নগর প্রতিবেদক: মেধাবী জাতি গঠনে পুষ্টির বিকল্প নেই। কোন ধরণের বৈষম্য নয়, শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণদেরও পুষ্টির প্রয়োজন। কিশোর-কিশোরীসহ পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীর চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের (২৩-২৯ এপ্রিল) এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ’। আলোচনা সভার পূর্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল)সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় পুষ্টি নীতিতে প্রবীণ পুষ্টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকারী হাসপাতালগুলোতে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের পাশাপাশি প্রবীণ ব্যক্তিদেরকে অগ্রিাধিকার ভিত্তিতে পরিষেবা প্রদান করতে হবে।

সভায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। পিতা-মাতা ঈশ্বর সমতুল্য। তাদেরকে সম্মান করল ঈশ্বর সন্তুষ্ট হবে। পিতা-মাতা বৃদ্ধ হলে তাদের প্রতি কোন ধরণের অবহেলা না করে যত্নশীল ও সহনশীল হওয়া প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাদের সাথে সময় দিয়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে। খাবার ও চিকিৎসার অভাবে যাতে কোন প্রবীণ ব্যক্তি মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ে সে বিষয়টি দেখভাল করতে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদেরকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

May be an image of text

ডা. সেখ ফজলে রাব্বি আরও বলেন, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নানা ধরণের পরিবর্তন আসে এবং কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া শুরু হয়। মস্তিস্কের কোষের সংখ্যা কমতে থাকে, সেই সাথে দেখা দেয় বার্ধক্যজনিত নানান জটিল রোগ-ব্যাধি। এ কারণে বৃদ্ধ বয়সে সঠিক মাত্রায় খাদ্য গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরী। প্রবীণ বয়সে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভাস প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের মূল বিষয় উপস্থাপন করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আবু সৈয়দ মোঃ ইমতিয়াজ হোসাইন।

রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের পরিচালক ইনসিটু উপপরিচালক ডা. কমরুল আযাদ, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেন, ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস.এম নুরুল করিম ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

আইসিডিডিআরবি, বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের প্রতিনিধি, নার্সিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট এনজিও সমূহের প্রতিনিধিগণ র‌্যালি ও আলোচনা সভায় অংশ নেন।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, ক্রমবর্ধমান এই জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘প্রবীণ পুষ্টি নির্দেশিকা’ প্রণয়ন ও পিতা-মাতার রক্ষণাবেক্ষণ আইন,২০১৩ বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রবীণ বিকাশের জন্য প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট এর একটি খসড়াও চুড়ান্ত করা হয়েছে। একইসাথে প্রবীণদের জন্য বীমা প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনাও করেছে বর্তমান সরকার। ১৯৯৮ সাল থেকে সরকার বৃদ্ধ নিবাস কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। ১৯৯৭-১৯৯৮ সাল থেকে সরকার বয়স্ব ভাতা চালু করেছে এবং এর মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৮৪ লক্ষ প্রবীণ ব্যক্তি মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা পেয়ে থাকেন।

২০১৫-২০১৬ সালে শান্তি নিবাস স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি বিভাগের বিভাগীয় অফিসে শান্তি নিবাস বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয় ও খাবার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে ৮টি শান্তি নিবাস রয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিবছর ১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস উদযাপন করা হয়।

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার পুষ্টির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। সঠিক পরিমাণ ও সঠিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য খেতে না পারায় অপুষ্টির মূল কারণ। আমরা পুষ্টিহীন কাউকে দেখতে চাই না। খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথাও ভাবতে হবে। নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা না গেলে ক্যান্সারসহ জঠিল রোগীর সংখ্য বাড়বে। সুস্থ থাকতে হলে প্রত্যেককে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি ও মনো-সামাজিক বিকাশের দিকে নজর দিতে হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কের সার্বিক গঠন নিশ্চিত করা যাবে।

নগর প্রতিবেদক: মেধাবী জাতি গঠনে পুষ্টির বিকল্প নেই। কোন ধরণের বৈষম্য নয়, শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণদেরও পুষ্টির প্রয়োজন। কিশোর-কিশোরীসহ পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীর চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের (২৩-২৯ এপ্রিল) এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ’। আলোচনা সভার পূর্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল)সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় পুষ্টি নীতিতে প্রবীণ পুষ্টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকারী হাসপাতালগুলোতে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের পাশাপাশি প্রবীণ ব্যক্তিদেরকে অগ্রিাধিকার ভিত্তিতে পরিষেবা প্রদান করতে হবে।

সভায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। পিতা-মাতা ঈশ্বর সমতুল্য। তাদেরকে সম্মান করল ঈশ্বর সন্তুষ্ট হবে। পিতা-মাতা বৃদ্ধ হলে তাদের প্রতি কোন ধরণের অবহেলা না করে যত্নশীল ও সহনশীল হওয়া প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাদের সাথে সময় দিয়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে। খাবার ও চিকিৎসার অভাবে যাতে কোন প্রবীণ ব্যক্তি মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ে সে বিষয়টি দেখভাল করতে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদেরকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

May be an image of text

ডা. সেখ ফজলে রাব্বি আরও বলেন, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নানা ধরণের পরিবর্তন আসে এবং কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া শুরু হয়। মস্তিস্কের কোষের সংখ্যা কমতে থাকে, সেই সাথে দেখা দেয় বার্ধক্যজনিত নানান জটিল রোগ-ব্যাধি। এ কারণে বৃদ্ধ বয়সে সঠিক মাত্রায় খাদ্য গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরী। প্রবীণ বয়সে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভাস প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের মূল বিষয় উপস্থাপন করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আবু সৈয়দ মোঃ ইমতিয়াজ হোসাইন।

রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের পরিচালক ইনসিটু উপপরিচালক ডা. কমরুল আযাদ, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেন, ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস.এম নুরুল করিম ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

আইসিডিডিআরবি, বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের প্রতিনিধি, নার্সিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট এনজিও সমূহের প্রতিনিধিগণ র‌্যালি ও আলোচনা সভায় অংশ নেন।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, ক্রমবর্ধমান এই জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘প্রবীণ পুষ্টি নির্দেশিকা’ প্রণয়ন ও পিতা-মাতার রক্ষণাবেক্ষণ আইন,২০১৩ বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রবীণ বিকাশের জন্য প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট এর একটি খসড়াও চুড়ান্ত করা হয়েছে। একইসাথে প্রবীণদের জন্য বীমা প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনাও করেছে বর্তমান সরকার। ১৯৯৮ সাল থেকে সরকার বৃদ্ধ নিবাস কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। ১৯৯৭-১৯৯৮ সাল থেকে সরকার বয়স্ব ভাতা চালু করেছে এবং এর মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৮৪ লক্ষ প্রবীণ ব্যক্তি মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা পেয়ে থাকেন।

২০১৫-২০১৬ সালে শান্তি নিবাস স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি বিভাগের বিভাগীয় অফিসে শান্তি নিবাস বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয় ও খাবার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে ৮টি শান্তি নিবাস রয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিবছর ১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস উদযাপন করা হয়।

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার পুষ্টির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। সঠিক পরিমাণ ও সঠিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য খেতে না পারায় অপুষ্টির মূল কারণ। আমরা পুষ্টিহীন কাউকে দেখতে চাই না। খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথাও ভাবতে হবে। নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা না গেলে ক্যান্সারসহ জঠিল রোগীর সংখ্য বাড়বে। সুস্থ থাকতে হলে প্রত্যেককে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি ও মনো-সামাজিক বিকাশের দিকে নজর দিতে হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কের সার্বিক গঠন নিশ্চিত করা যাবে।