*পরিচয়ের মুখোশকে করেছিলেন চাঁদাবাজির মূল হাতিয়ার

*বিভ্রান্তকর ও ভুল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতো কথিত সৎ কর্মকর্তা এ জি এম সেলিম

নগর প্রতিবেদক: পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ওয়াছি উদ্দীনের খাস ব্যক্তি পরিচয়ে ​চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ)তে তার পদচারণা ছিল মুখর। তখন তার ভয়ে ছিল চউকের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তটস্থ । তার মূল কাজ ছিল ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ভুয়া দরখাস্ত করে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে সমঝোতা করা।

এ প্রসঙ্গ নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাস(ডলফিন) সময়কালে সিডিএ’র কর্মচারীদের সাথে ইমরানের চেয়ারম্যান দপ্তরের ছবি তোলা নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। তাকে কর্মচারীরা বেধরক পিটুনি দিলে ইমরান বহিরাগত সহ চউকের ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা বছর তিনেক ধরে চলমান ছিল। পরে মামলার অবস্থা বেগতিক দেখে মামলার আপোস মিমাংসা করেন(যার মামলা নং-১৬(১১)২০২৩,জি আর মামলা নং-৫৭৮/২০২৩,ধারা-৩২৩,৫০৬ দন্ডবিধি)। মামলাটির আপোস মিমাংসা মূলে নিস্পত্তি হয় চলতি বছরের এপ্রিলে।

সুত্রে জানা গেছে, ২০২৪ এর জুলাই গনাভ্যুথানে তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। কারণ তার পিতা মো. সোলইমান  জামাল খান ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পিতার পদের দাপটে পুত্র এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। সিডিএতে তাকে বিভ্রান্তকর ও ভুল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতো গিরগিটির মতো রং বদলানো কথিত সৎ কর্মকর্তা এ জি এম সেলিম।

সিডিএতে এ ব্যক্তির কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব না থাকলেও তবুও দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠানটির করিডোরে ছিল তার অবাধ বিচরণ। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি এই দপ্তরের দরজাকে তিনি বানিয়েছিলেন নিজের প্রভাব বিস্তারের মঞ্চ, আর পরিচয়ের মুখোশকে করেছিলেন চাঁদাবাজির মূল হাতিয়ার।

​কখনও নিজেকে সাংবাদিক, কখনও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার কাছের লোক, কখনও মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠজন, আবার কখনও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব খাটাতেন ও অনৈতিক সুবিধা নিতেন।

সিডিএ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, নামের চেয়ে ‘পরিচয়ের বহরই’ ছিল এই ইমরান হাসানের বড় শক্তি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিডিএ’র বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বহুতল ভবনের নকশা (প্ল্যান) অনুমোদন, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক নানা বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপ করতেন ইমরান হাসান। সিডিএ’র কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও নিয়মিত তাকে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দেখা যেত।

​অভিযোগ রয়েছে, সিডিএ’র আওতাধীন বিভিন্ন ভবনের বিরুদ্ধে প্রথমে ভুয়া বা অতিরঞ্জিত অভিযোগ দাখিল করতেন ইমরান। এরপর সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসারদের ওপর কৌশলে চাপ সৃষ্টি করে সেই অভিযোগ প্রত্যাহার কিংবা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে ভবন মালিকদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা (চাঁদা) দাবি করতেন।

সিডিএর একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচিত বিজয় কিসান গং, গোপীনাথ গং ও সজল গংয়ের ভবনসহ কয়েকটি বড় স্থাপনা নিয়েও তিনি এ ধরনের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের তৎপরতা চালিয়েছেন।

​সিডিএ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নকশা-সংক্রান্ত অনিয়ম ও তদবির বাণিজ্যের নেপথ্যে অন্যতম সক্রিয় ব্যক্তি ছিলেন এই ইমরান হাসান। তার কথামতো কাজ না হলে তিনি নিজেই বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সিডিএ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠাতেন। তার এই ‘দরখাস্ত বাণিজ্যে’র কারণে অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বিব্রত ও অতিষ্ঠ।

সূত্রটি জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও ইমরান হাসান নিজের পরিচয় বদলে নতুন প্রভাব বলয় তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যান। এই দফায় তিনি নিজেকে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের খালাতো ভাইয়ের ছেলে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মহলে তদবির ও সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইমরান হাসানের বিরুদ্ধে সিএমপির কোতোয়ালী থানায় একটি এবং চকবাজার থানায় দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলার ৬২ নম্বর আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান আইনি অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

​এর আগে ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সিডিএ কার্যালয়ে দালালি ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি ঘটনায় তিনি প্রকাশ্যেই মারধরের শিকার হন, যা সে সময় সিডিএতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

*পরিচয়ের মুখোশকে করেছিলেন চাঁদাবাজির মূল হাতিয়ার

*বিভ্রান্তকর ও ভুল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতো কথিত সৎ কর্মকর্তা এ জি এম সেলিম

নগর প্রতিবেদক: পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ওয়াছি উদ্দীনের খাস ব্যক্তি পরিচয়ে ​চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ)তে তার পদচারণা ছিল মুখর। তখন তার ভয়ে ছিল চউকের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তটস্থ । তার মূল কাজ ছিল ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ভুয়া দরখাস্ত করে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে সমঝোতা করা।

এ প্রসঙ্গ নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাস(ডলফিন) সময়কালে সিডিএ’র কর্মচারীদের সাথে ইমরানের চেয়ারম্যান দপ্তরের ছবি তোলা নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। তাকে কর্মচারীরা বেধরক পিটুনি দিলে ইমরান বহিরাগত সহ চউকের ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা বছর তিনেক ধরে চলমান ছিল। পরে মামলার অবস্থা বেগতিক দেখে মামলার আপোস মিমাংসা করেন(যার মামলা নং-১৬(১১)২০২৩,জি আর মামলা নং-৫৭৮/২০২৩,ধারা-৩২৩,৫০৬ দন্ডবিধি)। মামলাটির আপোস মিমাংসা মূলে নিস্পত্তি হয় চলতি বছরের এপ্রিলে।

সুত্রে জানা গেছে, ২০২৪ এর জুলাই গনাভ্যুথানে তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। কারণ তার পিতা মো. সোলইমান  জামাল খান ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পিতার পদের দাপটে পুত্র এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। সিডিএতে তাকে বিভ্রান্তকর ও ভুল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতো গিরগিটির মতো রং বদলানো কথিত সৎ কর্মকর্তা এ জি এম সেলিম।

সিডিএতে এ ব্যক্তির কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব না থাকলেও তবুও দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠানটির করিডোরে ছিল তার অবাধ বিচরণ। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি এই দপ্তরের দরজাকে তিনি বানিয়েছিলেন নিজের প্রভাব বিস্তারের মঞ্চ, আর পরিচয়ের মুখোশকে করেছিলেন চাঁদাবাজির মূল হাতিয়ার।

​কখনও নিজেকে সাংবাদিক, কখনও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার কাছের লোক, কখনও মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠজন, আবার কখনও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব খাটাতেন ও অনৈতিক সুবিধা নিতেন।

সিডিএ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, নামের চেয়ে ‘পরিচয়ের বহরই’ ছিল এই ইমরান হাসানের বড় শক্তি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিডিএ’র বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বহুতল ভবনের নকশা (প্ল্যান) অনুমোদন, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক নানা বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপ করতেন ইমরান হাসান। সিডিএ’র কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও নিয়মিত তাকে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দেখা যেত।

​অভিযোগ রয়েছে, সিডিএ’র আওতাধীন বিভিন্ন ভবনের বিরুদ্ধে প্রথমে ভুয়া বা অতিরঞ্জিত অভিযোগ দাখিল করতেন ইমরান। এরপর সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসারদের ওপর কৌশলে চাপ সৃষ্টি করে সেই অভিযোগ প্রত্যাহার কিংবা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে ভবন মালিকদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা (চাঁদা) দাবি করতেন।

সিডিএর একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচিত বিজয় কিসান গং, গোপীনাথ গং ও সজল গংয়ের ভবনসহ কয়েকটি বড় স্থাপনা নিয়েও তিনি এ ধরনের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের তৎপরতা চালিয়েছেন।

​সিডিএ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নকশা-সংক্রান্ত অনিয়ম ও তদবির বাণিজ্যের নেপথ্যে অন্যতম সক্রিয় ব্যক্তি ছিলেন এই ইমরান হাসান। তার কথামতো কাজ না হলে তিনি নিজেই বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সিডিএ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠাতেন। তার এই ‘দরখাস্ত বাণিজ্যে’র কারণে অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বিব্রত ও অতিষ্ঠ।

সূত্রটি জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও ইমরান হাসান নিজের পরিচয় বদলে নতুন প্রভাব বলয় তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যান। এই দফায় তিনি নিজেকে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের খালাতো ভাইয়ের ছেলে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মহলে তদবির ও সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইমরান হাসানের বিরুদ্ধে সিএমপির কোতোয়ালী থানায় একটি এবং চকবাজার থানায় দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলার ৬২ নম্বর আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান আইনি অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

​এর আগে ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সিডিএ কার্যালয়ে দালালি ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি ঘটনায় তিনি প্রকাশ্যেই মারধরের শিকার হন, যা সে সময় সিডিএতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।