নিজস্ব প্রতিনিধি: ট্রেনে টিকিট চেকার এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে। যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জরিমানার নামে রশিদ বিহীন টাকা আদায় করার অভিযোগ এখন অহরহ। চাওয়া মাত্র টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মামলা অথবা থানায় সোপর্দের ভয় দেখানো হয়।
টিকিট চেকার এবং পুলিশ সদস্যদের অনৈতিক কর্মকান্ডে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে শতশত ট্রেন যাত্রী। টিকিট চেক করার ক্ষমতা পুলিশের না থাকলেও স্টেশনে যাত্রী নামলেই রেলওয়ে পুলিশরা (জিআরপি) টিকেট চেক করা শুরু করে দেয়। ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনগুলো থামলেই দেখা যায় ক্ষুধার্ত বাঘের মতো যাত্রীদের উপরে টিকেট চেক করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন রেলওয়ে পুলিশরা। টিকেট বিহীন যাত্রী পেলে তারা সাইডে নিয়ে গিয়ে ছিনতাইকারীদের মতো সর্বস্ব লুটে নেয়। তাদের ব্যবহার হিংস্র পশুর মত। কোনো যাত্রী তাদের ডাকে সারা না দিলে টানাহেঁচড়া শুরু করে দেয়। টিকেট ছাড়া যাত্রী পেলে তারা টিটি ডেকে বৈধভাবে জরিমানা করবেন নয়তো আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু সাইডে নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে টাকা আদায় করবে কেন?
এছাড়া আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে বিনা টিকিটের যাত্রীদের চেয়ে স্ট্যান্ডিং টিকেটের যাত্রীদের বেশি হেনস্থার শিকার হতে হয়। এটেনডেন্টরা যেন বিনা টিকিটের যাত্রী পেলেই বেশি খুশি। সেদিন চট্টগ্রামগামী চট্রলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমনকালে দেখা গেছে, চট্রলা এক্সপ্রেসের প্রতিটা এটেনডেন্টদের দেখলে মনে হয় নেশাগ্রস্ত। একজন স্ট্যান্ডিং টিকেটের যাত্রী দরজার পাশে ফাঁকা জায়গায় বসে আছেন। সেই যাত্রীকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে একজন এটেনডেন্ট বিনা টিকিটের এক যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেখানে টুল দিয়ে বসিয়ে দিলেন। স্ট্যান্ডিং টিকেট থাকার পরেও লোকটাকে সরিয়ে দেওয়ায় তিনি খুব অপমানিত বোধ করছিলেন। এই চিত্র প্রতিদিনের।
এটেনডেন্টরা যে টাকা নেয় তার কোনো রশিদও দেয়া হয় না। টিটি যখন টিকেট চেক করতে আসেন তখন এটেনডেন্ট টিটিকে ইশারায় সিগন্যাল দেয় কার কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। টিটিও সটকে পড়েন। এরকম ঘটনা প্রতিদিন প্রকাশ্যে হলেও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে কি পড়বে না?




