বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান। যিনি নিজেও তিন সন্তানের জনক। একই এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালকের স্ত্রী হাসনা আক্তার রুমি (২৮)কে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে তারা নোটারির মাধ্যমে বিয়ে করে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেছেন বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী স্বামী মো. ওসমান গনি (৩৮) জানান, ২০১২ সালে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে তিনি হাসনা আক্তার রুমিকে বিয়ে করেন। দীর্ঘ ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান কৌশলে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্ত্রীকে একাধিকবার সতর্ক করলেও তিনি সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি।
ওসমান গনির দাবি, গত ২৮ এপ্রিল সকালে তার স্ত্রী ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মিজানুর রহমানের সঙ্গে পালিয়ে যান। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা এবং সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিতে গেলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে হুমকি দিচ্ছেন। “আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় আমার ক্ষতি হতে পারে, বলেন তিনি। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নারী সংশ্লিষ্ট অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ভিজিডি-ভিজিএফসহ সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, “কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করলে আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




