নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ‘বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে হলে প্রথমে তাদের দেশের মানুষের কাছে মাফ চাইতে হবে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এদেশের মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে বোমাবাজি করে দেশ চালোনো যায় না। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নেতারা তাদের (বিএনপি) উদ্দেশ্য হাসিল করতে দিবে না। তাই আমি আমাদের নেতাদের নির্দেশ দিচ্ছি আপনারা রাজপথে থাকবেন। আপনাদের সাথে নিয়েই এই সন্ত্রাসীদের আমরা শায়েস্তা করবো।আজ মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) নগরের কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আগামী ৪ ও ৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা উপলক্ষে যুবলীগের প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়া গর্বের বিষয়। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আপনারা ভেবে দেখুন কি ছিল বাংলাদেশ আর এখন কি হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে তিন বছরের মধ্যে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে। পলাতক আসামি, এখন আবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চায়। তাদের স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হবে না। তারা মিথ্যাবাদী দল। তারা মিথ্যা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী দলকে সন্ত্রাসী বললে তাদের গা জ্বালা করে। এ বিএনপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার বহু পরিকল্পনা ও চেষ্টা করেছে। কিন্তু আল্লাহ রক্ষা করেছেন। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার হাত ধরে সকলের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর আমাদেরকে কেউ ভিক্ষুকের জাতি বলে না।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল বিভিন্ন সমাবেশে দেশের বিদ্যুৎ ও রিজার্ভ নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। অথচ দেশে বর্তমান রিজার্ভ আছে ৪৯ বিলিয়ন ডলার। যা বিএনপির আমলে রিজার্ভ ছিল মাত্র সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। তিনি এখন মিথ্যা শেখানোর শিক্ষক। দেশের উন্নয়ন দেখে হুশ হারিয়ে ফেলছেন।
প্রস্তুতি সভায় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ।
সভাপতির বক্তব্যে পরশ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ অতুলনীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এমন কোনো গোত্রের মানুষ নাই যেখানে তাঁর সেবার সুফল পৌঁছায়নি। আজকে পদ্মা সেতুর পর চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল দৃশ্যমান এবং চালু হওয়ার জন্য অপেক্ষমান। এই টানেল দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। দেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করবে। টানেল নির্মাণ শেষ হলে চট্টগ্রাম শহর চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ এর মডেলে গড়ে তোলা হবে।
বিএনপি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কোনো নেতার রাষ্ট্র পরিচালনা করার কোনো যোগ্যতা নাই। না আছে খালেদা জিয়ার, না আছে তার গুণধর পুত্র তারেকের। দক্ষতা নাই বলে আজ তারা এ দেশকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে, হয়তো তাদের বিদেশি প্রভুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে। কিন্তু কোনো বিদেশি প্রভুদের নির্দেশনায় বা হস্তক্ষেপে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না। সরকারও পরিবর্তন হবে না।
এসময় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, এম শাহাদাত হোসেন তসলিম, আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম, আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু মনির মো. শহিদুল হক রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মশিউর রহমান চপল, মীর মোহাম্মদ মহি উদ্দিন, মো. আব্দুল হাই, আদিত্য নন্দী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিটসহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, আগামী ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে সফল করতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করেন যুবলীগ।




