দি ক্রাইম ডেস্ক: নগরীর ডিসি হিলে অবশ্যই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। গতকাল ডিসি হিল অভ্যন্তরে থাকা ‘নজরুল স্কয়ার’ এর সংস্কার কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে কিনা–এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিসি হিলের এই নজরুল স্কয়ারের একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে। সেই কর্মকাণ্ড যাতে আরো বেগবান হয়, এজন্যই আমরা এটাকে সুন্দরভাবে সাজাচ্ছি। লিমিটেশন হচ্ছে, এখানে যে স্পেস আছে স্পেসের বেশি তো আমরা দিতে পারব না। একটা প্রতিষ্ঠান একদিন একটা অনুষ্ঠান করবে। পরের দিন আরেকটা করবে। কিন্তু একসাথে দুই তিনটা প্রতিষ্ঠান আসলে তো করতে পারবে না। এটাই লিমিটেশন। তিনি বলেন, অবশ্যই প্রোগ্রাম হবে। প্রোগ্রাম হচ্ছে তো। অনুষ্ঠান এখনো হচ্ছে, সামনেও হবে। এই জায়গা লিমিটেড স্পেস। এই জায়গার মধ্যে যতগুলো সম্ভব। একটা জায়গায় তো দশটা গোষ্ঠী এসে করতে পারবে না একই সময়ে। একটার পর একটা এভাবে করতে হবে।
এদিন ডিসি হিলের পূর্ব প্রান্তে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নতুন স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, এই পার্কের এরিয়া মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নজরুল স্কয়ার স্থাপন করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় রাস্তা অনেক উঁচু হয়ে গিয়েছিল। ওয়াকওয়ে অনেক বেশি উঁচু হয়ে যায়। বিদ্রোহী কবির মনুমেন্ট অনেক নিচু হয়েছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জীর্নশীর্ন অবস্থায় পড়ে ছিল। তখনই মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও যদি কখনো কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়, তাহলে তিনি অনুপ্রেরণা হবেন। উনাকে সেই সম্মানের জায়গায় রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে নতুনভাবে সাজিয়েছি। যাতে তরুণ প্রজন্ম দেখতে পারে কার লেখনী তাদের আন্দোলিত করছে। তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ছিলেন। একাত্তরের মুিক্িতযুদ্ধেও তার প্রাসঙ্গিকতা তেমনই ছিল। নব্বইয়ের আন্দোলনেও তার প্রাসঙ্গিকতা তেমন ছিল। আবার চব্বিশের আন্দোলনেও বিদ্রোহী কবির প্রাসঙ্গিকতা একই রকম ছিল। বিদ্রোহী কবি, সাম্যের কবি, গণজাগরণের কবি, আমাদের জাতীয় কবি। তরুণ প্রজন্ম বারংবার তার লেখনি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের যত অর্জন তাতে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার লেখনী।
জেলা প্রশাসক বলেন, ডিসি হিলের পুরো এলাকা সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হয়েছে। এখানে বয়স্করা সকালে হাঁটতে আসেন। অনেকে বেড়াতে আসেন। এজন্য পুরো জায়গাটা পরিষ্কার করেছি। বসার ব্যবস্থা করেছি। সামনে একটি ওয়াশ ব্লক করা হবে। যাতে সুন্দরভাবে আরামদায়ক পরিবেশে মানুষ রিক্রিয়েশন পায়। তিনি বলেন, বিদ্রোহী কবিতার মাধ্যমে কাজীনজরুল ইসলাম যে প্রতিবাদের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন, প্রায় এক শতাব্দী পরও সেই চেতনা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ১৯২৫ সালে রচিত ‘নারী’ কবিতাও আজকের সমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আবার রমজান মাস এলেই যে গান গেয়ে মানুষ ঈদের আনন্দ উদ্যাপন করে,….রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ; সেটিও জাতীয় কবির সৃষ্টি। বিদ্রোহ, সাম্য ও গণজাগরণের কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম যুগে যুগে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের নানা অর্জনের পেছনেও তার চিন্তা ও চেতনার গভীর প্রভাব রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।




