ঢাকা অফিস: “শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমি তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ‘৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহিদ হন। আজকের এই বেদনাবিধুর দিনে আমি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের অসামান্য অবদানকে সশ্রদ্ধচিত্তে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ইতিহাসে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় নাম। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে এই বীর সেনানী পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তাঁর এই আহ্বান ও স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে দেখিয়েছিল আলোর পথ। সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য বীরত্ব, রণকৌশল ও অবদানের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, নাগরিক ও বাক স্বাধীনতা হরণ, দেশজুড়ে নৈরাজ্য, দুর্নীতি, লুটপাটে রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়। ঠিক এমনই এক সংকটময় মুহূর্তে সিপাহী-জনতার সম্মিলিত বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে দেশের দায়িত্বভার তাঁর উপর অর্পিত হয়। জাতির বিভিন্ন কঠিন ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল ত্রাতার, উদ্ধারকর্তার। তাঁর এই অনন্য ভূমিকা ও সফল নেতৃত্ব ভবিষ্যত প্রজন্মকে সর্বদা আলোর পথ দেখাবে।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে এই প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। ধর্ম-বর্ণ-পাহাড়-সমতল নির্বিশেষে গোটা জাতিকে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গ্রহণ করেন বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী কর্মসূচি। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা। কৃষি উন্নয়ন, খাল খনন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবার পরিকল্পনা, গ্রাম সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন, গণশিক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি জনগণকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করেন। যুব সমাজের উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের বিকাশ এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারেও শহিদ জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মুসলিম বিশ্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে একটি সম্মানজনক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনিই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেন। তাঁর দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে আজ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। শহিদ জিয়ার সক্রিয় উদ্যোগের ফলেই পরবর্তীকালে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

দেশ পরিচালনায় তিনি পেয়েছিলেন স্বল্প সময়। কিন্তু এই অল্প সময়ে তিনি যে গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন, তা আজও এক সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

আমার বিশ্বাস, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং একজন বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের স্বরূপ জনগণের মণিকোঠায় চিরজাগরুক থাকবে। আমি আশা করি, তাঁর কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটলতা, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা ও জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ঢাকা অফিস: “শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমি তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ‘৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহিদ হন। আজকের এই বেদনাবিধুর দিনে আমি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের অসামান্য অবদানকে সশ্রদ্ধচিত্তে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ইতিহাসে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় নাম। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে এই বীর সেনানী পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তাঁর এই আহ্বান ও স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে দেখিয়েছিল আলোর পথ। সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য বীরত্ব, রণকৌশল ও অবদানের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, নাগরিক ও বাক স্বাধীনতা হরণ, দেশজুড়ে নৈরাজ্য, দুর্নীতি, লুটপাটে রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়। ঠিক এমনই এক সংকটময় মুহূর্তে সিপাহী-জনতার সম্মিলিত বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে দেশের দায়িত্বভার তাঁর উপর অর্পিত হয়। জাতির বিভিন্ন কঠিন ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল ত্রাতার, উদ্ধারকর্তার। তাঁর এই অনন্য ভূমিকা ও সফল নেতৃত্ব ভবিষ্যত প্রজন্মকে সর্বদা আলোর পথ দেখাবে।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে এই প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। ধর্ম-বর্ণ-পাহাড়-সমতল নির্বিশেষে গোটা জাতিকে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গ্রহণ করেন বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী কর্মসূচি। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা। কৃষি উন্নয়ন, খাল খনন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবার পরিকল্পনা, গ্রাম সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন, গণশিক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি জনগণকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করেন। যুব সমাজের উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের বিকাশ এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারেও শহিদ জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মুসলিম বিশ্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে একটি সম্মানজনক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনিই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেন। তাঁর দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে আজ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। শহিদ জিয়ার সক্রিয় উদ্যোগের ফলেই পরবর্তীকালে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

দেশ পরিচালনায় তিনি পেয়েছিলেন স্বল্প সময়। কিন্তু এই অল্প সময়ে তিনি যে গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন, তা আজও এক সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

আমার বিশ্বাস, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং একজন বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের স্বরূপ জনগণের মণিকোঠায় চিরজাগরুক থাকবে। আমি আশা করি, তাঁর কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটলতা, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা ও জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।