ব্যাঙে মুতলেও এখনপুরো নগরী পানির নীচে তলিয়ে যায়। অথচ ২০১৪ সাল থেকে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিন দফা সংশোধন করে ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এরই মধ্যে ৯১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিপরীতে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ১০ শতাংশও হয়নি। জমি অধিগ্রহণও শেষ করতে পারেনি তারা। প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে জমি অধিগ্রহণে। অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে জমির মালিকরা নিত্য হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) দুটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিন সংস্থার মোট চার প্রকল্পের ব্যয় ১০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। তবুও সুফল মিলছে না। উল্টো জলাবদ্ধতা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কচ্ছপগতির কারণেই চট্টগ্রাম নগরী ডুবে খবরের শিরোনাম হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সহসা পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান মিলবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এত বরাদ্দের পরও জলাবদ্ধতা নগরবাসীদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ভালোভাবে সমীক্ষা করলে এ ধরনের সমস্যা হতো না। জলাবদ্ধতা নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কিছু খাল প্রশস্ত করা যায়নি। সাবেক চেয়ারম্যান ভুমি অধিগ্রহণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজের বাহুবলে জমি প্রকল্পের জন্য কেড়ে নিয়েছিল। ভুমির মূল্য তিনগুনের স্থলে দেড়গুন দেওয়ার কথা থাকলেও এ টাকা নিতে ভূমি মালিকদের জুতার তলা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। সেখানেও আবার ১৫/ ২০% কমিশন দিতে হচ্ছে মূল্যায়ন শাখাকে। চুক্তি না করলে নথি গায়েব হয়ে যায়। বহুবার জমির মালিকরা প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। ইতোমধ্যে যাদেরকে ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা দিয়েছে সে নথিগুলো পরখ করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর দুটির মধ্যে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনর্খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২০১৭ সালে তিন বছর মেয়াদে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। জুন পর্যন্ত ২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫০ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদের সঙ্গে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালে সিডিএর ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার সড়কসহ বেড়িবাঁধের পাশাপাশি ১২টি খালের মুখে রেগুলেটর ও পাম্প হাউস নির্মাণের কথা ছিল। চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ। ইতোমধ্যে ব্যয় করা হয়েছে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দুটি প্রকল্পে সিডিএ এখন পর্যন্ত ব্যয় করেছে ৩৩৪০ কোটি টাকা। অথচ খালের দুই পাশে রিটেইনিং ওয়াল, খালের মুখে স্লুইস গেট, ব্রিজ-কালভার্ট, নতুন নালা নির্মাণ এবং খালের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার কাজের কোনোটিই শেষ করতে পারেনি। ১৭টি স্লুইস গেট নির্মাণের কথা থাকলেও তা এখনো শেষ হয়নি।

এ ছাড়া ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিস্কাশন উন্নয়ন’ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী। প্রকল্পের আওতায় ২৩টি খালের মুখে রেগুলেটর বসানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বসেনি। কর্ণফুলীর তীরে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ নিয়েও রয়েছে আপত্তি। প্রকল্পটিতে ৮৪ কোটি টাকা ব্যয় করার পর এখন সংশোধনের কাজ চলছে। বরাদ্দ সংকটে কাজ এখন কচ্ছপ গতিতে এগুচ্ছে।

ব্যাঙে মুতলেও এখনপুরো নগরী পানির নীচে তলিয়ে যায়। অথচ ২০১৪ সাল থেকে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিন দফা সংশোধন করে ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এরই মধ্যে ৯১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিপরীতে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ১০ শতাংশও হয়নি। জমি অধিগ্রহণও শেষ করতে পারেনি তারা। প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে জমি অধিগ্রহণে। অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে জমির মালিকরা নিত্য হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) দুটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিন সংস্থার মোট চার প্রকল্পের ব্যয় ১০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। তবুও সুফল মিলছে না। উল্টো জলাবদ্ধতা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কচ্ছপগতির কারণেই চট্টগ্রাম নগরী ডুবে খবরের শিরোনাম হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সহসা পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান মিলবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এত বরাদ্দের পরও জলাবদ্ধতা নগরবাসীদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ভালোভাবে সমীক্ষা করলে এ ধরনের সমস্যা হতো না। জলাবদ্ধতা নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কিছু খাল প্রশস্ত করা যায়নি। সাবেক চেয়ারম্যান ভুমি অধিগ্রহণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজের বাহুবলে জমি প্রকল্পের জন্য কেড়ে নিয়েছিল। ভুমির মূল্য তিনগুনের স্থলে দেড়গুন দেওয়ার কথা থাকলেও এ টাকা নিতে ভূমি মালিকদের জুতার তলা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। সেখানেও আবার ১৫/ ২০% কমিশন দিতে হচ্ছে মূল্যায়ন শাখাকে। চুক্তি না করলে নথি গায়েব হয়ে যায়। বহুবার জমির মালিকরা প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। ইতোমধ্যে যাদেরকে ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা দিয়েছে সে নথিগুলো পরখ করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর দুটির মধ্যে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনর্খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২০১৭ সালে তিন বছর মেয়াদে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। জুন পর্যন্ত ২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫০ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদের সঙ্গে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালে সিডিএর ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার সড়কসহ বেড়িবাঁধের পাশাপাশি ১২টি খালের মুখে রেগুলেটর ও পাম্প হাউস নির্মাণের কথা ছিল। চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ। ইতোমধ্যে ব্যয় করা হয়েছে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দুটি প্রকল্পে সিডিএ এখন পর্যন্ত ব্যয় করেছে ৩৩৪০ কোটি টাকা। অথচ খালের দুই পাশে রিটেইনিং ওয়াল, খালের মুখে স্লুইস গেট, ব্রিজ-কালভার্ট, নতুন নালা নির্মাণ এবং খালের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার কাজের কোনোটিই শেষ করতে পারেনি। ১৭টি স্লুইস গেট নির্মাণের কথা থাকলেও তা এখনো শেষ হয়নি।

এ ছাড়া ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিস্কাশন উন্নয়ন’ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী। প্রকল্পের আওতায় ২৩টি খালের মুখে রেগুলেটর বসানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বসেনি। কর্ণফুলীর তীরে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ নিয়েও রয়েছে আপত্তি। প্রকল্পটিতে ৮৪ কোটি টাকা ব্যয় করার পর এখন সংশোধনের কাজ চলছে। বরাদ্দ সংকটে কাজ এখন কচ্ছপ গতিতে এগুচ্ছে।