এস এম পিন্টু: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে ১০ সেট স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কারখানাগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। দিনে রাতে সমানতালে চলছে ঘষামাজার কাজ। ইতিমধ্যে অগ্রীম টিকিট বিক্রি শুরু করলেও পর্যাপ্ত পরিমান ইঞ্জিন ও লোকোমোটিভ রেডি করতে পারেনি মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট। তবে এটিকে তেমন সমস্যা হিসেবে দেখছেন না কর্তৃপক্ষ। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও কোচ সরবরাহ করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ ইঞ্জিন সংকটে ভুগছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। যেখানে প্রতিদিন ১২০টির মতো ইঞ্জিনের চাহিদা রয়েছে সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৭২টি। আর পশ্চিমাঞ্চলে ইঞ্জিনের সংকট না থাকলেও রয়েছে কোচের ঘাটতি। এরই মধ্যে ঈদ উপলক্ষে ১০ সেট স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। এই সংকটে ইঞ্জিনের জোগান দিতে নিয়মিত হিমশিম খাচ্ছে মেকানিক্যাল ডির্পাটমেন্ট। এই চাপ সামাল দিতে পূর্বাঞ্চলের জন্য কমপক্ষে ৯০টি ইঞ্জিন রানিং করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সংকটের ফলে সর্বোচ্চ ৮৫টা পর্যন্ত ইঞ্জিন মেরামত করে সচল রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কারখানা সংশ্লিষ্টরা।

এবিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (সিএমই) সাদেকুর রহমান বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ইঞ্জিন জোগানের চেষ্টা চলছে, এখন ৭২টি আছে তবে ১৬ তারিখের মধ্যে ৮৪/৮৫টা দেয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) মো. বেলাল সরকার বলেন, যন্ত্রাংশের প্রচুর চাহিদা রয়েছে, মালামাল কেনাকাটা শুরু হয়েছে, বিদেশি মালামালও আসা শুরু হয়েছে। সংকট কেটে যাবে আশা করছি। ঈদে ৯০টি ইঞ্জিনের চাহিদা রয়েছে তবে যে যন্ত্রাংশ আছে তা দিয়ে ৮৫টি দেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

সূত্রটি জানায়, ২০২৬ সালে সারাদেশের রেলের ২টি অঞ্চলে ১০টি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। স্পেশাল ট্রেনগুলো চলবে, চাঁদপুর স্পেশাল-১ ও ২: (চাঁদপুর-চট্টগ্রাম-চাঁদপুর), তিস্তা স্পেশাল- ৩ ও ৪: (ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ- ঢাকা), শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ও ৬: (ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার), শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ৭ ও ৮: (ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ) পার্বতীপুর স্পেশাল-৯ ও ১০: (জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর)।

ইতিমধ্যে এসব ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি করা শুরু হয়েছে।আগামী ১৬ মার্চ থেকে এসব ট্রেন চলাচলের কথা রয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারী রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয় হয়েছে। সভায় অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, ১৬ মার্চ থেকে ঈদের পূর্ব দিন পর্যন্ত সকল আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন প্রত্যাহার করা, ঈদের পরে যথারীতি সাপ্তাহিক অফ-ডে কার্যকর, রেক ব্যালান্সের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা পূরণের জন্য পাহাড়তলী ওয়ার্কসপ থেকে ৪৭ টি এমজি কোচ যাত্রীবাহী সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা মেটানোর জন্য মালবাহী ট্রেনের লোকোমোটিভ যাত্রীবাহী ট্রেনে ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এবিষয়ে পাহাড়তলী ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানার কর্ম ব্যবস্থাপক (নির্মাণ) রাজিব দেবনাথ জানান, আমাদের ১০৫টি কোচ মেরামতের টার্গেট দেয়া হয়েছে। গত ০৮ মার্চ পর্যন্ত ৯২ টা রিলিজ দেয়া হয়েছে।আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে আরো ১৮টা দেয়া যাবে। স্পেশাল ট্রেনে যুক্ত হওয়ার পর বাকীগুলো ট্রাফিকে যুক্ত হবে।

সভায় আরো বলা হয়েছে, নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিত করে যাত্রী সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা রক্ষার জন্য ডিভিশনাল ও জোনাল কন্ট্রোলে পৃথক পৃথক মনিটরিং সেল গঠন করে কর্মকর্তাদের ইমার্জেন্সি ডিউটি প্রদান, সময়ানুবর্তিতা রক্ষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জংশন স্টেশন এবং সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকগণের তদারকির মাধ্যমে ট্রেন অপারেশন পরিচালনা করা।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধকল্পে ও ট্রেন সিডিউল অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে রেলপথ পেট্রোলিং এর ব্যবস্থা, রেল ব্রীজসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ এবং ইঞ্জিনের নিবিড় পরিচর্যা ও পরীক্ষা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, দুর্ঘটনাস্থলে প্রেরণের লক্ষ্যে রিলিফ ট্রেনসমূহ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ঈদুল ফিতরের দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কতিপয় মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের পূর্বে ১৯ মার্চ রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কন্টেইনার ও জ্বালানী তেলবাহী ট্রেন ব্যতিত অন্যান্য সকল গুডস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

বিনা টিকিটের যাত্রী প্রতিরোধে, ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ সকল বড়-বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ এবং র‌্যাব এর সহযোগিতায় টিকিট বিহীন যাত্রী স্টেশনে প্রবেশের প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা থাকবে। একই সাথে নাশকতা প্রতিরোধঃ চলন্ত ট্রেনে, স্টেশনে বা রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধকল্পে আরএনবি, জিআরপি ও রেলওয়ে কর্মচারীদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

এ ছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহযোগীতায় নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমন করবে। টিকিট জালিয়াতি রোধে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজ চালু করার কথা রয়েছে। রেলওয়ের নিজস্ব ওয়েব সাইট এবং কাউন্টার ব্যতিত অন্য কোন মাধ্যম হতে টিকিট ক্রয় না করার জন্য যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, পূর্বাঞ্চলে কিছু ইঞ্জিন সংকট রয়েছে, তবে ঈদ যাত্রায় তার কোন প্রভাব পড়বে না। যথাসময়ে চাহিদা মোতাবেক ইঞ্জিন সরবরাহ করা যাবে বলে মনে করছি। আর নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিতে রেলভবনের সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়ন করা হবে।

এস এম পিন্টু: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে ১০ সেট স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কারখানাগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। দিনে রাতে সমানতালে চলছে ঘষামাজার কাজ। ইতিমধ্যে অগ্রীম টিকিট বিক্রি শুরু করলেও পর্যাপ্ত পরিমান ইঞ্জিন ও লোকোমোটিভ রেডি করতে পারেনি মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট। তবে এটিকে তেমন সমস্যা হিসেবে দেখছেন না কর্তৃপক্ষ। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও কোচ সরবরাহ করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ ইঞ্জিন সংকটে ভুগছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। যেখানে প্রতিদিন ১২০টির মতো ইঞ্জিনের চাহিদা রয়েছে সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৭২টি। আর পশ্চিমাঞ্চলে ইঞ্জিনের সংকট না থাকলেও রয়েছে কোচের ঘাটতি। এরই মধ্যে ঈদ উপলক্ষে ১০ সেট স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। এই সংকটে ইঞ্জিনের জোগান দিতে নিয়মিত হিমশিম খাচ্ছে মেকানিক্যাল ডির্পাটমেন্ট। এই চাপ সামাল দিতে পূর্বাঞ্চলের জন্য কমপক্ষে ৯০টি ইঞ্জিন রানিং করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সংকটের ফলে সর্বোচ্চ ৮৫টা পর্যন্ত ইঞ্জিন মেরামত করে সচল রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কারখানা সংশ্লিষ্টরা।

এবিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (সিএমই) সাদেকুর রহমান বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ইঞ্জিন জোগানের চেষ্টা চলছে, এখন ৭২টি আছে তবে ১৬ তারিখের মধ্যে ৮৪/৮৫টা দেয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) মো. বেলাল সরকার বলেন, যন্ত্রাংশের প্রচুর চাহিদা রয়েছে, মালামাল কেনাকাটা শুরু হয়েছে, বিদেশি মালামালও আসা শুরু হয়েছে। সংকট কেটে যাবে আশা করছি। ঈদে ৯০টি ইঞ্জিনের চাহিদা রয়েছে তবে যে যন্ত্রাংশ আছে তা দিয়ে ৮৫টি দেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

সূত্রটি জানায়, ২০২৬ সালে সারাদেশের রেলের ২টি অঞ্চলে ১০টি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। স্পেশাল ট্রেনগুলো চলবে, চাঁদপুর স্পেশাল-১ ও ২: (চাঁদপুর-চট্টগ্রাম-চাঁদপুর), তিস্তা স্পেশাল- ৩ ও ৪: (ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ- ঢাকা), শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ও ৬: (ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার), শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ৭ ও ৮: (ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ) পার্বতীপুর স্পেশাল-৯ ও ১০: (জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর)।

ইতিমধ্যে এসব ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি করা শুরু হয়েছে।আগামী ১৬ মার্চ থেকে এসব ট্রেন চলাচলের কথা রয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারী রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয় হয়েছে। সভায় অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, ১৬ মার্চ থেকে ঈদের পূর্ব দিন পর্যন্ত সকল আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন প্রত্যাহার করা, ঈদের পরে যথারীতি সাপ্তাহিক অফ-ডে কার্যকর, রেক ব্যালান্সের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা পূরণের জন্য পাহাড়তলী ওয়ার্কসপ থেকে ৪৭ টি এমজি কোচ যাত্রীবাহী সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা মেটানোর জন্য মালবাহী ট্রেনের লোকোমোটিভ যাত্রীবাহী ট্রেনে ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এবিষয়ে পাহাড়তলী ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানার কর্ম ব্যবস্থাপক (নির্মাণ) রাজিব দেবনাথ জানান, আমাদের ১০৫টি কোচ মেরামতের টার্গেট দেয়া হয়েছে। গত ০৮ মার্চ পর্যন্ত ৯২ টা রিলিজ দেয়া হয়েছে।আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে আরো ১৮টা দেয়া যাবে। স্পেশাল ট্রেনে যুক্ত হওয়ার পর বাকীগুলো ট্রাফিকে যুক্ত হবে।

সভায় আরো বলা হয়েছে, নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিত করে যাত্রী সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা রক্ষার জন্য ডিভিশনাল ও জোনাল কন্ট্রোলে পৃথক পৃথক মনিটরিং সেল গঠন করে কর্মকর্তাদের ইমার্জেন্সি ডিউটি প্রদান, সময়ানুবর্তিতা রক্ষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জংশন স্টেশন এবং সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকগণের তদারকির মাধ্যমে ট্রেন অপারেশন পরিচালনা করা।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধকল্পে ও ট্রেন সিডিউল অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে রেলপথ পেট্রোলিং এর ব্যবস্থা, রেল ব্রীজসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ এবং ইঞ্জিনের নিবিড় পরিচর্যা ও পরীক্ষা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, দুর্ঘটনাস্থলে প্রেরণের লক্ষ্যে রিলিফ ট্রেনসমূহ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ঈদুল ফিতরের দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কতিপয় মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের পূর্বে ১৯ মার্চ রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কন্টেইনার ও জ্বালানী তেলবাহী ট্রেন ব্যতিত অন্যান্য সকল গুডস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

বিনা টিকিটের যাত্রী প্রতিরোধে, ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ সকল বড়-বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ এবং র‌্যাব এর সহযোগিতায় টিকিট বিহীন যাত্রী স্টেশনে প্রবেশের প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা থাকবে। একই সাথে নাশকতা প্রতিরোধঃ চলন্ত ট্রেনে, স্টেশনে বা রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধকল্পে আরএনবি, জিআরপি ও রেলওয়ে কর্মচারীদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

এ ছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহযোগীতায় নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমন করবে। টিকিট জালিয়াতি রোধে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজ চালু করার কথা রয়েছে। রেলওয়ের নিজস্ব ওয়েব সাইট এবং কাউন্টার ব্যতিত অন্য কোন মাধ্যম হতে টিকিট ক্রয় না করার জন্য যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, পূর্বাঞ্চলে কিছু ইঞ্জিন সংকট রয়েছে, তবে ঈদ যাত্রায় তার কোন প্রভাব পড়বে না। যথাসময়ে চাহিদা মোতাবেক ইঞ্জিন সরবরাহ করা যাবে বলে মনে করছি। আর নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিতে রেলভবনের সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়ন করা হবে।