নিজস্ব প্রতিবেদক: সিডিএ প্ল্যান ছাড়া অবৈধভাবে ইউনিট বাড়িয়ে গাজী মো. হাশেম ২ তলা থেকে ১০ তলার প্রতিটি ফ্ল্যাট ৫০/৬০ লাখ টাকা বিক্রি করে অবৈধভাবে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। নির্মিত ভবনটির সম্পত্তি ও তার নয়,সে প্রকৃত ভুমিদস্যু ও জবরদখলকারী। এ সম্পত্তির মালিকানা নিয়েও আদালতে চলছে একাধীক মামলা।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকাগুলোতে সাবেক সরকারের আমলে অবৈধভাবে নির্মিত ব্যতয়কৃত ভবনগুলোর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের চতুর চেয়ারম্যান প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহন করছে। ইতোমধ্যে নগরের যানজট নিরসনকল্পে তিনি যে মহতি উদ্যোগ হাতে নিয়েছে তা কি ঘুসখোর ও লুলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবে রুপ দিতে পারবে? নগরে এ ধরনের অসংখ্য ভবন দন্ডায়মান রয়েছে। এসব ভবনকে পুঁজি করে ইমারত পরিদর্শকদের ব্যবসা রমরমা। প্রতিকারের জন্য সিডিএতে পাঁচশত কুড়ি টাকা রাজস্ব তহবিলে জমা দিয়েও আইনি জঠিলতা ও স্তরে স্তরে ঘুষ পরিশোধ করার কারণে আবেদনকারীদের জুতারতলা ক্ষয় হওয়ার পরেও পাচ্ছেনা কাঙ্খিত সেবা।
সুত্রে জানা গেছে, বায়েজীদ বোস্তামী থানধীন আর এস ৫৭৩ দাগের ভুমিতে সিডিএ থেকে বেইসমেন্টসহ প্রতি ফ্লোরে ৪ ইউনিট দেখিয়ে “আখিল টাওয়ার” নামীয় একটি ১০ তালা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেয়। ভবন মালিক গাজী মোহাম্মদ হাশেম সিডিএ কর্তৃক অনুমোদিত নকশার সম্পূন্ন ব্যত্যয় ঘটিয়ে ৪ ইউনিটের স্থলে ৫ ইউনিট করে ভবনটি নির্মাণ করে জাল নকশা তৈরীর মাধ্যমে ফ্লাটগুলো বিক্রী করেন। বিক্রী করলেও ফ্লাট গ্রহিতাদের রেজিস্টারী দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে অনুমোদিত নকশার অতিরিক্ত ফ্লাটগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুত্রটি আরো জানান,নকশা অনুমোদনের সময় ভুমির প্রকৃত মালিক মো.বদিউল আলম তর্কিত জায়গার অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য আবেদন করা সত্বেও তৎকালীন অথরাইজড অফিসার বিষয়টি আমলে না নিয়ে ভবনের তর্কিত মালিক গাজী মোহাম্মদ হাশেমকে ভবন নির্মাণে উৎসাহ প্রদান করেন। পরবর্তীত সময়ে প্রকৃত জায়গার মালিক মো.বদিউল আলমের আবেদন এর সত্যতা খুঁজে পাওয়ায় ৬(১)ও ৬(২)ধারার বিধান অনুযায়ী ভবন ভাঙ্গার চুড়ান্ত নোটিশ জারী করেন তৎকালীন অথরাইজড অফিসার মো.ইলিয়াস।
এ বিষয়ে অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ প্রকাশ টিপু এ প্রতিবেদককে জানান,ভবনটির ব্যত্যয়কৃত অংশ ও বর্ধিত রুপান্তর ফ্লাটগুলো আইনি জঠিলতায় অপসারণ করা এ মুহুর্ত্বে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মহামান্য আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে।
ফ্লাট মালিক মো.হাশেম এর মুঠোফোনে একাধীকবার ডায়াল করে তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
আখিল টাওয়ারের ফ্লাট ক্রয়কারী জাহিদ আহম্মদ এ প্রতিবেদকে জানান,আমরা তার কাজ থেকে ৫০/৬০ লাখ টাকা দিয়ে ফ্লাট ক্রয় করে ভবনের ছাদ ব্যবহার করতে পারিনা। কারণ মো.হাশেম ছাদের অর্ধেকংশে ভবন নির্মাণ করে সে বসবাস করছে। এ অংশটি অতিসত্বর ভেংগে ফ্লাটে বসবাসকারীদের ছাদ ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করা চউকের দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, এখন শোনা যাচ্ছে মো.হাশেম জনৈক বদিউল আলমের সম্পত্তি জবর দখল করে এ ভবন অবৈধভাবে নির্মাণ করেছে।সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট আমরা এর প্রতিকার চাই।




