নাসিরুদ্দিন চৌধুরী: আপনি নিশ্চয় জানেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রাম না হলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। মুক্তিযুদ্ধ না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করার পর সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তানে একটি নতুন রাজনীতির সূচনা হয়, যে রাজনীতি বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছাপ্পান্ন-সাতান্ন খ্রিস্টাব্দে যুক্ত নির্বাচন আন্দোলন, বাষট্টি ও চৌষট্টির ছাত্র আন্দোলন, পঁয়ষট্টি-ছেষট্টির ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচন, সাম্প্রদায়িকতার প্রতিবাদ, ছেষট্টির ৬ দফা আন্দোলন, আটষট্টি, উনসত্তরের আগরতলা মামলা বাতিল, বন্দি মুক্তি ও ১১ দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, আগরতলা মামলা থেকে মুক্তি প্রাপ্ত শেখ মুজিবুর রহমানকে ছাত্র-জনতার ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দান, সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয়, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর পাকিস্তানে বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক অসহযোগ এবং ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতির এই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সমগ্র দেশে কবরের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে । শিশুরা কাঁদতে ভুলে গেছে, পাখিরা গান গাইতে ভুলে গেছে। গৃহকোণের আন্তরিক পরিবেশেও উচ্চস্বরে কথা বলতে মানুষ শিহরিত হচ্ছে। কবিরা না কি সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রাণী। স্বৈরশাসন, সামরিক শাসন, জেলা-জুমুল-নির্যাতন, দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতিতে ওষ্ঠাগত মানুষের জীবন নিপন্ন হয়ে উঠতে দেখে কবিতা হয়ে ওঠে বিদ্রোহ-বিপ্লবের হাতিয়ার। কিন্তু বর্তমান ভয়ানক সময়ে জাতি হাঁসফাস করলেও কবির কলম থেকে আগুনের লাভা বের হচ্ছে না। কবিরাও কেমন যেন নির্জীব, মৌনীব্রত। কবি কেমন শান্ত, আশ্চর্য সমাহিত ? কিন্তু বাঙালি জাতির সংকটে-সংগ্রামে কবিরা সব সময় অগ্নিঋষি হয়ে আবির্ভূত হন।
‘৫২-তে যখন রমনার রাজপথে কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে আগুন ধরে গিয়েছিলো, তখন হাসান হাফিজুর রহমান, সিকান্দর আবু জাফর, মাহবুব উল আলম চৌধুরী, শামসুর রাহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, মুর্তজা বশীর, শহীদ কাদেরী, সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা আগুনের গোলায় পরিণত হয়। ৬৮-৬৯-এ আহসান হাবীব, শামসুর রাহমান (আসাদের সার্ট), ফররুখ আহমদ, আল মাহমুদ (উনসত্তরের ছড়া), আবদুল গাফফার চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, রফিক আজাদ, আবুল হাসান, হুমায়ুন আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, নয়ীম গহর, মহাদেব সাহা গণআন্দোলনের কবিতা লিখেছেন। সত্তরে স্বাধীনতার প্রভাতে সকলের কাঁধে যখন রাইফেল স্টেনগান, তখন রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আবির্ভূত হন রুদ্র মুর্তিতে। ৭০-এর দশকের কাব্য ভুবনে গনগনে আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে যান কামাল চৌধুরী, আবিদ আজাদ, মাকিদ হায়দার, হাসান হাফিজ। আশিতে শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, সুফিয়া কামাল, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, মোহন রায়হানরা কবিতাকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের হাতিয়ারে পরিণত করেন।
দেশ বর্তমানে যে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে আওয়ামী লীগ ছাড়া তা থেকে মুক্তি পাওয়া নেই, আওয়ামী লীগ অতীতের ন্যায় রাজপথে নেমে আন্দোলন সংগ্রাম না করলে এ সরকারের টনক নড়বে না। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার শক্তি, সাহস্য ও ক্ষমতা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ রাজপথে নামলে কখনো পিছপা হয় না। যেমন পাকিস্তান আমলে ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা মামলা বাতিলের আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ কখনো পিছিয়ে আসেনি, দাবি আদায় করে ছেড়েছে। বাংলাদেশ আমলে এরশাদের স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ৯১-এর নীলনকশার নির্বাচন, ২০০১-এর বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে বিএনপি সরকারের সমস্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে জনতার দাবি আদায় করেছে, জাতির অধিকার অর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ আপষহীন সংগ্রামী রাজনৈতিক দল। প্রশ্ন উঠতে পারে আওয়ামী লীগ কিভাবে আন্দোলন করবে, আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ। এ প্রশ্নের উত্তর তিনভাবে দেয়া যায়।
প্রথমতঃ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার অধিকার কে দিয়েছে সরকারকে। আওয়ামী লীগ কোন সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে রাজনীতি আরম্ভ করেনি। কারো দায়, অনুকম্পা নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করেনি, সুতরাং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার অধিকার কেন সরকারের নেই।
দ্বিতীয়তঃ আওয়ামী লীগের শিকড় এ দেশের মাটির গভীরে প্রোথিত, একটা অর্ডার দিয়ে, একটি ফরমান নিয়ে আওয়ামী লীগের জড় শুদ্ধ উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন পুরোনো ঢাকার রোজ গার্ডেন তৎকালীন পূর্ববঙ্গের তিন শতাধিক ডেলিগেটসের রায় নিয়ে জন্ম নিয়েছিলো। ২৪ জুন আরমানিটোলা ময়দানে জনসভায় জনমত সংগ্রহ করে আওয়ামী লীগ আত্মপ্রকাশ করেছিলো। সেই আওয়ামী লীগকে আজকে সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষণা বেআইনি।
তৃতীয়তঃ যে সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলো, সে সরকারই তো বেআইনি, সেটা কোন নির্বাচিত সরকার ছিলো না। সুতরাং অনির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আইনের চোখে অবৈধ বাতিলযোগ্য। আর রেজিষ্ট্রেশন নিলেই তো রেজিস্ট্রেশন বাতিলের প্রশ্ন আসে, আওয়ামী লীগ তো রেজিস্ট্রেশন নিয়ে রাজনীতি আরম্ভ করেনি, আওয়ামী লীগ জনগণের সম্মতি নিয়ে রাজনীতিতে আসে এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতে বহুবার জনগণের সম্মতি বা অনুমতি আদায় করতে সমর্থ হয়। যেমন চুয়ান্নের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, সত্তরের নির্বাচনে জনসমর্থন আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ অর্জনে সাহায্য করে, যে থেকে জনগণ স্বাধীনতার ম্যান্ডেট দিয়েছিলো। যে ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ হয় ও স্বাধীনতা আসে; সেই দলকে নিষিদ্ধ করার অর্থ তো স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা। গণতন্ত্রের রাজনৈতিক দল কখনো নিবন্ধন নিয়ে রাজনীতি করে না, এই নিবন্ধন প্রথা আমদানি ফৌজি শাসক জিয়া ও এরশাদ।
ফেসবুকে স্ট্যাটাস বা পোস্ট দিয়ে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তোলা যাবে না, জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও ফেসবুকে লেখালেখি করে ফিরিয়ে আনা যাবে না। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, রাস্তায় নামতে হবে, জেল, জুলুম হবে, তাতে অতীত আওয়ামী লীগ কখনো ভয় পায়নি, এখন কি ভয় পাবে?
ওদিকে প্রকৃতির নিয়মে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধারা একে একে পাততাড়ি গুটিয়ে পরপাড়ে চলে যাচ্ছেন। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং জাতির অতীতের সংগ্রাম ও শৌর্যবীর্যের কাহিনী শুনিয়ে সাহস সঞ্চারের বিপ্লবীরা আর থাকছেন না।
আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ না কি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কি সরকারের অনুমতি নিয়ে রাজনীতি করতো। আওয়ামী লীগকে কেউ নিবন্ধন দেয়নি, আওয়ামী লীগ কারো কাছ থেকে নিবন্ধন নিয়ে রাজনীতি করছে না। তাহলে আওয়ামী লীগকে বাতিল করা হয়েছে বলে, যারা বলছে তাদেরকে আওয়ামী লীগকে বাতিল করার অধিকার কে দিলো ? শেখ মুজিবুর রহমানকে কোন সরকার বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়নি। তাহলে সরকার কিভাবে বঙ্গবন্ধু উপাধি বাতিল করে। ২১ ফেব্রুয়ারি, ৭ মার্চ (রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ), ১৭ মার্চ (বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন), ২৫ মার্চ (গণহত্যা দিবস), ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা দিবস), ১৭ এপ্রিল (মুজিব নগর দিবস), ৭ জুন (৬ দফা দিবস), ১৫ আগস্ট (জাতীয় শোক দিবস), ১৭ সেপ্টেম্বর (জাতীয় শিশু-কিশোর দিবস), ৩ নভেম্বর (জেলহত্যা দিবস), ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস)—এ দিনগুলি পালন করার মধ্য দিয়ে জাতি তার সংগ্রামী ইতিহাস, রক্তের উত্তরাধিকার মনে রাখে।
যে স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মুক্তিযোদ্ধারা বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন, যারা রোগে শোকে ভুগে ভুগে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন, যারা এখনও আমাদের শক্তি ও সাহসের উৎস হয়ে বেঁচে আছেন, যাদের বয়স নব্বই বা আশির কাছাকাছি, তাদেরকে আমরা জীবনে সম্মাননা জানাতে চাই। সে লক্ষ্যে আমরা ৭ জুন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাই। সবাইকে হয়তো অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত করানো যাবে না, সেরকম যারা আছেন, আমরা তাদের বাড়িতে গিয়ে সম্মাননা জানাব। আপনি যদি আমাদের উদ্যোগকে সমর্থন করেন, তাহলে এই মাসের মধ্যে কোন একদিন আমরা বসব। কোথায় কখন বসতে পারি, সে ব্যাপারে আপনার সুচিন্তিত মতামত জানতে চাই।
দেশে এমন এক ক্রান্তিকাল চলছে, স্বাধীনতা সংগ্রামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদরা যেন অপাংক্তেয় হয়ে গেছেন। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা এবং ভাষা ও ভঙ্গিতে কথা বলেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধ করে তাঁরা যেন বিরাট অপরাধ করে ফেলেছেন। জীবন ও যৌবনের সোনালী দিনগুলি দেশ, জাতি ও জনগণের জন্য রাজনীতির পথে প্রান্তরে মাঠে ময়দানে হেলায় শ্রমে ঘামে বিলিয়ে দিয়ে তারা যে গৌরবের কাজ করেছেন, সেটা যেন অগৌরবের গ্লানিতে পরিণত হয়েছে ! আমরা মনে করি তারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। পড়ন্ত বেলায় যাপিত জীবনের জাবর কেটে কেটে শায়িত রোগশয্যা যখন এক ধূসর পাণ্ডলিপি,তখন তাঁদেরকে আমরা চট্টগ্রাম বাসীর পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা উচিত বলে আমার মনে হচ্ছে। সেজন্য প্রস্তাব আকারে ১২ জন বয়োবৃদ্ধ রাজনীতিবিদ, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম আমি বেছে নিয়েছি। আমার ফেসবুকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, সিপিবি, জাসদ ও বাসদের অনেক নেতাকর্মী সংযুক্ত আছেন। আমি তাঁদের কাছ থেকে মতামত আহবান করছি, তাঁদের সম্মতি পেলে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বিবেচনা করব।
তাঁরা হচ্ছেন—মাইক এজাহার (হালিশহর), মোহাম্মদ হারিছ (আগ্রাবাদ), নুর মোহাম্মদ চৌধুরী (বক্সিরহাট), শাহ বদিউল আলম (এয়াকুবনগর), ডা. শামসুদ্দিন চৌধুরী-ডুলাহাজারা, আবু তাহের মাসুদ (চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি), এডভোকেট জসিম উদ্দিন খান-বড়উঠান, আহমদ শরীফ মনীর (পটিয়া), মাহবুব উল আলম চৌধুরী (পটিয়া), আনোয়ারুল আজিম (ফটিকছড়ি), মোহাম্মদ ইদ্রিস-সাতকানিয়া, জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু (মিরসরাই)।
লেখকঃ নাসিরুদ্দিন চৌধুরী,বর্ষিয়ান সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।


