বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” বাস্তবায়ন করার জন্য যে মেধা শক্তি ও গঠনমূলক পরিকল্পনা দরকার তা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক মেধা ও আমলাতান্ত্রিক সৎ ও সততার শক্তি। দক্ষ ও মেধাবী আমলাতান্ত্রিক কমিটমেন্টের শক্তি ছাড়া তারেক রহমানের দ্বারা আদর্শ ও সুষম বন্টনের রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করা কখনোই সম্ভব নয়। আর আমলাদেরকে তাদের মেধা ও মননের সঠিক বিন্যাস করিয়ে কাজ পেতে গেলে তাদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার প্রতি রাষ্ট্রের গুরুত্ব দেয়া দরকার বলেই আমলাদের বেতন কাঠামো অনেকাংশেই বেশি রাখা হয়।
শুধু বেতনভাতা কাঠামো বেশি করলে আমলাদের মেধা মননকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব নয় কেননা যথাযথ সময় তাদের পদোন্নতির বিষয়টিও রাষ্ট্রকে দেখতে হয়। যথাযথ সময়ে পদোন্নতি যাদের পাওয়ার কথা তাদের পদোন্নতি যদি আটকে রাখা হয় তাহলে তাদের থেকে মেধাবৃত্তিক ও দায়িত্বশীল কাজ আদায় করতে চাওয়া হয় তাহলে তা হবে হাত-পা বেঁধে সাতরে নদী পার হতে বলার মত।
বিসিএস ৮২ নিয়মিত ও স্পেশাল ব্যাচ এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রধান নেতৃত্বাধীন আমলা তথা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিসিএস ৬ষ্ঠ,৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ও ১১তম ব্যাচের অফিসারদেরকে চুক্তিভিত্তিক ও নিয়মিতভাবে সরকারে সচিব হিসেবে দায়িত্বরত রাখা হয়েছে। নিয়মিত চাকরিতে থাকা সচিব হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অফিসার ১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ ব্যাচের। ১৮ তম ব্যাচের দু’জন বিভাগীয় কমিশনারকে গ্রেড ওয়ান পদোন্নতি করিয়ে জনপ্রশাসনে প্রেষণে রাখা হয়েছে পি আর এল এর মুখোমুখি সময়ে। ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারগণ ১৮ তম ব্যাচের।
বুধবার ২২ এপ্রিলে খুলনা বরিশাল ও সিলেট বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে ২০তম ব্যাচের তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের বিভাগসমূহের দায়িত্বরত অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন ১১, ১৩, ১৫, ১৭, ১৮ ও ২০তম ব্যাচের অফিসারগণ। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে ২৫০ এর অধিক উপসচিব, ২০০ অধিক যুগ্ম সচিব ও ১৩০ অধিক অতিরিক্ত সচিব পদ ফাঁকা রয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ৩০তম ব্যাচের ৭৯ জনসহ ২৭, ২৮ ও ২৯তম ব্যাচের অফিসারদের ডিউ পদোন্নতিসহ ৩১তম ব্যাচের আড়াইশো’র অধিক অফিসারদেরকে পদোন্নতির তালিকায় আনলে ২৫০ এর অধিক উপসচিব পদোন্নতির খাত পূরণ হয়। ২০, ২১, ২২, ২৪ ও ২৫ তম ব্যাচের যুগ্ম সচিব পদোন্নতি বঞ্চিত অফিসারদের সংখ্যা ৪০০এর অধিক। তার মধ্যে ২৪ তম ব্যাচের ১৮০ জন উপসচিবকে প্রমোশন বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে। এছাড়াও ইন্টেরিম সরকারের আমলে যে সব আমলা পদোন্নতি পেয়েছে তার মধ্যে বেশীর ভাগ রয়েছে জামাত সমর্থিত। এরা এখনো প্রশাসনের বিভিন্নস্থরে ঘাপটি মেরে বসে সরকার উৎখাতের ইন্ধন দিচ্ছে। যেমন-গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম।
গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২০ তম ব্যাচের ১০০ জনকে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি দেবার পরে একই ব্যাচের ১৮৭ জনের পদোন্নতি বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। চার দলীয় জোট সরকারের শুরুর সময়ে ২১ তম ব্যাচের ২০০ জন অফিসারদের কর্ম জীবন শুরু হয়ে বর্তমানে তাদের মধ্যে ১৭৫ জন যুগ্ম সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। যাদের পদোন্নতি এক বছর পূর্বে দেয়ার বিধিগত দরকার থাকলেও ২০ তম ব্যাচকে দেড় বছর পরে প্রমোশন দেয়ার কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর ২১ তম ব্যাচের পদোন্নতি দেয়নি। বর্তমানে ২১ তম ব্যাচের ১৭৫ জন যুগ্ম সচিবের অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির জন্য এস এস বি চলছে।
বর্তমানে ১৩০ এর অধিক অতিরিক্ত সচিব পদ ফাঁকা রয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষ নাগাদ যার সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৯ তে। আর এই অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির দৌড়ে ২০ তম ব্যাচের ১৮৭ জন ও ২১ তম ব্যাচের ১৭৫ জন অপেক্ষারত আছেন কখন তাদেরকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হবে। ২০তম ব্যাচের পদোন্নতির সময়ে ইতিপূর্বের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ন্যূনতম ৩৪.৭% পদোন্নতি দেয়া হয়। সচরাচার অতিরিক্ত সচিব পদে ব্যাচ বাই ব্যাচ পদোন্নতি হিসেবে ৭০-৮০ ভাগ পর্যন্ত পদোন্নতির নিয়ম চালু রয়েছে। চালু থাকা নিয়মের ভিত্তিতে ২০তম ব্যাচের ১৮৭ জন যুগ্ম সচিব অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির জন্য রিভিউ আবেদন করেছেন।
অপরদিকে, ২১তম ব্যাচের ১৭৫ জন যুগ্ম সচিব হ’তে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতির জন্য জোর তৎপরতা চালু রেখেছেন। ২০তম ব্যাচের ১৮৭ ও ২১ তম ব্যাচের ১৭৫ সবমিলিয়ে ৩৬২ জন যুগ্মসচিব অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন। জুন টার্গেটে ১৮০ অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির সুযোগ সরকারের রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১০ বছর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ৩৬ জুলাই কপিরাইট নবম বিসিএস এডমিন ক্যাডার ও সাবেক সিনিয়র সচিব শামসুল আলম এর বিশেষ প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রবর্তিত হওয়া ইনসিটু পদোন্নতির ফর্মুলা বিএনপি সরকার কাজে লাগালে ২৫০ থেকে ৩০০ অধিক অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি দেবার সুযোগ সরকারের হতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও এসএসবি বোর্ড যে ভাবে পদোন্নতির বাছাই প্রক্রিয়া করতে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে তা হলো, যদি মন্ত্রণালয় ২০তম ব্যাচের রিভিউ পদোন্নতি আগে শেষ করে তাহলে যেভাবে বাছাই প্রক্রিয়া হতে পারে, আওয়ামী লীগ আমলে ডিসি হিসেবে কর্মরতদের সংখ্যা, বিভিন্ন মন্ত্রীর পিএস ও এপিএস এর সংখ্যা, এনএসআই এর বিশেষ প্রতিবেদনে প্রশ্নবিদ্ধ আমলাদের সংখ্যা ও মেধার বাইরে গিয়ে বিশেষ তদবিরে বিদেশে সুবিধাজনক পদায়ন গ্রহণকারী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। সে হিসেবে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতির জন্য সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১০০ থেকে ১২০।
গোপালগঞ্জের মেয়ে ও বঙ্গবন্ধুর স্তুতি গায়িকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দুর্নীতির দায়ে উঠিয়ে নেয়া চট্টগ্রামের সাবেক ডিসি ফরিদা খানমকে পুনরায় ঢাকার ডিসি করার মধ্য দিয়ে পদায়নের ক্ষেত্রে বিএনপির যে উদারতা তাতে ২০ তম ব্যাচের শতভাগ পদোন্নতিও সময়ের দাবি হতে পারে।
গত ২৭ জানুয়ারি তারিখে ১০০ জন ২০তম ব্যাচের অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে বিদেশে পোস্টিং নেয়া ড. নাদিয়া শারমিন ও অ স ম আশরাফুল ইসলাম এর পদোন্নতি না আটকানোর কারণে ২০ তম ব্যাচের পদোন্নতি বঞ্চিত ১৮৭ জনের মধ্যে থেকে যারা বিদেশে পোস্টিং ছিলেন তাদেরকেও প্রমোশন না দেবার মত তেমন কোনো কারণ থাকতে পারে না বলেও সূত্র জানিয়েছে।
একই নিয়মে ২১ তম ব্যাচের ১৭৫ জনের মধ্য থেকে আওয়ামী লীগ আমলে ডিসি হিসেবে কর্মরতদের সংখ্যা, বিভিন্ন মন্ত্রীর পিএস ও এপিএস এর সংখ্যা, মন্ত্রণালয়ে প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব পালনকারীর সংখ্যা, এনএসআই এর বিশেষ প্রতিবেদনে প্রশ্নবিদ্ধ আমলাদের সংখ্যা ও মেধা ভিত্তিক আবেদনের বাইরে গিয়ে বিশেষ তদবিরে বিদেশে সুবিধাজনক পদায়ন গ্রহণকারী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ২১তম ব্যাচের পদোন্নতিপ্রাপ্তদের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১১০ থেকে ১২০ জন। আবার এগুলোকে বিশেষ আমলে না নিয়েও সিংহভাগ পদোন্নতি দেয়া হতে পারে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২৪ তম ব্যাচের প্রথমে ১৩৯ জন ও পরবর্তীতে বিশেষ পদ্ধতিতে আরো তিনজন যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হবার পর ১৮০ জন উপসচিব যুগ্ম সচিব পদের জন্য অপেক্ষারত হিসেবে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও এস এস বি বোর্ডের নিকট রিভিউ পদোন্নতির জন্য ধরনা দিয়ে ফিরছেন। বর্তমানে ২০০ জন যুগ্ম সচিব পদ ফাঁকা এবং জুন পর্যন্ত যা ২৫০ এ গিয়ে দাঁড়াবে। এই ফাঁকা পদে পদোন্নতির জন্য মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ চাইলে রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৪ তম ব্যাচের ১৮০ জনকে বাছাই এর মধ্যে রেখে অথবা বাছাই শিথিল করে পদোন্নতি দিতে পারে।
আওয়ামী লীগ আমলে ডিসিদের সংখ্যা, মন্ত্রীর পিএস ও এপিএস, মন্ত্রণালয়ে প্রভাবশালী পদ, এনএসআই এর বিশেষ প্রতিবেদনে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিদেশে পদায়ন গ্রহণকারী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। সে হিসেবে ২৪ তম ব্যাচের ১৮০ জন যুগ্মসচিব পদোন্নতির দৌড়ে সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১২০ থেকে ১৪০। যদি রিভিউ না করে ২৫ তম ব্যাচের সাথে যুগ্ম সচিব পদোন্নতি হয় তাহলে মোট পদোন্নতি প্রত্যাশীর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৮০+ ২৫০=৪৩০। দুই ব্যাচের অফিসারদের বাছাই পূর্বক ইনসিটু পদোন্নতি দিলে পদোন্নতি উপযোগীদের সংখ্যা হতে পারে ৩২০-৩৫০। ২৫ তম ব্যাচের পদোন্নতি প্রত্যাশীদের সংখ্যা ২৫০।
আওয়ামী আমলে ডিসি, মন্ত্রির পিএস-এপিএস বিদেশে পোস্টিং, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ও এন এস আই এর বিশেষ বাছাই বাদ দিলে ২৫তম ব্যাচের পদোন্নতির উপযোগী অফিসারদের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৭০ থেকে ১৯০। ৩০ তম ব্যাচের ৭৯ জন উপ সচিব পদোন্নতির রিভিউ আবেদন যদি সরকার গ্রহণ করে তাহলে তাদের মধ্যে বাছাইপূর্বক ৫০ অধিক উপসচিব পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হতে পারেন বলে সূত্র জানাচ্ছে।
আবার ৩১ তম ব্যাচের ২০০ অধিক সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতির এসএসবি বিচারে আওয়ামী লীগ আমলের মন্ত্রীর পিএস এপিএস, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদোন্নতি পদায়ন ও এনএসআইয়ের বিশেষ বাছাইয়ের বিচারে পদোন্নতি প্রত্যাশী অফিসারের সংখ্যা ১৮০ থেকে ২০০ জন হতে পারে।
অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদোন্নতিতে জনাব তারেক রহমানের সরকার গঠনমূলক ও মেধা বিচারে বা বঞ্চিত অফিসারদেরকে তাদের যোগ্যতা ভিত্তিক পদোন্নতি দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আশীন রাখবেন এমনটি পদোন্নতি বঞ্চিত অফিসারদের প্রত্যাশা।



