নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক জব্বারের বলি খেলায় হেট্রিক চ্যাম্পিয়ন! এক সময় দিদার বলী ৫ বার পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ৷ খেলার নিয়ম অনুযায়ী গতবারের চ্যাম্পিয়ন সরাসরি ফাইনাল খেলে ৷ অর্থাৎ খরতাপে যখন অন্যান্য বলীরা লড়াই করে তখন পূর্বের চ্যাম্পিয়নরা রিল্যাক্সে থাকেন ৷ এ নিয়মের পরিবর্তন আনা দরকার। ১১৭ বছর আগে যে নিয়মে খেলা পরিচালনা করা হতো এখনো সে নিয়ম বলবৎ রয়েছে। এই বারে ও সেই একই বলী চ্যাম্পিয়ন হয়েছে!
দেখা যায়, যিনি আগের বারের চ্যাম্পিয়নের সাথে ফাইনালে অংশ নেন তিনি ফাইনাল খেলার আগে একাধিক জনের সাথে লড়াই করে জিতে আসেন৷ ফলে এখানে একটি অসম প্রতিযোগীতা দেখা যায় ৷ একজন তীব্র গরমে একাধিক জনকে হারিয়ে শরীরের শক্তি অনেকটা ক্ষয় করে ফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়নের সাথে লড়তে নামে৷ আর গতবারের চ্যাম্পিয়ন পূর্ণ শক্তি নিয়ে ফাইনাল খেলে৷ এই কারণে ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়নের একটি প্রবণতা দেখা যায়৷ মাঝে মধ্যে কিছুটা ব্যক্তিক্রম হলেও এই খেলার যে নিয়ম তাতে ফাইনাল খেলাটি হয় শতভাগ অসম লড়াই ৷
চট্টগ্রামের বলীখেলা সার্বজনীন বলা হলেও এটি এখনো এক পরিবার কেন্দ্রীক একটি আয়োজন ৷ মেলা ও খেলার পর সারা বছর এই পরিবারের কোন খোঁজ থাকেনা ৷ তাই বলীদের খোঁজও কেউ রাখেনা ৷ আজ অব্দি কোন অভাব গ্রস্থ সাবেক বলীকে সাহায্য ও সহযোগীতা করেছে এমন কোন নজিরও নেই এই পরিবারের ৷ এই বলীরা সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থে নিজেদের প্রস্তুত করে খেলায় অংশ নেয় ৷ নাম মাত্র পুরষ্কার তাদের হাতে তুলে দেয়ার পর মেলা কমিটি তাদের হালহকিকত পর্যন্ত খোঁজ রাখে না ৷
অথচ স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রচুর টাকা গোপন চুক্তিতে আদায় করে আবদুল জব্বারের পরিবার ৷ এই ঐতিহ্যবাহী মেলার জন্য আশপাশের এলাকাবাসিসহ সারা শহরবাসি অনেক ভোগান্তি পোহালেও শতভাগ লাভ হয় আবদুল জব্বার পরিবারের ৷
এই খেলা ও মেলার বয়স ১১৭ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু এখনো রয়ে গেছে একক পরিবারের কর্তৃত্ব ৷ এখন সময় এসেছে মেলার আয়োজন জেলা প্রশাসন কিংবা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা। এই মেলার স্পন্সর থেকে আয়ের অর্থ ট্রাস্টে জমা করলে রুগ্ন, অসুস্থ, সাহায্য প্রত্যাশী বলীদের সাহায্য করতে পারবে সংশ্লিষ্ঠরা। একই সাথে খেলার দুই মাস আগে বলী খেলায় অংশগ্রহণকারীদের সুদক্ষ খেলোয়ার দিয়ে প্রশিক্ষন ও দিতে পারে।




