দি ক্রাইম ডেস্ক: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে চলতি বছরে ৯ মাসেই প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সুষ্ঠু তদারকি, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আহরণ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় থাকায় এই উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য এসেছে।
শনিবার (২ মে) বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম এ তথ্য জানান।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাপ্তাই হ্রদে আহরিত ৯ হাজার মেট্রিক টন মাছের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছিল ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। যা এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২২ কোটি টাকায়।
রাঙামাটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের গত ৫ বছরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৬ হাজার ৭৯৪ মেট্রিকটন মাছ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ হাজার ৫২৩ মেট্রিকটন মাছ থেকে রাজস্ব আসে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ হাজার ৪৯০ মেট্রিকটন মাছ থেকে ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ হাজার ৬৩৭ মেট্রিকটন মাছ থেকে শুল্ক এসেছে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮ হাজার ৯০০ মেট্রিকটন মাছ থেকে ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০ হাজার মেট্রিকটন মাছ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, এবার পুরো মৌসুম জুড়েই হ্রদে পানির পরিমাণ সহনীয় পর্যায়ে ছিল। এছাড়া বিএফডিসির মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৮৬ প্রজাতির মাছ রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে। এর মধ্যে দেশি প্রজাতির ৭০টি, বিদেশি ৭টি, চিড়ি প্রজাতির ৮টি এবং একটি কচ্ছপ প্রজাতির রয়েছে।
৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের মৌসুম গত বছরের ১ আগস্ট শুরু হয়ে এ বছরের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। সাধারণত প্রজনন মৌসুমে ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা থাকে। তবে এবার পানিস্বল্পতার কারণে ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।




