বরগুনা প্রতিনিধি: ইউক্রেনে রকেট হামলায় নিহত ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আরিফ সর্বশেষ বাড়িতে এসেছিলেন মাস ছয়েক আগে। তবে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার। সবশেষে গত বৃহস্পতিবার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, আটকে থাকা জাহাজ ছাড়া পেলে শিগগিরিই বাড়ি ফিরবেন তিনি।
ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকে থাকা বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজে (এমভি বাংলার সমৃদ্ধি) রকেট হামলা হয়। এ হামলায় মেরিন প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান আরিফ নিহত হন। আরিফ বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। চার ভাই বোনের মধ্যে হাদিসুর রহমান আরিফ মেঝো।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের নিহত হওয়ার খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন আরিফের মা-বাবা। বাড়িতে এখন শুধুই শোকের মাতম। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা খবরটা জানতে পারেন। সকাল থেকেই তাদের বাড়িতে মানুষ ভিড় করতে শুরু করে।
বেতাগী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান জানান, আরিফ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে পড়াশোনা করেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ওই জাহাজে কর্মরত ছিলেন।
আরিফের ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্স জানান, গোলার আঘাত হানার সময় বড় ভাই বাইরে এসে মুঠোফোনে আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু বিকট শব্দের কারণে কিছুই শুনতে পাইনি।
আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাড়িতে এসে ছেলের ঘরের কাজ ধরার কথা ছিল, ছিল বিয়ের কথাও। এখন সব কিছুই শেষ। আমি সন্তানের লাশ দেখতে চাই। মা আমেনা বেগম বাকরুদ্ধ। কথা বলতে গিয়ে তিনি বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।
বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে পৌঁছায়। ওই দিন দেশটিতে রাশিয়ার হামলা শুরু হলে বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে জাহাজে আটকা পড়েন ক্যাপ্টেন জি এম নুর-ই- আলম, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুকসহ ২৯ বাংলাদেশি নাবিক।




