাদ্য রাজনীতি।

তৎকালীন ৭৭ শতাংশ দরিদ্র মানুষের জন্য ২২ লাখ টন খাদ্যশস্যে আমদানির চুক্তি করে আমেরিকার সাথে। আমেরিকার পিএল- ৪৮০ কার্যাসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশে খাদ্য শস্য পাঠানোর কথা থাকলেও খাদ্যবাহী সেই জাহাজ আমেরিকা মাঝ সমুদ্র থেকেই ফিরিয়ে নেয়।তার মধ্যে আবার একটানা দীর্ঘ বৃষ্টিতে বাংলাদেশে শুরু হয় ভয়াবহ বন্যা। আমেরিকার মানব সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্য না পেয়ে বাংলাদেশে মারা যায় প্রায় ২৭- ৩০ হাজার মানুষ।এমা রসচাইল্ড ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশের দূর্ভিক্ষের জন্য আমেরিকার ‘ফুড পলিটিক্স’ ও আমেরিকার সরকারকে সরাসরি দায়ী করে ‘ ফুড পলিটিক্স’ বইটি লিখেন ।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ত্রিশ লক্ষ শহীদের হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হেনরী ক্রিসিঞ্জার প্রশাসন, চীন ও পাকিস্তানি আইএসআই মিলে এই সুযোগে ৭৪ এর দূর্ভিক্ষের জন্য বঙ্গবন্ধুকে দায়ি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে থাকে। তৎকালীন হাইয়েস্ট সার্কুলেটেড পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টার শফিকুল কবির ফটোগ্রাফার আফতাব আহমেদকে দিয়ে হতদরিদ্র বাসন্তীকে ৫০ টাকা দিয়ে জাল পরিয়ে বাসন্তি নাটক মঞ্চস্থ করে দেশ ও দেশের বাইরে বঙ্গবন্ধুর সরকারকে বিপদে ফেলে দেয়। তৎকালীন সময় দরিদ্র বাসন্তীর কাছে ৫০ টাকা ছিল অনেক টাকা।এই সুযোগটাই তখন লুফে নিয়েছিলো সুযোগ সন্ধানী বাংলাদেশী ও পশ্চিমা মিডিয়া।

১৯৭৪ সালের বাসন্তী নাটকের প্রায় ৫০ বছর পর বিনিয়োগ সম্মেলনে দূর্ভিক্ষে নিহত ২৭ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার মানুষকে ১৫ লক্ষ সাজিয়ে হু হু করে কেঁদে উঠে এই প্রজন্মের আর্টিফিশিয়াল বাসন্তি নাটক মঞ্চস্থ করছেন একজন জোকার ইউসুফ জাই।সেই জোকারের সাথে এই প্রেজেন্টেশনে উপস্থিত ছিলেন জোকারের ক্লোন আশীক চৌধুরী।

লন্ডনের বিজনেস স্কুলে পড়েছেন বলে তাকে বাংলাদেশের ইলন মাস্ক সাজিয়ে মিডিয়া পাড়ায় সে কী হৈ চৈ! অথচ যোগ্যতার বিচারে সে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ” হু অ্যাক্সিলেন্স ” পুরস্কার পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে পিএইচডি করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ধারেকাছেও নেই। বঙ্গবন্ধুর নাতি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে আছেন, যা ওই বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান থেকে অনেক অনেক বেশি সম্মানের।সারাবিশ্ব সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে তাঁর কাজের সম্মানের জন্য যেভাবে চেনে তার হাজার ভাগের এক ভাগও এই আশীক চৌধুরীকে চেনে না। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সম্মানসুচক ডিগ্রি দিয়েছে এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০১৭ সালে প্রতিবন্ধীদের জন্য তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষে ২৭ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যকে ১৫ লক্ষ বলা ইউসুফজাই সেই আমেরিকা , পাকিস্তান ও চীনের ফুড পলিটিক্সের মত করে বাংলাদেশে মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী পরিচালিত ড্রামা পলিটিক্স শুরু করেছেন।একটা মানুষ ক্ষমতা ও গদির জন্য কতটা নীচে নামলে এমন অসুস্থ আচরণ করতে পারে তার হিসেবটা আপনারাই বের করুন। দিনশেষে মানুষের মনে তাই প্রশ্ন জেগেছে, নোবেল পাওয়ার কথা ছিল কে আর পেয়েছে কে?

পৃথিবীর ১২৬ মিলিয়ন লোকের সেবা দেওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি সংস্থা হচ্ছে ব্রাক।১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্রাক প্রতিষ্ঠা করেন।ব্রাকে বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষ কাজ করে।যার আয় হচ্ছে প্রায় ৭২০ মিলিয়ন ইউ এস ডলার।ব্রাকের মাইক্রো ক্রেডিট প্রকল্প গত চল্লিশ বছরে দুস্থ নারীদেরকে ১.৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা করেছে। শুধুমাত্র ব্রাকের প্রতিষ্ঠান আড়ংয়ের অধীনে কাজ করে ৬৫ হাজার মানুষ।ব্রাকের ২২ হাজার ৭০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৭ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।

শুধুমাত্র ২০০৭ সালের বন্যায় ব্রাক ৯ লক্ষ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে ও ৬০ হাজার মানুষের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করে। বাংলাদেশের ৮০ হাজার গ্রামের সবকটি গ্রাম ব্রাকের নিয়ন্ত্রণে। আমেরিকা ও আফ্রিকা সহ পৃথিবীর ১৩ টি দেশে ব্রাকের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশে ব্রাকের একটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আছে।ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার, স্পেনিশ অর্ডার অব সিভিল মেরিট, লিও তলস্তয় আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পদক, জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থার পুরস্কার, গেটস ফাউন্ডেশন পুরস্কার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুরস্কার, এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রের নোবেল খ্যাত ইয়াইদান পুরস্কার পেলেও তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি। ইউসুফ জাইয়ের মতো তিনি আমেরিকানদের পা না চেটে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে জনমত সংগ্রহ ও অর্থ কালেকশন করেছেন। পল কনেট ও অ্যালেন কনেটের সাথে ” অ্যাকশন বাংলাদেশ” নামে সংগঠন গড়ে তোলেন। অ্যাকশন বাংলাদেশ ও হেল্প বাংলাদেশের মাধ্যমে পথ নাটকের আয়োজন করেন লন্ডনের পথে পথে।

১৯৭১ সালের ৬ ই ডিসেম্বর তিনি ডেনমার্কের টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তৃতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানান। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে জার্মানি, ব্রিটেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন আইসল্যান্ড , ইসরায়েল ও ডেনমার্ক ১৯৭২ সালের ৪ ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তিনি তাঁর লন্ডনের ফ্ল্যাট বিক্রি করে আরাম আয়েশী জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং ব্রাক প্রতিষ্ঠা করেন।

মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য শেল অয়েল কোম্পানির হেড অব ফাইনান্সের চাকরি ছেড়ে লন্ডন গিয়ে অ্যাকশন বাংলাদেশ ও হেল্প বাংলাদেশ গঠনের করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আন্তর্জাতিক জনমত ও তহবিল সংগ্রহ করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন । আমেরিকার পা না চেটে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসার জন্য হয়তো স্যার ফজলে হাসান আবেদ নোবেল পুরস্কার না পেলেও আরেক চতুর ব্যক্তি ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের পা চেটে ঠিকই নোবেল বাগিয়ে নিয়ে আজ পুরো দেশটাকেই পরিকল্পিত স্ক্রিপ্ট লেখা নাটকের মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছে।