আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ডেনমার্কে ইরাকি দূতাবাসের সামনে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগের পর বাগদাদের তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন শত শত মানুষ। শনিবার ভোরে শহরের ভারী সুরক্ষাবিশিষ্ট এলাকা গ্রিন জোনে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি দূতাবাস এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন রয়েছে। আগেরদিন ডেনমার্কে ইরাকি দূতাবাসের সামনে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগ ওঠে ডেনমার্কের একটি উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।আজ রোববার (২৩ জুলাই) শত শত বিক্ষোভকারী রাজধানী বাগদাদ এবং অন্যান্য প্রদেশ থেকেও এসে কোরআন অবমাননার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে সুইডেনে দুইবার ও কোপেনহেগেনে একবার কোরআন অবমাননার বিরুদ্ধে তারা কোরআন ও ইরাকের পতাকা নিয়ে প্রতিবাদ করার কথা জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।এসময় তারা প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা মুকতাদা আল-সদরের সমর্থনে স্লোগান দেন, ইরাকি পতাকার পাশাপাশি নেতার ছবি এবং তার আন্দোলনের সাথে যুক্ত পতাকা বহন করেন। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী গ্রিন জোনের দিকে যাওয়া জুমহুরিয়া সেতু অবরোধ করে, যা বিক্ষোভকারীদের ডেনিশ দূতাবাসে পৌঁছাতে বাধা দেয়।
বিক্ষোভকারীরা আগ্রাসন ও পবিত্র গ্রন্থের অপবিত্রতা প্রতিরোধে আইনের খসড়া তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ডেনিশ গণমাধ্যম অনুযায়ী, উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী দানস্কে প্যাট্রিও কোপেনহেগেনে ইরাকি দূতাবাসের সামনে কুরআনের একটি কপি এবং একটি ইরাকি পতাকা পোড়ায় এবং ফেসবুকে ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোককে রাসমুসেন এটিকে কিছু ব্যক্তির দ্বারা ‘মূর্খতা’ বলে নিন্দা করে বলেছেন, ‘অন্যের ধর্মকে অবমাননা করা একটি লজ্জাজনক কাজ’।
তিনি বলেন, এটি কোরআন এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক পোড়ানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উসকানি দেয়া এবং বিভেদ সৃষ্টি করা ছাড়া এর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে ডেনমার্কে ধর্মীয় বই পোড়ানো অপরাধ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কোপেনহেগেনের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, ইরাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে ‘ডেনমার্কে ইরাকি দূতাবাসের সামনে পবিত্র কোরআন এবং ইরাক প্রজাতন্ত্রের পতাকার অপব্যবহারের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে’।
এদিকে ইরাকি প্রেসিডেন্সি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং পশ্চিমা সরকারগুলোর প্রতি এক বিবৃতিতে ‘উসকানি এবং ঘৃণামূলক চর্চা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, তাদের অজুহাত যাই হোক না কেন’।সূত্রঃ আলজাজিরা




