প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ডেমরা ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক বিদেশী মুদ্রাসহ প্রতারকচক্রের সদস্য জনি শেখ (৩৯)কে আটক করেছে। আজ শনিবার (১১ই জুন) সকাল ১১টায় ডিউটিকালে এক অপরিচিত লোক কনস্টবল মিলন হাওলাদারের নিকট এসে একটি ৫০ সৌদি রিয়েল মূল্যমানের কাগুজে নোট দেখিয়ে আরো ১২০০ টি নোট আছে ও বিক্রি করার কথা জিজ্ঞেস করে। সন্দেহভাজন হওয়ায় কনস্টবল মিলন ওই লোককে ডিউটিরত সার্জেন্ট ইয়াছিন মিনার কাছে নিয়ে যায়। ইয়াছিন মিনা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘাবড়ে যায়। সে জানায় এধরণের সৌদি রিয়াল বা আমেরিকান ডলার দেখিয়ে তারা লোকজনের কাছে বিক্রি করে। কথা বলার মধ্যেই প্রতারক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। সার্জেন্ট ইয়াসিন মিনা ও কনস্টবল মিলন হাওলাদার তাকে দৌড়ে ধরে ফেলে।
প্রতারককে আটক করে সার্জেন্ট ইয়াসিন এসি ট্রাফিক-ডেমরা জোন মো: ইমরান হোসেন মোল্লা ও টিআই জিয়াউদ্দিন খানকে জানায়। এরপর, তাকে ডেমরা চৌরাস্তায় আনা হলে এসি ও টিআই এর উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সে জানায়, বিদেশি মুদ্রা অর্থাৎ সৌদি রিয়াল কিংবা মার্কিন ডলারের লোভ দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে এসব বিদেশি টাকার আস্তরণযুক্ত সাদা কাগজের গোলাকার পিন্ড বা বান্ডেল বিক্রি করে। যা প্রতারণার শামিল ও দন্ডযোগ্য অপরাধ।
আটককৃত প্রতারক ব্যক্তির নাম জনি শেখ (৩৯)। জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক জনি আরো জানায়, সে রিয়াল-ডলার প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য। বছরখানেক ধরে এই চক্রে যোগ দিয়েছে। চক্রের মোট সদস্য ৭ জন। বাকি ৬ জন হলেন – মূল হোতা শিপন খান (৫২), রিয়াল-ডলার সরবরাহকারী রিপন খান (৪৩), আসাদ শেখ, টুটুল মোল্লা, মো: তুষার ও ইলু শেখ। তাদের সকলের অবস্থান বাড্ডা-রামপুরা এলাকায়। বিভিন্ন বাহিনীর নিম্ন পদমর্যাদার সদস্যদেরকেও উক্ত সিন্ডিকেট ইতোপূর্বে একাধিকবার প্রতারণার ফাদে ফেলেছে মর্মে জনি জানায়।
কিভাবে উক্ত প্রতারকচক্রে যোগ দিয়েছে জিজ্ঞাসা করলে আটককৃত জনি জানায়, সৌদি আরবে লোক পাঠানোর নাম করে মূল হোতা শিপন তার কাছ থেকে ৫লাখ টাকা নেয়। সব জেনে যাওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে শিপন জনিকে এ পদ্ধতিতে প্রতারণা করে ৫ লক্ষ টাকা আদায় করে দিতে বলে। পুলিশের কাছে সৌদি রিয়েল এনে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জনি বলে আগেও পুলিশের অনেক সদস্যের ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যের কাছে প্রতারণা করে বিদেশি মুদ্রা রিয়েল-ডলার-ইউরো বিক্রি করেছে।
পরবর্তীতে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে জিডি করে নিকটস্থ ডেমরা থানায় হস্তান্তর করা হয়। ডেমরা থানার ডিউটিরত এসআই আব্দুল মোনায়েম এর নিকট আটককৃত জনি শেখ, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ৫০ সৌদি রিয়েল মূল্যমানের একটি কাগুজে নোটসহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ সংক্রান্তে ডেমরা থানা কর্তৃক পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।
Post Views: 353




