বশির আহমেদ, বান্দরবান: আলীকদম নয়াপাড়া ইউনিয়নের দুটি প্রকল্পের ইউপি মহিলা সদস্যকে সভাপতি দেখিয়ে নিজেই প্রকল্পের কাজ করে সে সব কাজের বিলও উত্তোলন করে ফেলেছেন এই দূর্নীতিবাজ পিআইও। কমিশন বানিজ্য, প্রকল্পের বিল আটকে রাখাসহ তার বিরুদ্ধে ছিল পাহাড় সমান অভিযোগ। এখানে শেষ নয় এর আগেও সুনামগঞ্জে দিরায় উপজেলাতে একই পদে থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগে ত্রাণ অধিদপ্তরে তাকে বদলী করা হয়। সেখানেও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের পর শাস্তিমূলক বদলী হিসেবে তাকে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বদলী করে দেন ত্রাণ অধিদপ্তর। এখানে এসেও সেই দুর্নীতির কার্যক্রম চলমান রেখেছেন তিনি।
জানা গেছে, প্রতিটি প্রকল্পের জন প্রতিনিধিদের নিকট থেকে অফিসের নানা খরচ দেখিয়ে ১৫ শতাংশ কমিশন নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কমিশন না দিলে কাজের বিল আটকিয়ে নানা হয়রানি করা হয়। কমিশন ছাড়াও চলতি অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো টিআর প্রকল্পে নিজের ইচ্ছে মতো কাউকে সভাপতি বানিয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করে ফেলেছেন নিজেই। আর সেই প্রকল্পের ভুক্তভোগী ৭.৮.৯ ওয়ার্ডের ইউপি নারী সদস্য। পড়ালেখা ও শিক্ষিত না হওয়াতেই নারী সদস্যটিকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে এমন লুটপাটের কাজ চালাচ্ছে পি আইও।
জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, কাবিখা, কাবিটা, টিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিটি কাজের কমিশন হিসেবে ১৫ শতাংশ গ্রহন করে থাকেন। এর আগেও প্রায় ২৫ শতাংশ হিসেবে কমিশন নিতেন পিআইও। শুধু তাই নয়,বিভিন্ন প্রকল্পে জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিলেও প্রকল্পের কাজে নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘কমিশন’ না দিলে ফাইলের গতি বদলে যায় আশ্চর্যজনকভাবে। এভাবে প্রতিটি প্রকল্পের ১৫ শতাংশ কমিশন নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পে অন্যকে ভুয়া সভাপতি দেখিয়ে নিজেই কাজের বাস্তবায়ন করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আলীকদমের নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামোর টিআর ১ম পর্যায়ে প্রকল্পের মেরিনচর পাড়া সোনে স্কুলের রাস্তা মেরামত। সেখানে প্রকল্পের ওই ইউপি নারী সদস্য সারথী রানী ত্রিপুরাকে সভাপতি দেখানো হলেও মুল প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে পিআইও নিজেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। আর সেখানে মুঠোফোন নাম্বার দেয়া থাকলেও মহিলা সদস্যের মোবাইল নাম্বার না দিয়ে ভুল নাম্বার দেয়া হয়েছে। একই চিত্র বুজিরমুখ পাড়া যাওয়ার রাস্তায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণেও। দুটি প্রকল্পের একই মহিলা ইউপি সদস্যকে ব্যবহার করে এই দুটি প্রকল্পের নিজেই ঠিকাদার হয়ে বাস্তবায়ন করেছেন পিআইও। এই দুটি প্রকল্পের বরাদ্ধ ছিল পাঁচ লাখ টাকা। সেই দুটি প্রকল্পের কাজের বরাদ্ধ ইউপি নারী সদস্যের মাধ্যমে বিল তুলে আত্মসাৎ করেছেন পি আইও।
কুরুকপাতা ও নয়াপাড়ার দুই ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাংপু ম্রো ও কফিল উদ্দিন বলেন, প্রতিটি কাজে প্রায় ১৫ পার্সেন্ট কমিশন নিয়ে থাকে। কমিশন না দিলে কোন কাজ কিংবা বিল দিচ্ছে না। এর আগেও ২৫ পার্সেন্ট কমিশন নিতেন। এখন কমিয়ে দিয়ে ১৫ শতাংশ কমিশন নেন। তবে সে সব কমিশন বিষয়ে ইউএনও জানেন না বলে জনপ্রতিনিধিরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে।
বান্দরবানে ঠিকাদার শামীম হোসেন দি ক্রাইমকে জানান, উপজেলায় পিআইও থেকে একটি প্যাকেজে দুটি ব্রীজ বরাদ্দ পেয়েছিলাম। দুটি কাজের বরাদ্দই ছিল প্রায় ১কোটি ৭০ লাখ টাকা। একটি ব্রিজের নানা খরচ দেখিয়ে দশ লাখ করে দুটি ব্রিজে বিশ লাখ টাকা পিআইও আদায় করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার জনৈক পিআইও বলেন, এসব নিউজের তিনি তোয়াক্কা করে না। এর আগে বহুবার তার নামে অনিয়ম,দুর্নীতি অভিযোগ ছিল। শাস্তিস্বরূপ হিসেবে এখানে বদলী হয়ে এসেছে। যতই লিখুক তার কিছু করতে পারবে না বলে ঘাড় টেরা করে থাকেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি মহিলা সদস্য সারথী রানী ত্রিপুরা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেরিনচর পাড়া সনের স্কুলের সামনে যে রাস্তা সেই প্রকল্পের সভাপতি আমাকে বানিয়ে পিআইও নিজেই কাজ করেছে। কাজ শেষে করে সব টাকা ওনাকে দিয়ে ফেলেছি। আমার প্রকল্পের কাজেও ১৩ শতাংশ নাম করে ৪৯ হাজার টাকা কেটে ফেলেছে পি আইও। আমি অশিক্ষিত,বুঝিনা ও জানিও না।
অভিযোগের বিষয়ে আলীকদম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, আপনারা যাই পারেন লিখেন, তাতেই আমার যা কিছু আসে না। আমার নামে কত লিখেছে’ সে লেখার কারণে আজ বান্দরবানে আসছি।
এবিষয়ে আলীকদম নির্বাহী অফিসার মঞ্জুর আলম জানান, পিআইও কমিশন বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই, আর জানিও না। জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়ে আমাকে কোন অভিযোগ করেনি। ঠিকাদার ও কমিশন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।




