দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর আগেই যেন থমকে গেল দুটি কন্টেনারবাহী জাহাজের যাত্রা। সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে শুক্রবার সকালে বন্দরে ভেড়ার কথা থাকলেও তার আগেই মুখোমুখি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদেশি জাহাজ মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং দেশীয় জাহাজ এইচ আর তুরাগ। দুর্ঘটনার পর থেকেই জাহাজ দুটি বহির্নোঙরে নোঙর করে আছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং নিরাপদ চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এগুলোকে জেটিতে আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার আটকে পড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন আমদানিকারকরা।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সংঘর্ষে জাহাজ দুটির নিচের অংশে আঘাত লেগেছে। যদিও ক্ষতির পুরো মাত্রা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে পানির নিচের অংশে কোনো ফাটল বা গুরুতর ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা দেখাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মায়েরস্কের একটি জাহাজ এবং দেশীয় এইচআর লাইনের জাহাজের এমন দুর্ঘটনা বন্দরের জন্য নতুন করে ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মোহনায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ প্রবেশ করালে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে জেটিতে আনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সকালে জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য বহির্নোঙরে গিয়েছিলেন বন্দর পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। তবে কাছাকাছি পৌঁছে দুর্ঘটনার চিত্র দেখে তারা আর জাহাজ না এনে ফিরে আসেন। পরে ক্যাপ্টেন শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের মূল কাঠামোতে ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে, আর পানির নিচের অংশের অবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ–বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার পর থেকে বন্দরের বহির্নোঙরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। জাহাজ দুটি কবে নাগাদ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।




