ইফতেখার, নগর প্রতিবেদক: নগরজুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকার পাশে উন্মুক্ত ডাস্টবিনে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা খাবারের উচ্ছিষ্টকে কেন্দ্র করে এক জায়গায় জড়ো হচ্ছে বিপুলসংখ্যক বেওয়ারিশ কুকুর। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক। অনেক এলাকায় রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নগরবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা এবং নির্দিষ্ট সময়ে ডাস্টবিনের বর্জ্য অপসারণ না করার কারণে উন্মুক্ত স্থানে খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকছে। এসব বর্জ্যকে কেন্দ্র করে কুকুরের দল ঘোরাফেরা করায় পথচারীদের চলাচলে বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে। কখনো কখনো কুকুর তেড়ে আসার ঘটনাতেও আতঙ্কিত হচ্ছেন নগরবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সমস্যাটির মূল কারণ—উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা ও খাবারের উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে থাকা—বন্ধ করা জরুরি। শুধু কুকুরের টিকাদান নয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও নিয়মিত করার দাবি তাদের।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চলতি ২০২৬ সালের শুরুতে নগরীর ১৫ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করে। নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি, কুকুরের কামড় এবং জলাতঙ্কের ঝুঁকি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে বলেও সে সময় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে নগরবাসীর প্রশ্ন, কুকুরের টিকাদানের পাশাপাশি উন্মুক্ত ডাস্টবিন ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না। কারণ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ করা না হলে খাবারের উচ্ছিষ্টের সহজলভ্যতা বেওয়ারিশ কুকুরের জটলা বাড়ানোর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সরাসরি করপোরেশনের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
নগরবাসীর দাবি, প্রতিটি এলাকায় উন্মুক্ত ডাস্টবিনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ও ঢাকনাযুক্ত বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ, খাবারের উচ্ছিষ্ট যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা এবং বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।
তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত শুধু জনদুর্ভোগই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই নগরবাসীর নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ এখন জরুরি।




