*টার্গেট বেড়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা,

*শুল্ক ফাঁকি-কম আমদানির অনিশ্চয়তা

রাজিব শর্মা: দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম কাস্টমসের সামনে এবার আরও বড় রাজস্ব সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ। গত অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলেও নতুন অর্থবছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে ব্যবসায়িক পরিবেশ, আমদানি পরিস্থিতি এবং শুল্ক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন না এলে এ লক্ষ্যে অর্জন কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসকে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। অথচ সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ঘাটতি ছিল প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় নতুন অর্থবছরে আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় তা অর্জনের সক্ষমতা নিয়ে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পণ্যেও ভুল ঘোষণা, আন্ডার-ইনভয়েসিং, এইচএস কোডে কারসাজি, শুল্ক ফাঁকি এবং বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক অনিয়ম। এসব বন্ধ করা গেলে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, নতুন অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাস্টমস সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ চালান শনাক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধি এবং শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসাকে উৎসাহিত করে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট আমদানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশ পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বছরে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকার পণ্য এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। এসব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক), সম্পূরক শুল্ক এবং অন্যান্য কর থেকেই সরকারের অন্যতম বড় রাজস্ব আসে। নতুন অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে শুল্ক, মূসক, সম্পূরক শুল্ক এবং আইসিডি কার্যক্রম থেকে পৃথকভাবে রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেবল লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালেই রাজস্ব বাড়ে না। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের সংকট, উচ্চ সুদের হার, শিল্প খাতের ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আগের তুলনায় কম কাঁচামাল আমদানি করছে। ফলে রাজস্ব আদায়ের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ প্রয়োজন। ব্যবসার বাস্তবতা বিবেচনা না করে শুধু রাজস্বেও লক্ষ্য নির্ধারণ করলে কাঙ্খিত ফল পাওয়া কঠিন। নীতিগত স্থিতিশীলতা, সহজ আমদানি প্রক্রিয়া এবং কর কাঠামোর পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা সম্প্রসারণ হলে স্বাভাবিকভাবেই আমদানি ও উৎপাদন বাড়বে, আর তার সঙ্গে রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিকে কেন্দ্র করে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ে এবং বন্দরেও চাপ সৃষ্টি হয়। আইন মেনে দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমিয়ে ঝুঁকিভিত্তিক পরীক্ষা, ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। অর্থনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব ঘাটতির পেছনে শুধু শুল্ক ফাঁকি নয়, আমদানি কমে যাওয়া, কর অব্যাহতি, শিল্প উৎপাদনের ধীরগতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই রাজস্ব কৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, কাস্টমসে সম্পূর্ণ অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্ক্যানিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং শুল্ক ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো গেলে রাজস্ব আহরণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

এদিকে চলতি অর্থবছরে দেশের ১৮টি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের জন্য এনবিআর উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনির্ভর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ওপর।

এখন দেখার বিষয়, রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব নীতি, শুল্ক ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে এনে চট্টগ্রাম কাস্টমস নতুন অর্থবছরের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ চারটি বিষয়েই নির্ভর করবে দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আদায়কারী কাস্টমস হাউসের আগামী দিনের সাফল্য।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক কবির আহমেদ বলেন, সরকারের উচ্চ শুল্কহারের কারনে অনেক আমদানিকারকরা পন্য আমদানি থেকে পিছিয়েছে। ভালো ভালো ও ম্যাটারিয়াল নিয়ে কাজ করে এমন ব্যবসায়ীদের অনেকেই সরে পড়ছে। তার মধ্যে বিগত সরকার পরিবর্তনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে অধিকাংশ আমদানিকারক ব্যবসা বিমুখ হয়েছে। এখন সরকার শুধু বড় রাজস্ব সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ দিলে হবে না; পাশাপাশি আমদানি বানিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। শুল্কহার কমাতে হবে। ব্যবসায়ীদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। তাহলেই এই উচ্চভিলাসী লক্ষ্যমাত্রায় সফল হওয়া সম্ভব।

*টার্গেট বেড়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা,

*শুল্ক ফাঁকি-কম আমদানির অনিশ্চয়তা

রাজিব শর্মা: দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম কাস্টমসের সামনে এবার আরও বড় রাজস্ব সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ। গত অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলেও নতুন অর্থবছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে ব্যবসায়িক পরিবেশ, আমদানি পরিস্থিতি এবং শুল্ক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন না এলে এ লক্ষ্যে অর্জন কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসকে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। অথচ সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ঘাটতি ছিল প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় নতুন অর্থবছরে আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় তা অর্জনের সক্ষমতা নিয়ে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পণ্যেও ভুল ঘোষণা, আন্ডার-ইনভয়েসিং, এইচএস কোডে কারসাজি, শুল্ক ফাঁকি এবং বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক অনিয়ম। এসব বন্ধ করা গেলে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, নতুন অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাস্টমস সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ চালান শনাক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধি এবং শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসাকে উৎসাহিত করে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট আমদানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশ পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বছরে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকার পণ্য এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। এসব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক), সম্পূরক শুল্ক এবং অন্যান্য কর থেকেই সরকারের অন্যতম বড় রাজস্ব আসে। নতুন অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে শুল্ক, মূসক, সম্পূরক শুল্ক এবং আইসিডি কার্যক্রম থেকে পৃথকভাবে রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেবল লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালেই রাজস্ব বাড়ে না। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের সংকট, উচ্চ সুদের হার, শিল্প খাতের ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আগের তুলনায় কম কাঁচামাল আমদানি করছে। ফলে রাজস্ব আদায়ের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ প্রয়োজন। ব্যবসার বাস্তবতা বিবেচনা না করে শুধু রাজস্বেও লক্ষ্য নির্ধারণ করলে কাঙ্খিত ফল পাওয়া কঠিন। নীতিগত স্থিতিশীলতা, সহজ আমদানি প্রক্রিয়া এবং কর কাঠামোর পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা সম্প্রসারণ হলে স্বাভাবিকভাবেই আমদানি ও উৎপাদন বাড়বে, আর তার সঙ্গে রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিকে কেন্দ্র করে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ে এবং বন্দরেও চাপ সৃষ্টি হয়। আইন মেনে দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমিয়ে ঝুঁকিভিত্তিক পরীক্ষা, ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। অর্থনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব ঘাটতির পেছনে শুধু শুল্ক ফাঁকি নয়, আমদানি কমে যাওয়া, কর অব্যাহতি, শিল্প উৎপাদনের ধীরগতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই রাজস্ব কৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, কাস্টমসে সম্পূর্ণ অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্ক্যানিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং শুল্ক ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো গেলে রাজস্ব আহরণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

এদিকে চলতি অর্থবছরে দেশের ১৮টি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের জন্য এনবিআর উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনির্ভর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ওপর।

এখন দেখার বিষয়, রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব নীতি, শুল্ক ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে এনে চট্টগ্রাম কাস্টমস নতুন অর্থবছরের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ চারটি বিষয়েই নির্ভর করবে দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আদায়কারী কাস্টমস হাউসের আগামী দিনের সাফল্য।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক কবির আহমেদ বলেন, সরকারের উচ্চ শুল্কহারের কারনে অনেক আমদানিকারকরা পন্য আমদানি থেকে পিছিয়েছে। ভালো ভালো ও ম্যাটারিয়াল নিয়ে কাজ করে এমন ব্যবসায়ীদের অনেকেই সরে পড়ছে। তার মধ্যে বিগত সরকার পরিবর্তনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে অধিকাংশ আমদানিকারক ব্যবসা বিমুখ হয়েছে। এখন সরকার শুধু বড় রাজস্ব সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ দিলে হবে না; পাশাপাশি আমদানি বানিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। শুল্কহার কমাতে হবে। ব্যবসায়ীদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। তাহলেই এই উচ্চভিলাসী লক্ষ্যমাত্রায় সফল হওয়া সম্ভব।