নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলার হাটহাজারী খন্দকিয়া চিকনদন্ডী (কে সি) শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে এবার নকল ও জাল সনদে চাকুরি,শিক্ষকদের প্রতি অসদাচরণ, অর্থ আত্মসাৎ সহ নানান দুর্নীতি ও নিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান বরাবরের দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার এম এস সি (পদার্থবিদ্যা) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সনদ তৃতীয় শ্রেণি, তাছাড়া কম্পিউটার (আইসিটি) শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নট্রামস কর্তৃক কম্পিউটার অতিরিক্ত সনদ প্রদান করা আবশ্যক কিন্তু এই কলেজে আইসিটি শিক্ষক নিয়োগের সময় তৎকালীন কলেজ পরিচালনা পরিষদের কতিপয় সদস্য ও পরীক্ষককে অর্থের মাধ্যমে ম্যানেজ করে এম এস সি তৃতীয় শ্রেণীর সনদ প্রদান করতঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয় নট্রামস স্বীকৃত নয় এমন নকল ও জাল সার্টিফিকেট দিয়ে কলেজে ২০০৫ সালে কম্পিউটার (আইসিটি)পদে যোগদান করেন। ইতিপুর্বে তিনি চন্দনাইশ উপজেলার একটি কলেজের কর্মরত ছিলেন। আবেদনে অভিযুক্তকারীরা এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে তার সকল একাডেমিক সনদ যাচাই-বাছাই, তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে এনটিআরসির চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি , তদন্ত করে দেখা হবে, দোষী সাব্যস্ত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, তার বিরুদ্ধে অনুরূপ নানান দুর্নীতি, অনিয়মের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও মাউশি দপ্তরে।

অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাউশি কোন নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর কলেজের তৎকালীন স্বঘোষিত এডহক কমিটির মনগড়া সিদ্ধান্তে বিতর্কিত আব্দুর কুদ্দুস মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে । অদ্যবধি অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে বহল তবিয়তে রয়েছে এবং প্রতি মাসে অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা বেতন সহ টি এ, ডি এর নামে সুকৌশলে অবৈধভাবে কলেজ ফান্ড আত্মসাৎ করে যাচ্ছে।

জানা যায়, এ বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্ররোচনায় ইতিমধ্যে কলেজ শিক্ষকদের পি এফ, ইনগ্রিমেন্ট, বার্ষিক উৎসব ভাতা, বোনাস সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডিগ্রী শ্রেণীর শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কলেজে ডিগ্রির কার্যক্রম এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ শিক্ষক পরিষদের অসংখ্য সদস্য জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের এসব কার্যক্রম গভর্নিং বডির সভাপতি ও কিছু কতিপয় সদস্যের সহযোগিতায় এসব কাজ করে যাচ্ছে। কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে একজন নারী ঘটিত কেলেঙ্কারি, একজন নেশাগ্রস্ত, একজন পতিত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর মাস্তান প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। এসব বিতর্কিত সদস্যরা প্রতিনিয়ত কলেজে ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীকে বিব্রতবোধ করে তুলছে। শিক্ষকদের কোন অভিযোগ আসলে বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া এ কতিপয় সদস্যদের ডেকে এনে অধ্যক্ষের কক্ষে সম্মানিত শিক্ষকদের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। যা সম্মানিত শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের সম্মানহানি কর বলে শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কতিপয় সদস্যের এমন আচরণে কলেজ শিক্ষকরা আতঙ্কিত ও বিব্রত।

আরো জানা যায়, গেল বছর কলেজে এমন আচরণের প্রতিবাদ করা একজন সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষককে বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের কতিপয় বিতর্কিত সদস্য মিলে অধ্যক্ষ কক্ষে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করে গলা ধাক্কা দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেন শিক্ষকদের সামনে।

কলেজ শিক্ষক পরিষদের সদস্যদের অভিযোগে আরো জানা যায়, একজন এস্ট্রো জনিত রোগী এ শিক্ষককে শুধু শারীরিক নির্যাতন নয় মিথ্যা,বানোয়াট ও নিয়ম বহির্ভূত অজুহাত সাজিয়ে গভর্নিং বডির সভাপতির স্বাক্ষরে কোন কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা অভিহিতকরণ ছাড়া এ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। এ বিষয়ে কলেজ শিক্ষক পরিষদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরিতাপের বিষয় যে, এ শিক্ষকের সরকারি ও কলেজ প্রদত্ত সকল বেতন ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত, বেসরকারি শিক্ষক চাকরির বিধি-বিধান অনুযায়ী গভর্নিং বডির সভাপতি কর্তৃক কোন শিক্ষককে বরখাস্ত করার বিধান নেই, সাময়িক বরখাস্ত করার এখতিয়ার স্থায়ী অধ্যক্ষ কিংবা কলেজ পরিচালনা পরিষদের সম্পাদকই করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বাকশিসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আবু তাহের জানান, গভর্নিং বডির সভাপতি একজন শিক্ষককে বরখাস্ত করার এখতিয়ার নেই,যা করা হয়েছে এটা নিয়ম বহির্ভূত,অন্যায় ও আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে।

জানা যায়, বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রতিনিয়ত অসাদাচরণ ও অনিয়মের বিষয় নিয়ে দু’জন সম্মানিত সিনিয়র মহিলা শিক্ষক কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে হাতজোড় করে অভিযোগ করেন এবং বিতর্কিত এ ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানালেও গভর্নিং বডির সভাপতি কর্ণপাত করেননি এমন অভিযোগ শিক্ষক পরিষদের। কলেজ শিক্ষক পরিষদ কলেজের শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ পেরিয়ে আনতে অচিরেই বিতর্কিত পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন পরিচালনা পরিষদ গঠন করার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর( মাউসি) ঢাকার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

বিতর্কিত এ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ ও কম নয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, ২০২২- ২০২৩ শিক্ষা বর্ষে শিক্ষা বোর্ড ফেরত ২২৭ জন শিক্ষার্থীর ৪৪৫৬০ টাকা এবং ২০২৩-২০২৪ শিক্ষা বর্ষের ১৬৫ শিক্ষার্থীর আইসিটি অভ্যন্তরীণ ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন বাবদ প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ৫০০ টাকা করে ৮২৫০০ টাকা অবৈধ পন্থায় আত্মসাৎ করেছেন।

সম্প্রতি কে/সি/শ/জি/ডি/ক -২০২৫-৫ স্মারকে কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্তৃক কলেজের ০১-০৫ -২০২৫ থেকে ৩০-১০-২০২৫ ইং পর্যন্ত কলেজের সকল আয় ব্যয় হিসাব নিরীক্ষার জন্য অত্র কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল বারীকে আহবায়ক,ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ত্রিদিব রায় ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুরুল আলমকে সদস্য করে একটি অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

নিরীক্ষা কমিটির প্রদত্ত রিপোর্টে জানা যায়, ২০২৪ সালে অত্র কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ফেরত প্রাপ্য টাকা আত্মসাৎ ও অসংগতি রয়েছে, কলেজের জমি ভাড়া টাকা হিসেবের খাতায় যুক্ত নেই, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রশংসা ও সনদপত্র বাবদ গৃহীত ফি হিসেবে গড়মিল, কলেজের ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমে অভ্যন্তরীণ ক্রয় কমিটির মাধ্যমে হয়েছে কিনা তা সন্দেহজনক এবং কোন ভাউচার নাই। কলেজের আয় ব্যয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ভাউচার সমূহে নিরীক্ষা কমিটি কিংবা ঊর্ধ্বতন অন্য তৃতীয় পক্ষের কোন স্বাক্ষর নেই সহ নানা অনিয়ম অভ্যন্তরীণ নিরিক্ষা কমিটি রিপোর্টপ্রদান করেন । তার সমস্ত আয় -ব্যয় বিধিসম্মত নয় এবং নানান অনিয়ম, দুর্নীতি ও আত্মসাৎ এর বিষয় রয়েছে বলে অভিমতও প্রকাশ করেছেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা উপ-কমিটি ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলার হাটহাজারী খন্দকিয়া চিকনদন্ডী (কে সি) শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে এবার নকল ও জাল সনদে চাকুরি,শিক্ষকদের প্রতি অসদাচরণ, অর্থ আত্মসাৎ সহ নানান দুর্নীতি ও নিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান বরাবরের দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার এম এস সি (পদার্থবিদ্যা) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সনদ তৃতীয় শ্রেণি, তাছাড়া কম্পিউটার (আইসিটি) শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নট্রামস কর্তৃক কম্পিউটার অতিরিক্ত সনদ প্রদান করা আবশ্যক কিন্তু এই কলেজে আইসিটি শিক্ষক নিয়োগের সময় তৎকালীন কলেজ পরিচালনা পরিষদের কতিপয় সদস্য ও পরীক্ষককে অর্থের মাধ্যমে ম্যানেজ করে এম এস সি তৃতীয় শ্রেণীর সনদ প্রদান করতঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয় নট্রামস স্বীকৃত নয় এমন নকল ও জাল সার্টিফিকেট দিয়ে কলেজে ২০০৫ সালে কম্পিউটার (আইসিটি)পদে যোগদান করেন। ইতিপুর্বে তিনি চন্দনাইশ উপজেলার একটি কলেজের কর্মরত ছিলেন। আবেদনে অভিযুক্তকারীরা এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে তার সকল একাডেমিক সনদ যাচাই-বাছাই, তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে এনটিআরসির চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি , তদন্ত করে দেখা হবে, দোষী সাব্যস্ত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, তার বিরুদ্ধে অনুরূপ নানান দুর্নীতি, অনিয়মের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও মাউশি দপ্তরে।

অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাউশি কোন নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর কলেজের তৎকালীন স্বঘোষিত এডহক কমিটির মনগড়া সিদ্ধান্তে বিতর্কিত আব্দুর কুদ্দুস মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে । অদ্যবধি অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে বহল তবিয়তে রয়েছে এবং প্রতি মাসে অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা বেতন সহ টি এ, ডি এর নামে সুকৌশলে অবৈধভাবে কলেজ ফান্ড আত্মসাৎ করে যাচ্ছে।

জানা যায়, এ বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্ররোচনায় ইতিমধ্যে কলেজ শিক্ষকদের পি এফ, ইনগ্রিমেন্ট, বার্ষিক উৎসব ভাতা, বোনাস সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডিগ্রী শ্রেণীর শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কলেজে ডিগ্রির কার্যক্রম এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ শিক্ষক পরিষদের অসংখ্য সদস্য জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের এসব কার্যক্রম গভর্নিং বডির সভাপতি ও কিছু কতিপয় সদস্যের সহযোগিতায় এসব কাজ করে যাচ্ছে। কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে একজন নারী ঘটিত কেলেঙ্কারি, একজন নেশাগ্রস্ত, একজন পতিত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর মাস্তান প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। এসব বিতর্কিত সদস্যরা প্রতিনিয়ত কলেজে ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীকে বিব্রতবোধ করে তুলছে। শিক্ষকদের কোন অভিযোগ আসলে বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া এ কতিপয় সদস্যদের ডেকে এনে অধ্যক্ষের কক্ষে সম্মানিত শিক্ষকদের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। যা সম্মানিত শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের সম্মানহানি কর বলে শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কতিপয় সদস্যের এমন আচরণে কলেজ শিক্ষকরা আতঙ্কিত ও বিব্রত।

আরো জানা যায়, গেল বছর কলেজে এমন আচরণের প্রতিবাদ করা একজন সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষককে বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের কতিপয় বিতর্কিত সদস্য মিলে অধ্যক্ষ কক্ষে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করে গলা ধাক্কা দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেন শিক্ষকদের সামনে।

কলেজ শিক্ষক পরিষদের সদস্যদের অভিযোগে আরো জানা যায়, একজন এস্ট্রো জনিত রোগী এ শিক্ষককে শুধু শারীরিক নির্যাতন নয় মিথ্যা,বানোয়াট ও নিয়ম বহির্ভূত অজুহাত সাজিয়ে গভর্নিং বডির সভাপতির স্বাক্ষরে কোন কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা অভিহিতকরণ ছাড়া এ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। এ বিষয়ে কলেজ শিক্ষক পরিষদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরিতাপের বিষয় যে, এ শিক্ষকের সরকারি ও কলেজ প্রদত্ত সকল বেতন ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত, বেসরকারি শিক্ষক চাকরির বিধি-বিধান অনুযায়ী গভর্নিং বডির সভাপতি কর্তৃক কোন শিক্ষককে বরখাস্ত করার বিধান নেই, সাময়িক বরখাস্ত করার এখতিয়ার স্থায়ী অধ্যক্ষ কিংবা কলেজ পরিচালনা পরিষদের সম্পাদকই করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বাকশিসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আবু তাহের জানান, গভর্নিং বডির সভাপতি একজন শিক্ষককে বরখাস্ত করার এখতিয়ার নেই,যা করা হয়েছে এটা নিয়ম বহির্ভূত,অন্যায় ও আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে।

জানা যায়, বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রতিনিয়ত অসাদাচরণ ও অনিয়মের বিষয় নিয়ে দু’জন সম্মানিত সিনিয়র মহিলা শিক্ষক কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে হাতজোড় করে অভিযোগ করেন এবং বিতর্কিত এ ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানালেও গভর্নিং বডির সভাপতি কর্ণপাত করেননি এমন অভিযোগ শিক্ষক পরিষদের। কলেজ শিক্ষক পরিষদ কলেজের শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ পেরিয়ে আনতে অচিরেই বিতর্কিত পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন পরিচালনা পরিষদ গঠন করার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর( মাউসি) ঢাকার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

বিতর্কিত এ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ ও কম নয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, ২০২২- ২০২৩ শিক্ষা বর্ষে শিক্ষা বোর্ড ফেরত ২২৭ জন শিক্ষার্থীর ৪৪৫৬০ টাকা এবং ২০২৩-২০২৪ শিক্ষা বর্ষের ১৬৫ শিক্ষার্থীর আইসিটি অভ্যন্তরীণ ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন বাবদ প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ৫০০ টাকা করে ৮২৫০০ টাকা অবৈধ পন্থায় আত্মসাৎ করেছেন।

সম্প্রতি কে/সি/শ/জি/ডি/ক -২০২৫-৫ স্মারকে কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্তৃক কলেজের ০১-০৫ -২০২৫ থেকে ৩০-১০-২০২৫ ইং পর্যন্ত কলেজের সকল আয় ব্যয় হিসাব নিরীক্ষার জন্য অত্র কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল বারীকে আহবায়ক,ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ত্রিদিব রায় ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুরুল আলমকে সদস্য করে একটি অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

নিরীক্ষা কমিটির প্রদত্ত রিপোর্টে জানা যায়, ২০২৪ সালে অত্র কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ফেরত প্রাপ্য টাকা আত্মসাৎ ও অসংগতি রয়েছে, কলেজের জমি ভাড়া টাকা হিসেবের খাতায় যুক্ত নেই, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রশংসা ও সনদপত্র বাবদ গৃহীত ফি হিসেবে গড়মিল, কলেজের ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমে অভ্যন্তরীণ ক্রয় কমিটির মাধ্যমে হয়েছে কিনা তা সন্দেহজনক এবং কোন ভাউচার নাই। কলেজের আয় ব্যয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ভাউচার সমূহে নিরীক্ষা কমিটি কিংবা ঊর্ধ্বতন অন্য তৃতীয় পক্ষের কোন স্বাক্ষর নেই সহ নানা অনিয়ম অভ্যন্তরীণ নিরিক্ষা কমিটি রিপোর্টপ্রদান করেন । তার সমস্ত আয় -ব্যয় বিধিসম্মত নয় এবং নানান অনিয়ম, দুর্নীতি ও আত্মসাৎ এর বিষয় রয়েছে বলে অভিমতও প্রকাশ করেছেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা উপ-কমিটি ।