ইফতেখার,নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কোর্ট হিল(পরীর পাহাড়)—যেখানে প্রতিদিন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত। জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর থাকায় এলাকাটি নগরীর অন্যতম ব্যস্ত প্রশাসনিক ও বিচারিক কেন্দ্র। কিন্তু পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীরা।
কোর্ট হিলে আইনজীবীদের জন্য নির্মিত একাধিক ভবন রয়েছে। সরকারি বিচার বিভাগের তালিকাতেও আইনজীবীদের চেম্বারের ঠিকানা হিসেবে আইনজীবী ভবন, এনেক্স-১, এনেক্স-২, শাপলা ভবন ও দোয়েল ভবনের নাম পাওয়া যায়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ভবনে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালতে আসা সাধারণ মানুষের গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে প্রতিনিয়ত সংকট তৈরি হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও সংবাদমাধ্যমে কোর্ট হিলের পাঁচটি আইনজীবী ভবনে গাড়ি রাখার জায়গা না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনগুলোর জন্য নির্ধারিত বা ব্যবহারের উপযোগী কিছু জায়গা পার্কিং হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে দোকান বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সিডিএ কার্যালয়ের পেছনের সীমানাপ্রাচীরসংলগ্ন ভবনগুলোর নিচের অংশ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। এসব জায়গা কীভাবে বরাদ্দ হয়েছে, সেগুলোর অনুমোদিত ব্যবহার কী এবং পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা আদৌ অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ফলে কোর্ট হিলে আসা বিচারপ্রার্থীদের অনেককেই গাড়ি রাখার জন্য আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন অনির্ধারিত স্থানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সড়কে যানজট বাড়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বিভাগীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর এবং আদালত থাকায় গাড়ির চাপও তুলনামূলক বেশি।
বিচারপ্রার্থীদের প্রশ্ন—যে স্থানে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আসার কথা, সেই জায়গাতেই যদি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে কীভাবে?
আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে, আইন সবার জন্য সমান হলেও কোর্ট হিলের মতো একটি বিচারিক এলাকায় নিয়ম-শৃঙ্খলা ও জায়গার ব্যবহার নিয়ে কেন এত প্রশ্ন থাকবে? পার্কিংয়ের জন্য বরাদ্দ জায়গা যদি সত্যিই দোকান বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, বরাদ্দের শর্ত এবং ব্যবহারের বৈধতা প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
নাগরিকদের দাবি, কোর্ট হিলের সামগ্রিক যানবাহন ও পার্কিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে আইনজীবী ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা, পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং সেসব স্থানের বর্তমান ব্যবহারও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, কোর্ট হিলকে শুধু আদালত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নাগরিকবান্ধব একটি এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




