আদালতে কোটা পুনর্বহালের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ থাকার পরও দেশ জুড়ে চলছে কোটা বিরোধী আন্দোলন। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে বিদেশি শক্তির ইন্ধন। মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকে ম্লান করতেই এই আন্দোলন শুরু।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কোটা পদ্ধতির পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারবে। কোটা পূরণ না হলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারবে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে আদালতের পূর্ববর্তী রায়কে বাতিল করে সরকারের হাতেই কোটা বিষয়ক সিদ্ধান্ত আরোপ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টি আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।
যখন কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একই সিদ্ধান্তের জন্য সরকার লড়াই করে আদালতে সে সময় কোটা বিরোধী আন্দোলন আরও গতি পায়। রাজধানী ছাড়িয়ে সারা দেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। মূলত বিদেশী একটি রাষ্ট্রের মদদপুষ্ট কিছু গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলের হাত ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন লাভ করে এক রাজনৈতিক ইস্যুতে। যেখান থেকে কোটার বদলে সরকার বিরোধী বক্তব্য ও মুক্তিযোদ্ধারে বিরুদ্ধে অপমানজনক কথা বলা শুরু হয়।
মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৮ জুলাই দেশ ছেড়ে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগের দিন থেকেই কোটা নিয়ে আন্দোলন অবরোধে রূপ নিতে থাকে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে যখন দুই দেশের মধ্যকার দুর্দান্ত সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে প্রায় ২১টি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করছেন, তখন দেশে কোটা সংস্কারের নামে সরকার ও মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ করে বার্তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই রাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের বিরোধীতা ও বিএনপি-জামায়াত সহ সমমনা দলগুলোর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় ভোট। এরপর থেকেই দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত করার জন্য ইন্ধন দিয়ে আসছে ওই বেনিয়া রাষ্ট্র ও তাদের এদেশের দোসরগণ। বুয়েটে চলা ছাত্র রাজনীতি বিষয়ক আন্দোলনও এর অংশ ছিলো।
সম্প্রতি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক যখন নতুন এক উচ্চতায় পৌছাচ্ছে, তখন এ বিষয়টিকে গুরুত্বহীন করে তুলতে নতুন করে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ইন্ধন যোগায় দেশের কথেক বেনিয়াদের দালাল মিডিয়া। কোটা আন্দোলনের পক্ষে টানা কলাম প্রকাশ এবং উস্কানিমূলক সব প্রতিবেদনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ওই রাষ্ট্রের আরেক ঘনিষ্ট মিত্র ।
সর্বশেষ ১১ জুলাই আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে ছড়িয়ে দেয়া হয় গুজব। জানানো হয় কুমিল্লায় কোটা বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। যদিও বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর শুরু হলে এই আন্দোলনকারীদেরই একটি অংশ জানায়, বিষয়টি গুজব এবং কোন শিক্ষার্থী নিহত হবার ঘটনা ঘটেনি। দেখা যায় গুজবটি ছড়িয়েছেন ছাত্র শিবিরের বায়তুল মাল পদে থাকা এক সাবেক নেতা।
আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি থেকে। যেখানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে জনদুর্ভোগ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পুলিশের ওপর হামলা নিয়ে কোন বক্তব্য না থাকলেও এক তরফা ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের ওপর দোষ চাপানো হয়েছে। যেখানে ওই রাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য এক তরফাভাবে দোষ চাপানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর। যদিও এটি বেশ স্পষ্ট যে ওই রাষ্ট্রে পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যেই পেশি শক্তি প্রয়োগ করেছে, তার কোন নজির এখনও দেখা যায়নি বাংলাদেশে।
সর্বোপরি, চলতি বছরে বুয়েট ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দিয়ে সরকার বিরোধি আন্দোলনের এক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর এবার বেশ দূর থেকেই এই আন্দোলনের জন্য রশদ সরবরাহ করছে ওই রাষ্ট্র ও তার এদেশিয় বন্ধুরা। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উস্কানিমূলক বার্তার ফাঁদে পা দিচ্ছেন।
বিচার বিভাগে চলমান কোন কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই জানার পরও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোটা ইস্যুর সমাধান চাওয়ার মধ্যে কোন যৌক্তিকতা না থাকলেও রাজপথ দখল করে জনদুর্ভোগের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে। কোটা আন্দোলনে কারা মদদ ও অর্থ যোগান দিচ্ছে তাদের চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমুলক দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।




