নিজস্ব প্রতিবেদক: বোয়ালখালী থানার সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. হেলালকে নৃশংসভাবে হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত তিনজনকেই ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আটক করেছে র্যাব-৭। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মোহাম্মদ বখতিয়ার (২৭), মোঃ ইলিয়াস (৩৫) এবং মনির আহম্মদ প্রকাশ মেহেরাজ (২৬)। তারা সবাই বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা। আজ মঙ্গলবার (০৬ ডিসেম্বর) সকালে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম এ ইউসুফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানতে চাইলে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম এ ইউসুফ বলেন, ‘ঘটনার বিষয় শুনে আমাদের কাছে শুরুতে অবাক লেগেছিল পরে হত্যাকারী ইলিয়াছের সাথে কথা বললে ঘটনার বিবরনী জানতে পারি। ইলিয়াছ ও নিহত হেলালের সাথে সিএনজি বেচাকেনা নিয়ে লেনদেন ছিল। মূলত একটি সিএনজি বিক্রয়ের বকশিষ ৫ হাজারের ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্ঠি হয়। হেলাল ভাগাভাগির যতটাকা পাওয়ার কথা ছিল তার থেকে ১ হাজার টাকা কম পেয়েছিল। তা নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতিসহ মারপিট হয়। পরবর্তীতে ইলিয়াস প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর ইলিয়াস পূর্বশত্রুতার জের ধরে বাকি দুই আসামিকে ভাড়া করেন। এবং তারা তিনজন হেলাল উদ্দিনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তী গত নভেম¦রের ২৯ তারিখ সন্ধ্যার ৬টার নাগাদে ইলিয়াছ তার সিএনজি ক্রয়-বিক্রয়ের কথা বলে হেলালকে বোয়ালখালীর সিও অফিস এলাকায় ডাকেন। তার কথামতো হেলাল তার ভাড়ায় চালিত সিএনজি নিয়ে ঐ স্থানে যান। তখন ইলিয়াস হেলাল উদ্দিনের সিএনজিসহ তাকে নিয়ে সিএনজি ক্রয়ের কথা বলে বোয়ালখালীর ৯ নং আমুচিয়ার পোস্ট অফিস সড়ক থেকে একটু ভিতরে দুর্গম এলাকার একটি খালি জায়গায় নিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আরও একটি সিএনজি নিয়ে তার অপর সহযোগী বখতিয়ার ও মেহেরাজ হেলাল উদ্দিনের সিএনজির পিছন পিছন তাদের নিকট উপস্থিত হয়। সকলেই উল্লেখিত স্থানে একত্রিত হওয়ার পর মিস্ত্রী ইলিয়াস হেলাল উদ্দিনকে পূর্বের মারপিট করার হুমকি দেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তার উপর উপুর্যপরি শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এরপর বখতিয়ার কাঠের লাঠি দিয়ে হেলাল উদ্দিনের মাথায় আঘাত করে ও মেহেরাজ তাৎক্ষণিকভাবে তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে পিঠে ছুরিকাঘাত করে। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে ইলিয়াস সিএনজি থেকে হাতুড়ি নিয়ে এসে হেলালের মাথায় উপুর্যপরি আঘাত করে এবং সিএনজি চালক হেলাল উদ্দিনের মৃত্যু নিশ্চিত করে ইলিয়াস মৃত হেলাল উদ্দিনের সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইলিয়াসের দুই সহযোগি বখতিয়ার ও মেহেরাজ মিলে লাশটি যাতে কেউ না দেখে সে জন্য পাশের একটি ধানি জমির উপর রেখে তাদের সিএনজি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।’
তার লাশটি কখন পাওয়া গিয়েছিল এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তার লাশটি পেয়েছি ৩ তারিখ এবং ৪ তারিখ তার স্ত্রী নাজমা বেগম বোয়ালখালী থানায় এক অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০২। ঐ মামলার ধারা ছিল ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড।’
জানতে চাইলে নিহত হেলাল উদ্দিনের ভাই ওবাইদুল হক বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সাথে ইলিয়াছের লেনদেন ছিল। তা আদায় করতে গিয়ে সে হত্যার স্বীকার হন।’
নিহত হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, ‘ইলিয়াছ সিএনজি মিস্ত্রী। আমার স্বামী প্রায় সময় তার গ্যারেজে গাড়ির কাজ করাতো। সেই সুবাদে তাদের পরিচয়। আমার স¦ামীর গাড়ি দেখে তাদের লোভ আসছে। তারা চেয়েছিল, আমার স্বামীকে মেরে গাড়িটি বিক্রি করে দিতে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’
নিহত হেলাল উদ্দিন পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধূলা উপজেলার নিজহোগলা গ্রামে। সে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর জমাদারহাট এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো এবং সেখানে সিএনজি অটোরিকশা চালানোর পেশায় নিয়োজিত ছিলো। গত ২৯ নভেম্বর দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া পাওয়া যায়নি। গত ৩ ডিসেম্বর বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের একটি ধানক্ষেত থেকে হেলালের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।




