দি ক্রাইম ডেস্ক: পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস রুদ্ধশ্বাস বন্দিদশা কাটিয়ে মুক্ত হওয়া বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন ও চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ ১৭ জন নাবিক দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলামসহ ১৬ জন আগামী ২১ জুলাই এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন। অন্যদিকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান ব্যক্তিগত কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ডারবান বন্দরে বর্তমানে জাহাজে থাকা সৌদি আরব থেকে আনা সার খালাসের কাজ চলছে। পণ্য খালাস শেষ হলে সেখানে নতুন করে চিনি বোঝাই করা হবে। এরপর জাহাজটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
ডারবান বন্দর থেকে মোবাইল ফোনে জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান জানান, যুদ্ধকালীন চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেও তারা সফলভাবে জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এখন সার খালাসের পর চিনি বোঝাই করে জাহাজটি মালয়েশিয়ার পথে রওনা হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি ও মানসিক চাপের কারণে প্রথম দফায় ১৭ জন নাবিক সাইন অফ করছেন। তাদের পরিবর্তে ১৪ জন নাবিক জাহাজের দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন।
এর আগে, মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি বাংলার জয়যাত্রা। চোখের সামনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক জাহাজ ও নিজেদের নিরাপদ রাখতে সক্ষম হন। দীর্ঘ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রচেষ্টার পর গত ২২ জুন হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পেয়ে জাহাজটি মুক্ত হয়।
মুক্ত হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর হয়ে গত ১৬ জুলাই জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দরে নিরাপদে নোঙর করে।
বিএসসির এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালির মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী নাবিকদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাই ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তারা অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব শেষ করে তারা দেশে ফিরছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ জুলাই ক্যাপ্টেনসহ ১৬ জন নাবিক ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



