অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কর্মীরা তাদের কাজের বিনিময়ে যে অঙ্কের বেতন-ভাতা নিজ দেশে নিয়ে যান তার পরিমাণ প্রবাসীদের দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহের তিনগুণের বেশি। এতে দেশে রিজার্ভ বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল, এই ২৪ বছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ গুণের বেশি। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা নেয়ার পরিমাণ, যা প্রায় সোয়া ৩৭ গুণ।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাতে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো ও রেমিট্যান্স আসার চিত্র তুলে ধরা হয়।
এতে দেখা যায়, শুধু ২০২৩ সালেই বিদেশি কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে বেতন-ভাতা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রায় নিয়েছেন ১৫ কোটি ডলার। ওই সময়ে ডলারের দাম অনুযায়ী ১৬৫০ কোটি টাকা।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ২০২৩ সালে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি কর্মীরা বেতন-ভাতা হিসেবে নিয়েছেন ১৭ কোটি ৮০ লাখ, ভুটান থেকে ৭ কোটি ৮০ লাখ, ভারত থেকে ১ হাজার ২৩৬ কোটি, নেপাল থেকে ৫ কোটি ২০ লাখ, পাকিস্তান থেকে ৩১ কোটি ৭০ লাখ এবং শ্রীলংকা থেকে ৪০ কোটি ১০ লাখ ডলার। ২০২২ সালে মালদ্বীপ থেকে নিয়েছেন ৫৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে ৩৭ দশমকি ২৬ গুণ। একই সময়ে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে ১১ দশমিক ২৬ গুণ। আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্সের তিনগুণের বেশি বেড়েছে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা নেয়ার প্রবণতা। বছরভিত্তিক হিসাবেও দেখা যাচ্ছে রেমিট্যান্সের চেয়ে বেশি বাড়ছে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা নেয়ার পরিমাণ। ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে দেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশি কর্মীদের দেশ থেকে বেতন-ভাতা নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ।




