দেশের যেই ক্ষতিটা আওয়ামীলীগ করেছে, তা স্বয়ং বিএনপিও করেনি৷ পৃথিবীর আর কোন দেশেই স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে এতো শক্তি দেয়নি বরং নিঃচিহ্ন করা হয়েছে, রাষ্ট্রের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশের এক কোণে ছুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। অথচ, বাংলাদেশে যারা স্বাধীনতাই বিশ্বাস করে না, যারা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায় পাকিস্তান থাকলে ভালো ছিল, যারা জাতীয় পতাকায় এলার্জি খুঁজে, যারা জাতীয় সংগীত গায় না, যারা মুক্তিযুদ্ধের স্থপতি ও জাতীর পিতা মানে না, তাদেরকে সর্বপ্রথম সাধারণ ভাবধারায় না এনে বা সোজা না করেই আওয়ামীলীগ সবার আগে তাদের হাতে সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়েছে।
কওমী মাদ্রাসার কল্যাণে এখন দেশে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। বিএনপি নামক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী জামায়াতের ভরণপোষক, এটা পুরাতন কাহিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলা হলেও, এখন খোদ লীগের মধ্যেই হেফালীগ, সাঈদীলীগ, জামাতলীগে ভরপুর। এখন আর আওয়ামীলীগ আর বিএনপির মধ্যে বিশেষ কোন ফাঁরাক নেই!
বিএনপি জামাতকে সঙ্গে নিলেও, জামাতকে এতটাও শক্তি দেয়নি। কিন্তু আওয়ামীলীগ জামাতের বিকল্প হেফাজতকে তৈরি করতে গিয়ে নিজেরাই সেই বিষে নীল হয়েছে। চরমোণাইয়ের মতো ভূঁইফোড় সংগঠন সরকার পতনের হুমকিই দেয় না, বঙ্গবন্ধুকে টেনে হিঁচড়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেবার দৌরাত্ম দেখায়, তাও প্রকাশ্যেই। সেই চরমোণাই নেতা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে উঠাবসা করে। হাহাহা।
চিন্তা করুন- পাড়ার যে লোক আপনাকে দেখলে কাচুমাচু করতো, আপনি তাকে ডেকে এনে বাসায় খাওয়ালেন, তাকে সাথে বসতে দিলেন, তারপর সেই লোক আপনাকে সম্মান দিবে, না-কি মানবে? আওয়ামী লীগ তো এই কাজটাই করেছে।
দেশ বিদেশের হাজারো শিক্ষানুরাগী যখন গলা ফাটিয়ে বলছে – দেশের অন্তত একটা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ব মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলুন, তখন কে শুনে কার কথা? ৫৩ টা পাবলিক ইউনিভার্সিটির জন্য সরকার গবেষণায় বাজেট দেয় মাত্র ১৭৪ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে না-কি অর্থের অভাব, অথচ দেশে নতুন করে আরো ১৮৪৫ টি মাদ্রাসা নির্মাণ করা হচ্ছে, ১৮ হাজার মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ৯৪৩৫ কোটি টাকায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। সমগ্র বিশ্ব যখন আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ করে জ্ঞান বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি, কর্মমুখী শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে, তখন মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার না করে, সেখানে জ্ঞান বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তির সংযোজন না করেই, হাজার হাজার মাদ্রাসা তৈরি করে স্কীলহীন বেকার তৈরি করে হবেটা কি? এসব মাদ্রাসায় আবার জাতীয় সংগীত হারাম, জাতীয় পতাকা হারাম, জাতীর পিতা হারাম, এসবই পড়ানো হয়। এরজন্য জাতীয় সংগীতের সূর নকল করে তারা ভিন্ন গান বাঁধে। অথচ এই দুঃসাহস জামাতের লোকেরাও দেখায়নি। দেখিয়েছে কওমীরা, তারা আবার আওয়ামীলীগের হাতেই হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে।
দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, রাজাকারের বিরুদ্ধে কথা বলে যারা মারা গেছে, মার খেয়েছে, আওয়ামী লীগ তাদেরকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। যারা মেরেছে বরং তাদেরকেই বুকে টেনেছে। দেশের ব্লগার হত্যাকারী, অনলাইন এক্টিভিস্ট হত্যাকারী, হামলকারীদেরকে বঙ্গভবনে ভূরিভোজন করানো হয়েছে। আহা, কি-না অসাধারণ ব্যাপার।
খোদ বিএনপির শাসনামলেও জামাতিরা এতো শক্তি আর সাহস নিয়ে কোথাও বক্তব্য দিতে পারেনি। আর এখন? আওয়ামীলীগ সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতা বিরোধীদের লাই দিয়ে দেশের কবর খুঁড়ে ফেলেছে।




