দি ক্রাইম ডেস্ক: কক্সবাজার সৈকতের বিস্তীর্ণ স্থানে পরিকল্পনাহীন ও যেনতেনভাবে গজিয়ে উঠেছিল কয়েক হাজার ভাসমান ঝুপড়ি দোকান। এতে চরমভাবে নষ্ট হয়েছিল বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতের সৌন্দর্য। অন্যদিকে নষ্ট হয়েছে পরিবেশ এবং প্রতিবেশও।

এবার এই পরিকল্পনাহীন পরিস্থিতির দিন শেষ হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীনের আহমদের এক নির্দেশে মাত্র পাঁচদিনেই সৈকতের সকল অবৈধ ঝুপড়ি উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। গত ১২ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিন দিন পর্যন্ত চালানো অভিযানে প্রায় ৬৩০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে কিংবা সরিয়ে নিয়েছেন দোকানকদাররা। এতে এক ভিন্ন সৈকতের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি কঙবাজারে এক মতবিনিয় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ঘোষণা দেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদ হবে সৈকতের সমস্ত অবৈধ স্থাপনা। মন্ত্রীর এই নির্দেশের পরপরই ‘কোমর বেঁধে’ উচ্ছেদ অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন। প্রথমে দোকানদারদের সরিয়ে দিতে মাইকিং করে সময় বেঁধে দেয়া হয়। এরপর পাঁচ দিনে অধিকাংশ দোকান উচ্ছেদ করে প্রশাসন; অবশিষ্টগুলো দোকানদাররা নিজেরাই অপসারণ করে নিয়ে গেছেন। আরো যেসব দোকান ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে তাও দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘প্রতিবছর কঙবাজারে ঘুরতে আসেন আসেন ৬০–৭০ লাখ পর্যটক। বেশির ভাগ পর্যটক একবারের জন্য হলেও সৈকতে আসেন। পর্যটকেরা সৈকতে নামার সময় বালিয়াড়িতে ঝুপড়ি দোকানের বস্তি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে নানা অপরাধও ঘটে। ঝুপড়ি মুক্ত হওয়ায় এখন সৈকতের চেহারা পাল্টে গেছে। এতে পর্যটকেরা নতুন রূপ দেখতে পাবেন কঙবাজারের। পাশাপাশি সমুদ্রের দূষণও কমবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কঙবাজার জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম এরশাদ ও সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, তিন দশক ধরে সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টের বালিয়াড়ি দখল করে পাঁচ শতাধিক দোকানপাট নির্মাণ করে কোটি টাকার বাণিজ্য করা হচ্ছে। সরকার পরিবর্তন হলে দোকানপাটের মালিকানাও পরিবর্তন হয়। উচ্ছেদও হয়। কিন্তু আবার সৈকত দখল করে দোকান গড়ে ওঠে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন সৈকতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। সে কারণে ভবিষ্যতে কোনো দখলদারকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সুগন্ধা পয়েন্টে স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

এদিকে দোকানদাররা জানান, তাদের শেষ সম্ভল এই দোকানগুলো। নানাভাবে টাকা দিয়ে তারা দোকানগুলো পেয়েছেন। দোকান উচ্ছেদ করায় পরিবার–পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে তাদের।

এ ব্যাপারে সুগন্ধা সৈকতের শামুক–ঝিনুক ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা কোনো দখলদার নই। জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়ে সরকারি রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করে আসছি। তিনি বলেন, ‘আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। পুনবার্সনের দাবি জানাই।’

কঙবাজার–৩ আসনের সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলাপ–আলোচনা হয়েছে– কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের পুনর্বাসন করা যায়। এই প্রেক্ষিতে তিনি গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নান ও পুলিশ সুপার একে এম সাজিদুর রহমানকে সাথে নিয়ে উচ্ছেদ করা স্থান পরিদর্শন করেন। এসময় দোকানদার ও সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে মালিক সমিতির সভাপতি ও যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এমপি লুৎফুর রহমান কাজল মহোদায় আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা আশা নিয়ে চেয়ে থাকবো– যেন আমাদের পুনর্বাসন করা হয়।’

দি ক্রাইম ডেস্ক: কক্সবাজার সৈকতের বিস্তীর্ণ স্থানে পরিকল্পনাহীন ও যেনতেনভাবে গজিয়ে উঠেছিল কয়েক হাজার ভাসমান ঝুপড়ি দোকান। এতে চরমভাবে নষ্ট হয়েছিল বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতের সৌন্দর্য। অন্যদিকে নষ্ট হয়েছে পরিবেশ এবং প্রতিবেশও।

এবার এই পরিকল্পনাহীন পরিস্থিতির দিন শেষ হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীনের আহমদের এক নির্দেশে মাত্র পাঁচদিনেই সৈকতের সকল অবৈধ ঝুপড়ি উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। গত ১২ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিন দিন পর্যন্ত চালানো অভিযানে প্রায় ৬৩০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে কিংবা সরিয়ে নিয়েছেন দোকানকদাররা। এতে এক ভিন্ন সৈকতের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি কঙবাজারে এক মতবিনিয় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ঘোষণা দেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদ হবে সৈকতের সমস্ত অবৈধ স্থাপনা। মন্ত্রীর এই নির্দেশের পরপরই ‘কোমর বেঁধে’ উচ্ছেদ অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন। প্রথমে দোকানদারদের সরিয়ে দিতে মাইকিং করে সময় বেঁধে দেয়া হয়। এরপর পাঁচ দিনে অধিকাংশ দোকান উচ্ছেদ করে প্রশাসন; অবশিষ্টগুলো দোকানদাররা নিজেরাই অপসারণ করে নিয়ে গেছেন। আরো যেসব দোকান ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে তাও দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘প্রতিবছর কঙবাজারে ঘুরতে আসেন আসেন ৬০–৭০ লাখ পর্যটক। বেশির ভাগ পর্যটক একবারের জন্য হলেও সৈকতে আসেন। পর্যটকেরা সৈকতে নামার সময় বালিয়াড়িতে ঝুপড়ি দোকানের বস্তি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে নানা অপরাধও ঘটে। ঝুপড়ি মুক্ত হওয়ায় এখন সৈকতের চেহারা পাল্টে গেছে। এতে পর্যটকেরা নতুন রূপ দেখতে পাবেন কঙবাজারের। পাশাপাশি সমুদ্রের দূষণও কমবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কঙবাজার জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম এরশাদ ও সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, তিন দশক ধরে সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টের বালিয়াড়ি দখল করে পাঁচ শতাধিক দোকানপাট নির্মাণ করে কোটি টাকার বাণিজ্য করা হচ্ছে। সরকার পরিবর্তন হলে দোকানপাটের মালিকানাও পরিবর্তন হয়। উচ্ছেদও হয়। কিন্তু আবার সৈকত দখল করে দোকান গড়ে ওঠে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন সৈকতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। সে কারণে ভবিষ্যতে কোনো দখলদারকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সুগন্ধা পয়েন্টে স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

এদিকে দোকানদাররা জানান, তাদের শেষ সম্ভল এই দোকানগুলো। নানাভাবে টাকা দিয়ে তারা দোকানগুলো পেয়েছেন। দোকান উচ্ছেদ করায় পরিবার–পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে তাদের।

এ ব্যাপারে সুগন্ধা সৈকতের শামুক–ঝিনুক ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা কোনো দখলদার নই। জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়ে সরকারি রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করে আসছি। তিনি বলেন, ‘আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। পুনবার্সনের দাবি জানাই।’

কঙবাজার–৩ আসনের সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলাপ–আলোচনা হয়েছে– কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের পুনর্বাসন করা যায়। এই প্রেক্ষিতে তিনি গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নান ও পুলিশ সুপার একে এম সাজিদুর রহমানকে সাথে নিয়ে উচ্ছেদ করা স্থান পরিদর্শন করেন। এসময় দোকানদার ও সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে মালিক সমিতির সভাপতি ও যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এমপি লুৎফুর রহমান কাজল মহোদায় আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা আশা নিয়ে চেয়ে থাকবো– যেন আমাদের পুনর্বাসন করা হয়।’