দি ক্রাইম ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করেছে ভারতীয় সাময়িকী ‘অর্গানাইজার’। পত্রিকাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার একটি আন্তর্জাতিক নীল-নকশা ভারত ও রাশিয়ার যৌথ গোয়েন্দা তৎপরতায় নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই ষড়যন্ত্রের সাথে বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের যোগসূত্র নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদনের অন্যতম চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস কর্মকর্তা টেরেন্স আরভেল জ্যাকসনের মরদেহ উদ্ধার। দাপ্তরিকভাবে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে আসা কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ‘অর্গানাইজার’ বলছে ভিন্ন কথা। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, রুশ সংস্থা এসভিআর এবং ভারতের ‘র’ এর যৌথ অভিযানে জ্যাকসনকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়। কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি গোপন অপারেশনের মূল হোতা ছিলেন।
যেদিন ঢাকায় জ্যাকসনের মরদেহ পাওয়া যায়, সেদিন চীনের তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে কোনো প্রটোকল ছাড়াই ৪৫ মিনিটের এক একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই বৈঠকেই পুতিন মোদির ওপর হতে যাওয়া প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত রিপোর্ট তুলে দেন। ২ সেপ্টেম্বর ভারত ফিরে একটি সম্মেলনে মোদির করা উক্তি আপনারা কি হাততালি দিচ্ছেন কারণ আমি চীন গিয়েছিলাম, নাকি কারণ আমি ফিরে এসেছি? এখন সেই ষড়যন্ত্রের সত্যতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘অর্গানাইজার’-এর এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ওপর এক বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। ড. ইউনূসকে সেই নীল-নকশার ‘সফল বাস্তবায়নকারী’ এবং আমেরিকার স্বার্থরক্ষাকারী হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। বাংলাদেশের মাটিকে ভারতের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতার কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের আড়ালে বিদেশি প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের আফগানিস্তানের কায়দায় একটি স্বাধীনচেতা ও অসাম্প্রদায়িক সরকারকে সরিয়ে ‘পুতুল সরকার’ বসানোর এই প্রক্রিয়া বাংলার সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি বাংলার মানুষের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে পশ্চিমা প্রভুদের পায়ে বিকিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
বিস্ফোরক এই তথ্যগুলো সামনে আসার পর সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের মাটিকে কি তবে বিদেশি শক্তির দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে? ভারতের পক্ষ থেকে যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস না করার কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান নীতিনির্ধারকরা বিদেশি ইশারায় দেশ চালাচ্ছেন কি না তা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ দানা বাঁধছে।
ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে বেইমানদের ঠাঁই হয় এই প্রাচীন প্রবাদ স্মরণ করিয়ে দিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে, যারা বিদেশি শক্তির হাত ধরে ক্ষমতায় বসে দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, বাংলার মাটি তাদের কখনো ক্ষমা করবে না। ‘অর্গানাইজার’-এর প্রতিটি ছত্র এখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সেই ‘কালো শকুনদের’ মুখোশ উন্মোচন করে দিচ্ছে।সুত্রঃ বিডি ডাইজেস্ট




