দি ক্রাইম ডেস্ক: কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে ৭৫টি মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে অন্তত ৪ হাজার জনকে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ১ হাজার জন। এদের বেশিরভাগই জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী।

আসামি ধরতে ‘সাদা পোশাকে’ পুলিশের অভিযান চলছে বলে বিএনপির অভিযোগ। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন তার। তবে পুলিশ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে, সাম্প্রতিক ঘটনায় মসজিদে-মসজিদে চিঠি দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ৬৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৯৫১ জন এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো অনেক আসামি রয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জে ৯৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ১২ থানার মামলার প্রতিটিতে ২৫-৩০ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। মামলাগুলোতে অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যাও প্রায় ৩ হাজার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীসহ ২০ জনের নামে একটি মামলা করেছে ছাত্রলীগ। নগরীতে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৬৩ জন। আর জেলা পুলিশের ৮ থানায় করা মামলায় ১৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানে ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার অভিযোগে রাজশাহীতে দায়ের হওয়া ১৭টি মামলার মধ্যে ৭টি মেট্রোপলিটন থানায়। আর ১০টি মামলা রাজশাহী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৩০০ জন। আসামি হয়েছেন ১ হাজারের বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশে আমরা নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছি। অনেক আসামিকে পুলিশ চিনতে পারে না। জামায়াত-বিএনপির অনেক কর্মীর বাসা চিনতে অসুবিধা হয় পুলিশের। সেজন্য আমরা জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী ও তাদের বাসা চিনিয়ে দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করছি। কমিটি থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় তারা এসব কাজে পুলিশকে সঙ্গ দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের ওই নেতারা।

এ বিষয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার আসমিরা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জামিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা রক্ষার্থে আমরা সতর্ক রয়েছি।

এদিকে, শুক্রবার মসজিদে মসজিদে চিঠি দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার সাক্ষরিত ওই চিঠিতে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধন না করার বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য মসজিদের ইমামদের অনুরোধ জানানো হয়।

একইসঙ্গে ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘গায়েবানা জানাজা শরিয়ত সম্মত নয়। অতএব, গায়েবানা জানাজা না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

অন্যদিকে, আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। শুক্রবার বাদ জুম্মা নগরীর মসজিদগুলোতে এ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়। এছাড়া রাজশাহীতে জনগণের জানমাল রক্ষা করতে এবং অরাজকতা রুখতে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী নগরীর সব মসজিদে মোনাজাত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষার্থে যাতে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পেরে সেজন্য আমরা মাঠে ছিলাম। আমাদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে ছিলেন। আমরা মাঠে আছি, সেভাবে আমরা এ পর্যন্ত রাজশাহীকে নিরাপদ রেখেছি। আমরা এতে সফলও হয়েছি।

দি ক্রাইম ডেস্ক: কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে ৭৫টি মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে অন্তত ৪ হাজার জনকে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ১ হাজার জন। এদের বেশিরভাগই জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী।

আসামি ধরতে ‘সাদা পোশাকে’ পুলিশের অভিযান চলছে বলে বিএনপির অভিযোগ। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন তার। তবে পুলিশ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে, সাম্প্রতিক ঘটনায় মসজিদে-মসজিদে চিঠি দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ৬৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৯৫১ জন এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো অনেক আসামি রয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জে ৯৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ১২ থানার মামলার প্রতিটিতে ২৫-৩০ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। মামলাগুলোতে অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যাও প্রায় ৩ হাজার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীসহ ২০ জনের নামে একটি মামলা করেছে ছাত্রলীগ। নগরীতে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৬৩ জন। আর জেলা পুলিশের ৮ থানায় করা মামলায় ১৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানে ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার অভিযোগে রাজশাহীতে দায়ের হওয়া ১৭টি মামলার মধ্যে ৭টি মেট্রোপলিটন থানায়। আর ১০টি মামলা রাজশাহী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৩০০ জন। আসামি হয়েছেন ১ হাজারের বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশে আমরা নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছি। অনেক আসামিকে পুলিশ চিনতে পারে না। জামায়াত-বিএনপির অনেক কর্মীর বাসা চিনতে অসুবিধা হয় পুলিশের। সেজন্য আমরা জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী ও তাদের বাসা চিনিয়ে দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করছি। কমিটি থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় তারা এসব কাজে পুলিশকে সঙ্গ দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের ওই নেতারা।

এ বিষয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার আসমিরা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জামিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা রক্ষার্থে আমরা সতর্ক রয়েছি।

এদিকে, শুক্রবার মসজিদে মসজিদে চিঠি দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার সাক্ষরিত ওই চিঠিতে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধন না করার বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য মসজিদের ইমামদের অনুরোধ জানানো হয়।

একইসঙ্গে ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘গায়েবানা জানাজা শরিয়ত সম্মত নয়। অতএব, গায়েবানা জানাজা না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

অন্যদিকে, আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। শুক্রবার বাদ জুম্মা নগরীর মসজিদগুলোতে এ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়। এছাড়া রাজশাহীতে জনগণের জানমাল রক্ষা করতে এবং অরাজকতা রুখতে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী নগরীর সব মসজিদে মোনাজাত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষার্থে যাতে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পেরে সেজন্য আমরা মাঠে ছিলাম। আমাদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে ছিলেন। আমরা মাঠে আছি, সেভাবে আমরা এ পর্যন্ত রাজশাহীকে নিরাপদ রেখেছি। আমরা এতে সফলও হয়েছি।