আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফের তেহরানে যুক্তরাজ্য ও জার্মানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে চলমান বিক্ষোভের বিষয়ে গত শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন শেরক্লিফকে তলব করেছে তেহরান। এ বিষয়ে ইরান তিন মাসেরও কম সময়ে ১৫ বার বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই বিষয়ে গত শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) তেহরানে জার্মান রাষ্ট্রদূত হান্স-উদো মুজেলকে তলব করেছে। গত ১০ সপ্তাহে তেহরান যেসব রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে তাদের প্রায় সবাই পশ্চিমা দেশ থেকে।
আইআরএনএ জানায়, ইরানের ওপর নজিরবিহীন চাপের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কূটনৈতিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের নীতি পুলিশ ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে কুর্দি মেয়ে মাহশা আমিনিকে (২২) কঠোর নিয়ম অনুযায়ী হিজাব না পরার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ হেফাজতে তিনি মারা যান।
মাহশা নির্যাতনে মারা গেছেন দাবি করে রাস্তায় নেমেছে ইরানের মানুষ। মাহশার মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইরানজুড়ে। ইরানে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে পাঁচবার তলব করা হয়েছে।
আইআরএনএ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিরতায় যুক্তরাজ্যের সমর্থনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞারও প্রতিবাদ করা হয়েছে।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। সেপ্টেম্বর থেকে চারবার জার্মান রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে তেহরান। ইরানে জার্মানির অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপে তেহরান তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
তেহরান চলমান বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ বলে অভিহিত করে আসছে। তারা জানিয়েছে, বিদেশী শত্রুরা এই প্রতিবাদকে উৎসাহিত করছে।
তেহরান চলমান বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ বলে অভিহিত করে আসছে।
মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তিন শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।



