বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানে সৎ মাকে হত্যার দায়ে আলী আহম্মদ (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এছাড়াও তাঁকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।আজ সোমবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মো. ফজলে এলাহী ভূইয়া এ রায় দেন। ঘটনার ২৪ বছর পর এ রায় দেয়া হলো।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলি আহম্মদ (৫৪) জেলার লামা উপজেলার মেরাখোলা বেগুনঝিরি এলাকার রওশন আলী ছেলে।
রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্র পক্ষে সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর- পিপি) মো. ইকবাল করিম।
তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
আদালতে এজাহার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রওশন আলী দুটি বিয়ে করেছিলেন। পরে উভয় সংসারে দুই পরিবার মাঝে সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। ৩০ জুন ১৯৯৮ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় মাতামুহুরি নদীতে পানি আনতে যান ফাতেমা বেগম (৪০)। পানি নিয়ে ফেরার পথে আলী মোহাম্মদ ধারালো দা দিয়ে তাঁর সৎ মা ফাতেমা বেগমকে ঘাড়ে কোপ মারেন। এতে ঘার থেকে মাথা দু ভাগ হয়ে গেলে মাটিতে লুটে পড়েন ফাতেম বেগম। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান আসামি আলী। পরে ধাওয়া করলে মেরাখোলা স্কুল থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
সূত্রমতে, নিহত নারীর সন্তানগুলো ছোট এবং স্বামী বৃদ্ধ ও বধির হওয়ায় মৃতার আত্মীয় মো. সিরাজ বাদি হয়ে লামা থানায় এজাহার দায়ের করলে জি আর মামলা নং- ২২/১৯৯৮ (লামা থানার মামলা নং- ০৩, তারিখ- ৩০/০৬/১৯৯৮ইং) সূত্রপাত হয়। মামলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে দোষ স্বীকার করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট প্রেরণ করলে আসামি আলী আহাম্মদ ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করার প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক একখানা অভিযোগপত্র দাখিল করার পর মামলাটি বিচার নিষ্পত্তির জন্য বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হলে দায়রা মামলা নং-২৩/১৯৯৯ এর সূত্রপাত হয়।
পিপি অ্যাডভোকেট ইকবাল করিম বলেন, মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর উভয় পক্ষের যু্ক্তিতর্ক শুনানী শেষে আসামির জামিন বাতিল পূর্বক জেল হাজতে প্রেরণ করা হয় এবং সোমবার (২১ নভেম্বর) বিজ্ঞ দায়রা জজ মো. ফজলে এলাহী ভূইঁয়া কর্তৃক উক্ত মামলায় আলী আহাম্মদকে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় যাবজ্জীবন ও দশ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় দেন। এসময় আসামি আলী আহাম্মদ আদালতে হাজির ছিলেন। পরে আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলায় সরকার পক্ষে ছিলেন পিপি ইকবাল করিম। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদীন ভূঁইয়া।




