রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে আরাফাত মিনহাসের স্মরণীয় অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। ব্যাটে ৫৮ বলে ৫৯ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৪০ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এর আগে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারানো পাকিস্তান এই জয়ে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। দ্বিতীয় ইনিংসে শিশিরের প্রভাব কাজে লাগানোর পরিকল্পনা থাকলেও মিনহাসের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তা ভেস্তে যায়। রাওয়ালপিন্ডির উইকেটে আগে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ৩০২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় পাকিস্তান। তবে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিকেরা। ইনিংসের প্রথম বলেই গাস অ্যাটকিনসনের বলে জো রুটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ফখর জামান। এরপর সনি বেকারের শর্ট বলে স্যাম কারানের ক্যাচে পরিণত হন সাইম আইয়ুব। বাবর আজম উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করলেও উইল জ্যাকসের অফ স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ৩৪ রানে বোল্ড হন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচে শতক হাঁকানো সালমান আগাও আদিল রশিদের ফুলটসে সুইপ করতে গিয়ে ১৬ রানে বিদায় নেন।
একপর্যায়ে ১৯তম ওভারে ৮১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন হাসান নেওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস। পঞ্চম উইকেটে দুজনে গড়ে তোলেন ৭৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ৭৪ বলের ইনিংসে নেওয়াজ দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করার পথে চারটি ছক্কা ও সাতটি চার মারেন। অধিনায়ক নেওয়াজ রশিদের বলে ছক্কা মেরে আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন এবং এর আগে ১৯ বছর বয়সী সাইদ বেগের সঙ্গেও ৫২ রান যোগ করেছিলেন। পরে ৪৬ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করে জেমি ওভারটনের ইয়র্কারে বোল্ড হন তিনি।
নেওয়াজের বিদায়ের পর ফাহিম আশরাফের সঙ্গে মাত্র ৪৯ বলে ৭২ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন মিনহাস। ফাহিম আশরাফ জ্যাকস ও রশিদের বলে টানা বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রান গতি বাড়ান। ইনিংসের শেষ বলে হারিস রউফ বাউন্ডারি মেরে দলীয় সংগ্রহকে ৩০০ পার করান। ইংল্যান্ডের ফিল্ডাররা অবশ্য বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন; নেওয়াজ ২৮ রানে থাকার সময় জ্যাকসের বলে সহজ ক্যাচ মিস করেন অ্যাটকিনসন। মিনহাসও তিনবার জীবন পান, যার মধ্যে ১২ রানে থাকার সময় স্যাম কারান ও উইকেটরক্ষক জর্ডান কক্স তার ক্যাচ মিস করেন। শেষ পর্যন্ত বেকারের বলে আউট হন মিনহাস। ইংল্যান্ডের পক্ষে ৬৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন বেকার।
৩০৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে সূচনাটা চমৎকার করেছিল ইংল্যান্ড। বেন ডাকেট ও টম ব্যান্টন প্রথম ১৫ ওভারের মধ্যে ৯১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। ব্যান্টন নাসিম শাহর এক ওভারেই ১৮ রান তোলেন, যার মধ্যে ছিল দুটি ছক্কা। তবে হারিস রউফের শর্ট বলে ৮৬ রান করা ডাকেট আউট হলে এবং ব্যান্টন ৫৭ রানে মিনহাসের বলে ক্যাচ দিলে ইংল্যান্ডের পতনের সূচনা হয়।
এরপরই বল হাতে তাণ্ডব শুরু করেন মিনহাস। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে ভেতরে ঢোকা চমৎকার একটি বলে বোল্ড করেন তিনি। নাসিম শাহ রুটকে বোল্ড করার পর রউফের বলে কারান আউট হলে কঠিন সমীকরণে পড়ে যায় সফরকারীরা। শেষ ১১১ বলে তাদের প্রয়োজন ছিল ১২৭ রান। উইল জ্যাকস ও জর্ডান কক্স কয়েকটি ছক্কা মারলেও মিনহাসের স্পিন আক্রমণের মুখে তা টিকতে পারেনি। মিনহাস ছয় বলের ব্যবধানে কক্সকে এলবিডব্লিউ ও ওভারটনকে ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন। এরপর জ্যাকসকে শাহিন আফ্রিদির ক্যাচে পরিণত করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। পরের বলেই আদিল রশিদকে এলবিডব্লিউ করলেও হ্যাটট্রিকটি করতে পারেননি।
শেষ উইকেটে গাস অ্যাটকিনসন ও সনি বেকারের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে সরাসরি থ্রোতে অ্যাটকিনসনকে রানআউট করে ম্যাচের ইতি টানেন মিনহাস। ফলে ৩৮.৪ ওভারে ২১৫ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ইংলিশ দলের সাতটি উইকেট পতনেই অবদান রেখে ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে অর্ধশতক ও পাঁচ উইকেট নেওয়া তৃতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ১৯ বছর বয়সী মিনহাস। সম্প্রতি শেষ নয় ম্যাচের ছয়টিতে জেতা ইংল্যান্ডের জন্য ব্রুক ও কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে এই হার এক বড় সতর্কবার্তা হয়ে এল।
১১.২ ওভার বাকি থাকতেই ২১৫ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম অর্ধশতক করার পর এবার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করলেন বাঁহাতি স্পিনার মিনহাস।
পরে ব্যাট ও প্যাডের মাঝখানের ফাঁক গলে বল স্টাম্পে আঘাত করলে বিদায় নিতে হয় তাকে।শ্রীলংকার বিপক্ষে আগের ম্যাচে ১০৭ রান করা সালমান আগা এবার থেমে যান মাত্র ১৬ রানে।




