অর্থনীতি ডেস্ক: ষড়ঋতুর দেশে বসন্ত এসে গেছে। শীতকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে রঙিন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে প্রকৃতির রঙ লেগেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মনে। কদর বেড়েছে ফুলের। ‘ফুল’—দুই অক্ষরের এ শব্দ উচ্চারণে স্নিগ্ধ হয় মন। আর দিবস কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক হয়ে ওঠে ফুলের বাজার। গত কয়েক বছর করোনা মহামারির প্রকোপে উৎসব উদযাপন মুলতুবি রাখতে বাধ্য হয়েছিল গোটা বাঙালি। তাই এবার বছরের প্রথম উদযাপন যেন একটু বেশিই সমারোহে হচ্ছে। আর এই কলেবরে করোনার লোকসান কাটিয়ে এই বছর মুনাফার আশা করছেন ফুলচাষিরা। খুশি পাইকারি ও খুচরা ব্যবাসায়ীরাও। অন্যান্য বছরের ফেব্রুয়ারির ১৫০ কোটি টাকার ফুলের বাজার এবার ৫০০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তারা।

এর মধ্যে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। আর বাকি ফুল বিক্রি ২১ ফেব্রুয়ারিকেন্দ্রিক।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, ফুলচাষি ও সমবায় সমিতির তথ্যমতে, বছরজুড়ে দেশে ফুলের বাজার ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার। এর মধ্যে জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ফুলের মোট চাহিদার ৭৫ শতাংশ বিক্রি হয়। তবে সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা সংযোগ শিল্প নিয়ে ফুলের বাজার ২ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে রাজধানীর গাবতলীতে ফুলের স্থায়ী বাজারের কাজ শেষ হলেও সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না কৃষি মন্ত্রণালয়। এর সমাধান হলে ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। সে সঙ্গে সেখানে আধুনিক সুবিধায় ফুলের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পচন রোধ করা সম্ভব হবে। গুণমানের সমস্যা থাকায় দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখনই রপ্তানিতে যেতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। এজন্য সরকারের নীতি সহায়তা চেয়েছেন তারা।

ফুলের রাজধানী যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী, হাড়িয়া ও পানিসারা মোড়ের ফুলের পাইকারি বাজার ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই ছিল জমজমাট। চাষি হাসিবুর জানান, এবাব ফুলের ভালো দাম পেয়েছেন কৃষকরা। তবে মুনাফার হার বেশি মনে হলেও উৎপাদন ব্যয় হিসেবে তেমনটা বাড়েনি। তবে বেশি দাম পেয়ে খুশি স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় ৩ গুণ বেশি দামে ফুল বিক্রি হয়েছে। যশোরে প্রতি পিস গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়, যা গত মাসে ছিল ৫-১০ টাকা। একইভাবে এক পিস জারবেরা বিক্রি হয় ১৫-২০; রজনীগন্ধা ৮, গ্লাডিওলাস ৮-১২ টাকায়। হাজারটি গাঁদা ফুল ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স সোসাইটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, অনুকূল আবহাওয়ায় থাকায় এবার উৎপাদিত ফুলের আকার এবং মান ভালো। করোনা না থাকায় ঢাকাসহ সারা দেশের ব্যবসায়ীরা আগাম ফুল সংগ্রহ শুরু করেছেন। এতে দামও বেড়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সরাদেশে ফুল ভালো বিক্রি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ২৫ টাকায় গোলাপ বিক্রি হলেও ঢাকায় তা ৫০ টাকা বা এরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ১০০ টাকার বেশি পড়ছে। শুধু যশোর নয়, ফুল উৎপাদনে বিখ্যাত ২৫ জেলা থেকে ভালো খবর আসছে। ব্যবসায়ীরা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের জন্য ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ফুল সংগ্রহ শুরু করেন। এখন চলছে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রস্তুতি।

তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে ফুলের চাহিদায় ভাগ বসাচ্ছে প্লাস্টিকের ফুল, যা দৃষ্টিনন্দন হলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অন্যান্য অনুষ্ঠানেও এর প্রভাব যথেষ্ট। এতে কাঁচা ফুলের চাহিদা দিন দিন কমছে। ফুলের বাজার রক্ষায় প্লাস্টিক ফুল উৎপাদন ও আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সার্বিক বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র দে বলেন, সরকার ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করছে। ঢাকার গাবতলীতে ফুল মার্কেটের জন্য গৃহীত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ লাইনসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এটি শেষ হলে দোকান বরাদ্দের কাজ শুরু হবে। এই পাইকারি বাজারে ফুল বিক্রির আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি থাকবে। এতে ফুলের অপচয় কমবে। এ ছাড়া ২৫টি জেলার বাণিজ্যিক ফুল উৎপাদন এলাকায় পাঁচটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর সুফল ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে পাচ্ছেন।

রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ফুলের বাজার নিয়ে কাজ হচ্ছে। এখন স্থানীয় বাজারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে গুণমানের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আগামীতে ফুল রপ্তানিতে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও সচেতনতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অর্থনীতি ডেস্ক: ষড়ঋতুর দেশে বসন্ত এসে গেছে। শীতকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে রঙিন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে প্রকৃতির রঙ লেগেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মনে। কদর বেড়েছে ফুলের। ‘ফুল’—দুই অক্ষরের এ শব্দ উচ্চারণে স্নিগ্ধ হয় মন। আর দিবস কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক হয়ে ওঠে ফুলের বাজার। গত কয়েক বছর করোনা মহামারির প্রকোপে উৎসব উদযাপন মুলতুবি রাখতে বাধ্য হয়েছিল গোটা বাঙালি। তাই এবার বছরের প্রথম উদযাপন যেন একটু বেশিই সমারোহে হচ্ছে। আর এই কলেবরে করোনার লোকসান কাটিয়ে এই বছর মুনাফার আশা করছেন ফুলচাষিরা। খুশি পাইকারি ও খুচরা ব্যবাসায়ীরাও। অন্যান্য বছরের ফেব্রুয়ারির ১৫০ কোটি টাকার ফুলের বাজার এবার ৫০০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তারা।

এর মধ্যে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। আর বাকি ফুল বিক্রি ২১ ফেব্রুয়ারিকেন্দ্রিক।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, ফুলচাষি ও সমবায় সমিতির তথ্যমতে, বছরজুড়ে দেশে ফুলের বাজার ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার। এর মধ্যে জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ফুলের মোট চাহিদার ৭৫ শতাংশ বিক্রি হয়। তবে সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা সংযোগ শিল্প নিয়ে ফুলের বাজার ২ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে রাজধানীর গাবতলীতে ফুলের স্থায়ী বাজারের কাজ শেষ হলেও সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না কৃষি মন্ত্রণালয়। এর সমাধান হলে ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। সে সঙ্গে সেখানে আধুনিক সুবিধায় ফুলের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পচন রোধ করা সম্ভব হবে। গুণমানের সমস্যা থাকায় দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখনই রপ্তানিতে যেতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। এজন্য সরকারের নীতি সহায়তা চেয়েছেন তারা।

ফুলের রাজধানী যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী, হাড়িয়া ও পানিসারা মোড়ের ফুলের পাইকারি বাজার ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই ছিল জমজমাট। চাষি হাসিবুর জানান, এবাব ফুলের ভালো দাম পেয়েছেন কৃষকরা। তবে মুনাফার হার বেশি মনে হলেও উৎপাদন ব্যয় হিসেবে তেমনটা বাড়েনি। তবে বেশি দাম পেয়ে খুশি স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় ৩ গুণ বেশি দামে ফুল বিক্রি হয়েছে। যশোরে প্রতি পিস গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়, যা গত মাসে ছিল ৫-১০ টাকা। একইভাবে এক পিস জারবেরা বিক্রি হয় ১৫-২০; রজনীগন্ধা ৮, গ্লাডিওলাস ৮-১২ টাকায়। হাজারটি গাঁদা ফুল ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স সোসাইটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, অনুকূল আবহাওয়ায় থাকায় এবার উৎপাদিত ফুলের আকার এবং মান ভালো। করোনা না থাকায় ঢাকাসহ সারা দেশের ব্যবসায়ীরা আগাম ফুল সংগ্রহ শুরু করেছেন। এতে দামও বেড়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সরাদেশে ফুল ভালো বিক্রি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ২৫ টাকায় গোলাপ বিক্রি হলেও ঢাকায় তা ৫০ টাকা বা এরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ১০০ টাকার বেশি পড়ছে। শুধু যশোর নয়, ফুল উৎপাদনে বিখ্যাত ২৫ জেলা থেকে ভালো খবর আসছে। ব্যবসায়ীরা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের জন্য ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ফুল সংগ্রহ শুরু করেন। এখন চলছে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রস্তুতি।

তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে ফুলের চাহিদায় ভাগ বসাচ্ছে প্লাস্টিকের ফুল, যা দৃষ্টিনন্দন হলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অন্যান্য অনুষ্ঠানেও এর প্রভাব যথেষ্ট। এতে কাঁচা ফুলের চাহিদা দিন দিন কমছে। ফুলের বাজার রক্ষায় প্লাস্টিক ফুল উৎপাদন ও আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সার্বিক বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র দে বলেন, সরকার ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করছে। ঢাকার গাবতলীতে ফুল মার্কেটের জন্য গৃহীত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ লাইনসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এটি শেষ হলে দোকান বরাদ্দের কাজ শুরু হবে। এই পাইকারি বাজারে ফুল বিক্রির আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি থাকবে। এতে ফুলের অপচয় কমবে। এ ছাড়া ২৫টি জেলার বাণিজ্যিক ফুল উৎপাদন এলাকায় পাঁচটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর সুফল ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে পাচ্ছেন।

রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ফুলের বাজার নিয়ে কাজ হচ্ছে। এখন স্থানীয় বাজারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে গুণমানের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আগামীতে ফুল রপ্তানিতে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও সচেতনতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।