#’আমরা চাই, বাবার হত্যাকারীরা যেন শাস্তি পায়’
সাতকানিয়া প্রতিনিধি: সাতকানিয়ায় চা দোকানী শাহাদাত হোসেন হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবীতে ‘সাতকানিয়ার সর্বস্তরের জনসাধারণ’ এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বাবা হত্যার বিচার চেয়ে শাহাদাতের ১১ বছর বয়সি সন্তান ইয়াছিন আরাফাত বলে, আমাদের এতিম করে দুনিয়া থেকে চলে গেছে বাবা। জানি, তিনি আর কোন দিন আমাদের মাঝে ফিরে আসবে না। আমরা ভাই ও বোনেরা আর পাবো না তার আদর ও স্নেহ। বাবা ছাড়া আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। এখন আমরা চার ভাই-বোন এতিম হয়ে গেছি। আমরা শুধু চাই, বাবার হত্যাকারীরা যেন শাস্তি পায়।
আজ রোববার (১০ মে) দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলাধীন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানীহাট চত্বরে সাতকানিয়ার সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে শাহাদাতের বড় সন্তান ইয়াছিন আরাফাত অশ্রু সজল কন্ঠে এসব কথা বলেন। এসময় মানববন্ধনে সংগ্রহকারীদের মধ্যে অনেককে নীরবে অশ্রু মুছতে দেখা গেছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্যদের সাথে শাহাদাত হোসেনের বড় সন্তান ইয়াছিন আরাফাত (১১) ছাড়াও মেঝ ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান (৮), সেজ মেয়ে শাহাদাত বিনতে আলাইনা (৫) ও ছোট ছেলে আবদুর রহমান (৮ মাস) উপস্থিত ছিল। তারমধ্যে বড় তিন ছেলে-মেয়েকে ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে পিতা হত্যার বিচারের দাবি জানাতে দেখা গেছে।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আলম, স্কুল শিক্ষক আবু তাহের, মো. জামাল, মিজানুর রহমান, নজরুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ মাসুম, নিহত শাহাদাতের মা ছায়েরা খাতুন ও ছোট ভাই মোবারক হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শাহাদাতকে জনসম্মুখে পিটিয়ে ও মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের হলেও মূল আসামিরা এখনো পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। চারটি নিষ্পাপ শিশুকে আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাদের বাবার হত্যার বিচার চাইতে হচ্ছে। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও সমাজের জন্য লজ্জাজনক।
বক্তারা আরও বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা পুলিশের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায় সেজন্য আসামিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আগামী এক সপ্তাহ পর বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
হত্যাকান্ডের পর থানা পুলিশ একজন এজাহারনামীয় ও সন্দেহভাজন একজনসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছেন বলে থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ইয়াবাসহ মোহাম্মদ কামাল ওরফে পিচ্চি কামাল নামে এক মাদক কারবারিকে সেনাবাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিয়েছে এমন সন্দেহে গত (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা এলাকায় একদল মুখোশধারী শাহাদাত হোসেনকে হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরেরদিন (২৭ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একইদিন রাতে নিহতের মা ছায়েরা খাতুন বাদী হয়ে ৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নিহত শাহাদাত উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ শফির ছেলে এবং পেশায় চা-পান বিক্রেতা।




