সেবা সংস্থাগুলোর অব্যবস্থাপনার খেসারত বছরজুড়ে দিতে হয়েছে চট্টগ্রামের নগরের বাসিন্দাদের। খাল ও নালা-নর্দমায় পড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ১২ বছরের শিশু থেকে ৬৫ বছরের বৃদ্ধাও। আবার মোটরসাইকেলে করে স্বামীর সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় সড়কের গর্তের কারণে ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয় কলেজছাত্রীর। এ ছাড়া নগরের এম এ মান্নান ও বন্দর উড়ালসড়কে ‘ফাটল’–এর ঘটনা ছিল আলোচিত। তবে এসবের বাইরে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ বা টিউবের খননকাজ শেষ হওয়া ছিল স্বস্তির। নালা-নর্দমা ও খালে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটার মধ্যেই জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের কারণে ভবন হেলে পড়ার ঘটনা ঘটে ২০ ডিসেম্বর। নগরের মাঝিরঘাটের পার্বতী ফকির পাড়ায় গুলজার খালের পাশে একটি তিনতলা ভবন, একটি দোতলা ভবন, একটি মন্দির ও একটি কাঁচা ঘর হেলে পড়ে। বছরজুড়ে এ ধরনের অব্যবস্থাপনার ঘটনা ঘটলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সিডিএ নিজেদের দায় এড়িয়েছে।
ঘটনার দায় পরস্পরের কাঁধে চাপিয়েছে দুটি সংস্থা। তবে সরকারের এক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার পেছনে দুটি সংস্থার ব্যর্থতা রয়েছে। নিরাপদ নগরের বিষয়টি এই বছর নিয়মিত ধাক্কা খেয়েছে। নালা-নর্দমা ও খালে পড়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভাঙা সড়কের কারণে কলেজছাত্রীর প্রাণ গেছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার প্রকল্পের কাজ হলেও অগ্রগতি ছিল শম্বুক গতিতে । এসব থেকে শিক্ষা নিয়ে সেবা সংস্থাগুলো আগামী বছরে এমনভাবে কাজ করবে, যাতে আরও কোনোভাবে মানুষের ক্ষতি না হয়।
উন্নয়নকাজে নিরাপত্তাবেষ্টনীসহ যথাযথ নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে বলে আশা। আর কর্ণফুলী টানেল ও আউটার রিং রোডের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে মাইলফলক হবে। নগরীর মুরাদপুরে চশমা খালে তলিয়ে যাওয়া এই ব্যক্তির খোঁজ মেলেনি গত চার মাসেও। ৬ ডিসেম্বর বিকেলে চিটাগং শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় চশমা খালে বন্ধু রাকিবের সঙ্গে বোতল কুড়াতে নেমে মো. কামাল উদ্দিন (১২) নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়। তলিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর ৯ ডিসেম্বর নগরের মোহাম্মদপুর এলাকায় মির্জা খালে কামালের মরদেহ পাওয়া যায়।একের পর এক মৃত্যুর ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে সিটি করপোরেশন।



