আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনে জার্মানির তৈরি অন্তত ৭টি লেপার্ড ট্যাঙ্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৫টি ‘ব্র্যাডলি ফাইটিং ভেহিকল’ (বিএফভি) ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করার সময় দুদিনে পশ্চিমাদের দেয়া এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হলো। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আকাশ মহড়া গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। ১২ দিনের এই মহড়ায় ন্যাটোর ২৫ সদস্য রাষ্ট্র, জোটের সহযোগী জাপান ও জোটে যোগদানে ইচ্ছুক সুইডেনের মোট ২৫০টি সামরিক বিমান অংশ নেবে। রয়টার্স

রাশিয়ার সামরিক ব্লগাররা জানিয়েছেন, ভেলিকা নোভোসিলকা শহরের দক্ষিণে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা লাইনের একটি অংশ গুড়িয়ে দিয়ে ইউক্রেনের বাহিনীগুলো ভেতরে ঢুকে কয়েকটি গ্রামের দখল নিয়েছিল, এ সময় রাশিয়ার বাহিনীগুলো পিছু হটে উঁচু এলাকাগুলোয় অবস্থান নেয়। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত অংশের রুশপন্থি ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা ভ্লাদিমির রোগোভ জানিয়েছেন, পরে রাশিয়ার বাহিনীগুলো ফের ওই গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে শুরু করা পাল্টা হামলায় রবিবার প্রথম সাফল্যের দাবি করে কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করার কথা জানায় ইউক্রেন। কিয়েভের বাহিনীগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেছে, সেগুলোতে তাদের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গ্রাম ব্লাহদাতনে বোমায় বিধ্বস্ত একটি ভবনে ইউক্রেনের পতাকা স্থাপন করতে আর সংলগ্ন নেসকুচনে গ্রামে তাদের ইউনিটের পতাকা নিয়ে ছবির জন্য পোজ দিতে দেখা গেছে।

ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা বাখমুত শহরের কাছে কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। গত মাসে রাশিয়ার বাহিনীগুলোর কাছে বাখমুতের পতন হয়। গত সপ্তাহে দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রধান শহর খেরসনের আরো পশ্চিমে নোভা কাখোভকা জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের বাঁধ ভেঙে পড়ার পর ইউক্রেন তার পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ওই বাঁধ ধসের কারণে খেরসনসহ দিনিপ্রো নদীর নিম্মাঞ্চলের বহু এলাকা ডুবে যায় এবং নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থান নিয়ে থাকা রুশ বাহিনীকে তাদের অবস্থান ছেড়ে কিছুটা পেছনে চলে যেতে হয়।

শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘পাল্টা আক্রমণ ও প্রতিরক্ষামূলক কর্মকাণ্ড’ চলছে বলে স্বীকার করেন। এর একদিন আগে শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, তাদের সেনারা ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণের প্রথম হামলাগুলো প্রতিহত করেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলোতে তাদের কেএ-৫২ অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ড্রোন থেকে ইউক্রেনের সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্কগুলোতে আক্রমণের বহু দৃশ্য দেখা গেছে। শনিবার মন্ত্রণালয়টির প্রকাশিত ফুটেজে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ড্রোনগুলোকে ইউক্রেনের ট্যাঙ্কে আঘাত হানতে দেখা গেছে। কিয়েভ বাহিনী যে কয়েকটি অঞ্চলে তাদের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে জাপোরিঝিয়া তার অন্যতম।

পাল্টা আক্রমণের ফলাফল সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউক্রেনীয় সেনাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি।

ন্যাটোর ১২ দিনের মহড়া শুরু : যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আকাশ মহড়া গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। জোটের সব সদস্য ও সহযোগীকে আশ্বস্ত করতে ও সম্ভাব্য রুশ হুমকির বিরুদ্ধে শক্তি দেখাতে এই মহড়ার আয়োজন। জার্মানির নেতৃত্বে ‘এয়ার ডিফেন্ডার ২৩’ নামের এই মহড়া ২৩ জুন পর্যন্ত চলবে। এতে ন্যাটোর ২৫ সদস্য রাষ্ট্র, জোটের সহযোগী জাপান ও জোটে যোগদানে ইচ্ছুক সুইডেনের মোট ২৫০টি সামরিক বিমান অংশ নেবে।

এই মহড়ার আরেক উদ্দেশ্য ন্যাটোর আওতাধীন শহর, বিমানবন্দর ও নৌবন্দরে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বাড়ানো। মহড়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেবেন।

গত সপ্তাহে জার্মান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনগো গেরহার্তজ মহড়ার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে রাশিয়া প্রতিবেশী ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ‘এয়ার ডিফেন্ডার’ মহড়ার বিষয়ে প্রথম আলোচনা হয়। তবে এই মহড়ায় কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নেই। তিনি আরো জানান, ন্যাটো তার ভূখণ্ডের প্রতিটি সেন্টিমিটারের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে। তবে এ মহড়ায় কালিনিনগ্রাদের (ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সীমান্ত) দিকে কোনো বিমান পাঠানো হবে না। জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়ায় মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনে জার্মানির তৈরি অন্তত ৭টি লেপার্ড ট্যাঙ্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৫টি ‘ব্র্যাডলি ফাইটিং ভেহিকল’ (বিএফভি) ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করার সময় দুদিনে পশ্চিমাদের দেয়া এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হলো। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আকাশ মহড়া গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। ১২ দিনের এই মহড়ায় ন্যাটোর ২৫ সদস্য রাষ্ট্র, জোটের সহযোগী জাপান ও জোটে যোগদানে ইচ্ছুক সুইডেনের মোট ২৫০টি সামরিক বিমান অংশ নেবে। রয়টার্স

রাশিয়ার সামরিক ব্লগাররা জানিয়েছেন, ভেলিকা নোভোসিলকা শহরের দক্ষিণে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা লাইনের একটি অংশ গুড়িয়ে দিয়ে ইউক্রেনের বাহিনীগুলো ভেতরে ঢুকে কয়েকটি গ্রামের দখল নিয়েছিল, এ সময় রাশিয়ার বাহিনীগুলো পিছু হটে উঁচু এলাকাগুলোয় অবস্থান নেয়। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত অংশের রুশপন্থি ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা ভ্লাদিমির রোগোভ জানিয়েছেন, পরে রাশিয়ার বাহিনীগুলো ফের ওই গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে শুরু করা পাল্টা হামলায় রবিবার প্রথম সাফল্যের দাবি করে কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করার কথা জানায় ইউক্রেন। কিয়েভের বাহিনীগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেছে, সেগুলোতে তাদের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গ্রাম ব্লাহদাতনে বোমায় বিধ্বস্ত একটি ভবনে ইউক্রেনের পতাকা স্থাপন করতে আর সংলগ্ন নেসকুচনে গ্রামে তাদের ইউনিটের পতাকা নিয়ে ছবির জন্য পোজ দিতে দেখা গেছে।

ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা বাখমুত শহরের কাছে কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। গত মাসে রাশিয়ার বাহিনীগুলোর কাছে বাখমুতের পতন হয়। গত সপ্তাহে দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রধান শহর খেরসনের আরো পশ্চিমে নোভা কাখোভকা জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের বাঁধ ভেঙে পড়ার পর ইউক্রেন তার পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ওই বাঁধ ধসের কারণে খেরসনসহ দিনিপ্রো নদীর নিম্মাঞ্চলের বহু এলাকা ডুবে যায় এবং নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থান নিয়ে থাকা রুশ বাহিনীকে তাদের অবস্থান ছেড়ে কিছুটা পেছনে চলে যেতে হয়।

শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘পাল্টা আক্রমণ ও প্রতিরক্ষামূলক কর্মকাণ্ড’ চলছে বলে স্বীকার করেন। এর একদিন আগে শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, তাদের সেনারা ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণের প্রথম হামলাগুলো প্রতিহত করেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলোতে তাদের কেএ-৫২ অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ড্রোন থেকে ইউক্রেনের সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্কগুলোতে আক্রমণের বহু দৃশ্য দেখা গেছে। শনিবার মন্ত্রণালয়টির প্রকাশিত ফুটেজে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ড্রোনগুলোকে ইউক্রেনের ট্যাঙ্কে আঘাত হানতে দেখা গেছে। কিয়েভ বাহিনী যে কয়েকটি অঞ্চলে তাদের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে জাপোরিঝিয়া তার অন্যতম।

পাল্টা আক্রমণের ফলাফল সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউক্রেনীয় সেনাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি।

ন্যাটোর ১২ দিনের মহড়া শুরু : যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আকাশ মহড়া গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। জোটের সব সদস্য ও সহযোগীকে আশ্বস্ত করতে ও সম্ভাব্য রুশ হুমকির বিরুদ্ধে শক্তি দেখাতে এই মহড়ার আয়োজন। জার্মানির নেতৃত্বে ‘এয়ার ডিফেন্ডার ২৩’ নামের এই মহড়া ২৩ জুন পর্যন্ত চলবে। এতে ন্যাটোর ২৫ সদস্য রাষ্ট্র, জোটের সহযোগী জাপান ও জোটে যোগদানে ইচ্ছুক সুইডেনের মোট ২৫০টি সামরিক বিমান অংশ নেবে।

এই মহড়ার আরেক উদ্দেশ্য ন্যাটোর আওতাধীন শহর, বিমানবন্দর ও নৌবন্দরে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বাড়ানো। মহড়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেবেন।

গত সপ্তাহে জার্মান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনগো গেরহার্তজ মহড়ার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে রাশিয়া প্রতিবেশী ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ‘এয়ার ডিফেন্ডার’ মহড়ার বিষয়ে প্রথম আলোচনা হয়। তবে এই মহড়ায় কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নেই। তিনি আরো জানান, ন্যাটো তার ভূখণ্ডের প্রতিটি সেন্টিমিটারের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে। তবে এ মহড়ায় কালিনিনগ্রাদের (ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সীমান্ত) দিকে কোনো বিমান পাঠানো হবে না। জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়ায় মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।