নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজবাড়ী জেলার বর্তমান কালুখালী উপজেলার রায়পুর গ্রামে জন্ম কমান্ডার আবু হোসেন সরদারের। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা কমান্ডার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ২ নং সেক্টরে সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরীর নেতৃত্বে যুদ্ধ করেন। তিনি কালুখালী, পাংশা অঞ্চলের সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।
কমান্ডার আবু হোসেন সরদার ভারত থেকে উচ্চতর গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। অতপর তিনি ‘হোসেন বাহিনী ‘ গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে তার গেরিলা বাহিনী নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন। কমান্ডার আবু হোসেন সরদার বেশ কয়েকটি সন্মূখ সমরেও যুদ্ধ করেন এবং সে যুদ্ধে সফল হন।
১৯৭১ সালের পূর্ব থেকেই বাংগালীর অধিকার আদায় আন্দোলনে তৎসময়ের গোয়ালন্দ মহকুমার রাজবাড়ী অঞ্চলের প্রত্যেকটা গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি ছিলেন একজন সমাজ হিতৈষী মানুষ।
কমান্ডার আবু হোসেন সরদার রাজবাড়ী জেলার কালুখালী কলেজ এবং কালুখালী থানার একমাত্র স্বপ্নদ্রষ্টা। একটি মহল নানান সময় কমান্ডার আবু হোসেন সরদারের অবর্তমানে কালুখালী কলেজ এবং কালুখালী থানার স্বপ্নদ্রষ্টা বনে যাবার এবং বানানোর পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত, যা অত্যন্ত দু:খজনক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ” কমান্ডারকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ পাবার পেছনে সাবেক এক এমপির ইন্ধন ছিল। তাছাড়া ভিন্ন দলের কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং স্থানীয় কিছু দালালরাই এর জন্য দায়ী। ”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে কারণে তাঁর সমাধিস্থলের গা-ঘেষা স্টেডিয়ামের নামকরণ হয়েছিল সাবেক এক এমপির নামে। যদিও তিনি কালুখালীর বাসিন্দা ছিলেন না। শুধুমাত্র তার মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করাই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য বলে স্থানীয়দের মত এই মুক্তিযোদ্ধাও মনে করেন।
কমান্ডার আবু হেসেন সরদার মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশ গঠনে মনোনিবেশ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি কালুখালী কলেজ এবং থানার জন্যে আন্দোলন শুরু করেন এবং এই দাবীতে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ শরু করেন। ১৯৭৩ সালে আততায়ীর গুলিতে আহত হয়ে সেই যাত্রায় কলেজ এবং থানা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিরতি দিয়ে ১৯৮৪ সালের দিকে পুনরায় কলেজ এবং থানা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করেন। নানান বিদ্রুপ এবং অসহযোগীতাকে উপেক্ষা করেই তিনি তার আন্দোলন চালিয়ে যান। যার ফলশ্রুতিতে কালুখালী কলেজ ( পরবর্তীতে কালুখালী সরকারি ডিগ্রী কলেজ ) এবং কালুখালী থানা ( পরবর্তীতে যা কালুখালী উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। )
কমান্ডার ছিলেন সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বান্ধব মানুষ। মহান মুক্তিযুদ্ধের এই অকুতোভয় সৈনিক কমান্ডার আবু হোসেন সরদার ১৯৪৩ সালের ১০ জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার জন্ম এবং মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য ভাবে স্থানীয় প্রশাসন বা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পালন না করায়, মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম নিচ্ছে যা একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এই বিষয়ে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ফোনে এবং খুদে বার্তার মাধ্যমে। তার পক্ষ থেকে এই সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে এলাকাবাসীর জোর দাবী তাঁর স্মৃতি রক্ষায় প্রশাসন যেন ভূমিকা রাখে।




