ছাত্রদের কোটা আন্দোলনে দেশের জঙ্গীবাদিরা মিলেমিশে একাকার হয়ে রাস্ট্রীয় সম্পদ ও স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। “নাগরীক শক্তি” নামের তথাকথিত একটি রাজনৈতিক দলকে এদেশে প্রতিষ্ঠা করার জন্য মার্কিন সম্রাজ্যবাদ তাদের স্বার্থ কৌশলে হাতিয়ে নেয়ার জন্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্তর্বতীকালীন সরকারের মাধ্যমে নিঃচিহ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকবে। এই চেষ্টার মূলোৎপাটন করতে না পারলে আগামী ৪/৫ বছরের মধ্যে নাগরীক শক্তির শিকড় গঁজিয়ে যাবে। তখন তারা দেশের একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসাবে বিবেচিত হয়ে আগামী নির্বাচনে ৩শ আসনে প্রার্থী দিয়ে দেশ শোষণ করবে।
তাদের ইন্ধনে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সারা দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এটি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। দু’শতাধীক ছাত্রের প্রাণ গেছে, পুলিশের প্রাণ গেছে, দিনমজুরের প্রাণ গেছে, আহত হয়ে জীবনের তরে পঙ্গু হয়ে গেছে অনেকের। এই সুযোগটা গ্রহণ করেছে বিএনপি-জামাতের কিছু অসৎ নেতা ও কর্মী। তারা লুটতরাজে মগ্ন, সৎ উদ্দেশ্যধারীরা দেশ পুনগঠনে মগ্ন।
এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সারাদেশে বিভিন্ন ঘরবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটতরাজে মেতে উঠেছে একশ্রেনীর লুটতরাজকারী। তারা যেমন লুটতরাজ করছে হিন্দুদের বাড়িঘর তেমনি বাদ যাচ্ছে না মুসলিমদের বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।
গত কয়েকদিন খবর পাচ্ছি নির্ঘুম রাত কাটছে সারা দেশের মানুষ। লুটতরাজের ভয়ে পাড়ায় পাড়ায় পাহারা দিচ্ছে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। এতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন আছে আবার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও আছে।
এর মধ্যে গতকাল দেখেছি হিন্দু সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে এই অবিচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছে তারা সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছে ভয়হীন জীবনের সরকারের প্রতিশ্রুতি। আজও জানতে পারছি বিভিন্ন জেলায়ও একই কর্মসূচী দিয়েছে একাত্রিত হবে দাবী জানাবে তাদের আমি সাধুবাদ জানাই। অপরদিকে একটি ভিডিও দেখলাম লালমনির হাট জেলার সীমান্ত এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দেশত্যাগের ঢল। ঐ পার থেকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী তাদের বাধা দিচ্ছে।
ভারতীয় সীমান্ত পার হতে গিয়ে নদীতে ডুবে কয়েকজন প্রাণও হারিয়েছে। কতটুকু সত্য তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জানা যাবে। এই পলায়নপর হিন্দু জাতিকে বলার কি আছে শুধু বলবো পালাতে গিয়ে যদি মারা যাবি তা হলে লড়াই করে মারা যা ! এই দেশের ভুমিপুত্র হয়ে যদি ভারতে পালাতে যাস তোর প্রতিবেশী মুসলিম সম্প্রদায় যে নির্যাতিত হলো তার যে ঘরবাড়ি লুটতরাজ হলো সে প্রতিবেশী মুসলিম সম্প্রদায়কে রেখে যে পালিয়ে যাছ একটু ভেবেছ মুসলিম পরিবারটি কোথায় যাবে!?
ভারতের উচিত সীমান্ত কঠিন করা কোন ভাবে যেন কোন হিন্দু দেশছেড়ে পালাতে না পারে তা হলে এরা মিলিত হবে প্রতিবাদে। প্রতিবাদের স্রোত নদী থেকে সমুদ্রের রূপ নিবে তখনই সাম্প্রদায়িকতার অপশক্তি চিরতরে নির্মূল হবে। শান্তি ফিরে আসবে উপমহাদেশে।
চাই হিন্দু- মুসলিমের সহবস্থান। সুন্দর বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র যা ‘৭১ এ চেয়েছি আর বর্তমান সাধারণ ছাত্ররাও তা চাচ্ছে।




