সোহরব হোসাইন, ঢাকা: রাজধানীর বনানী থানার অন্তর্গত ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ‘জ-ইউনিট’ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমানের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড ও ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন কড়াইল বস্তির অসহায় বিধবা, প্রতিবন্ধী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ। এছাড়া ফুটপাতে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দেওয়া এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃক চালু করা ই-রিকশার লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে কয়েকশ চালকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আনিস। কারো কাছ থেকে দেড় হাজার, কারো কাছ থেকে দুই হাজার, আবার কারো কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও টাকা আনিসের হাতে তুলে দেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে শুধু ‘আজ-কাল-পরশু’ বলে ঘোরানো হচ্ছে।

সম্প্রতি এ নিয়ে চালকরা চাপ সৃষ্টি করলে আনিস সরকার পরিবর্তনের অজুহাত দেখান। তাঁর দাবি—সরকার পরিবর্তনের কারণে সিটি কর্পোরেশনের যেসব কর্মকর্তাদের তিনি লাইসেন্সের জন্য ‘ম্যানেজ’ করেছিলেন, তাঁরা সবাই পালিয়ে গেছেন।

কড়াইল বস্তির বাসিন্দা এবং প্রতারণার শিকার সুফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি বিধবা মানুষ, মানুষের বাসায় কাজ করে খাই। ফ্যামিলি কার্ড পাইলে কম দামে চাল-ডাল কিনতে পারমু, এই আশায় আনিস ভাইরে জমানো তিন হাজার টাকা দিছিলাম। এখন কার্ডও দেয় না, টাকাও ফেরত দেয় না। চাইলে কয় ‘ধৈর্য ধরেন’।”

রিকশা চালক মো. কালাম বলেন,”ই-রিকশার লাইসেন্সের জন্য আনিস সাহেবরে ৪ হাজার টাকা দিছিলাম। এখন উনি বলতেছেন আগের অফিসাররা নাকি পলাইছে, তাই লাইসেন্স হইতেছে না। আমরা গরিব মানুষ, এখন না খাইয়া মরার দশা।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট মোড়ে ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলেন আনিস রহমান। কিছুদিন আগেও যাঁর তিনবেলা ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হতো, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি তিনি এখন বিপুল সম্পদের মালিক। প্রতিদিন তাঁকে নতুন নতুন দামি পোশাকে দেখা যায়। এছাড়া টাকার বিনিময়ে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দেওয়া এবং বিগত সরকারের আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনুসন্ধানে জানা গেছে, আনিস রহমানের বাবা বনানী থানা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এমনকি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা আনিসের দায়িত্বাধীন ঢাকা-১৭ আসনের টিঅ্যান্ডটি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে দলীয় প্রধান তারেক রহমান (প্রতীকী অর্থে দলীয় প্রার্থী) ১০০ ভোটে পরাজিত হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আনিসের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের বড় অংশই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, যার প্রভাব তাঁর নির্বাচনী দায়িত্বেও পড়েছিল। এছাড়া আনিস প্রচারণা অংশ নেওয়া অনেক কর্মীর পারিশ্রমিকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিভিন্ন উপহার সামগ্রী নিজে রেখে দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ২০নং ওয়ার্ড জ-ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,”আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং দলীয় পদ থেকে আমাকে সরাতে এসব ছড়াচ্ছে। আমি কারো কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড বা রিকশার লাইসেন্সের নামে কোনো টাকা নিইনি। সিটি কর্পোরেশনের প্রক্রিয়া পরিবর্তনের কারণে হয়তো সাধারণ মানুষের কিছু সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু এর সাথে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন নেই।”

এ বিষয়ে বনানী থানা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন,”বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ, প্রতারক বা মাদক ব্যবসায়ীর জায়গা নেই। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি কড়াইল বস্তির অসহায় মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় দল নেবে না।”

সোহরব হোসাইন, ঢাকা: রাজধানীর বনানী থানার অন্তর্গত ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ‘জ-ইউনিট’ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমানের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড ও ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন কড়াইল বস্তির অসহায় বিধবা, প্রতিবন্ধী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ। এছাড়া ফুটপাতে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দেওয়া এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃক চালু করা ই-রিকশার লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে কয়েকশ চালকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আনিস। কারো কাছ থেকে দেড় হাজার, কারো কাছ থেকে দুই হাজার, আবার কারো কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও টাকা আনিসের হাতে তুলে দেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে শুধু ‘আজ-কাল-পরশু’ বলে ঘোরানো হচ্ছে।

সম্প্রতি এ নিয়ে চালকরা চাপ সৃষ্টি করলে আনিস সরকার পরিবর্তনের অজুহাত দেখান। তাঁর দাবি—সরকার পরিবর্তনের কারণে সিটি কর্পোরেশনের যেসব কর্মকর্তাদের তিনি লাইসেন্সের জন্য ‘ম্যানেজ’ করেছিলেন, তাঁরা সবাই পালিয়ে গেছেন।

কড়াইল বস্তির বাসিন্দা এবং প্রতারণার শিকার সুফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি বিধবা মানুষ, মানুষের বাসায় কাজ করে খাই। ফ্যামিলি কার্ড পাইলে কম দামে চাল-ডাল কিনতে পারমু, এই আশায় আনিস ভাইরে জমানো তিন হাজার টাকা দিছিলাম। এখন কার্ডও দেয় না, টাকাও ফেরত দেয় না। চাইলে কয় ‘ধৈর্য ধরেন’।”

রিকশা চালক মো. কালাম বলেন,”ই-রিকশার লাইসেন্সের জন্য আনিস সাহেবরে ৪ হাজার টাকা দিছিলাম। এখন উনি বলতেছেন আগের অফিসাররা নাকি পলাইছে, তাই লাইসেন্স হইতেছে না। আমরা গরিব মানুষ, এখন না খাইয়া মরার দশা।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট মোড়ে ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলেন আনিস রহমান। কিছুদিন আগেও যাঁর তিনবেলা ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হতো, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি তিনি এখন বিপুল সম্পদের মালিক। প্রতিদিন তাঁকে নতুন নতুন দামি পোশাকে দেখা যায়। এছাড়া টাকার বিনিময়ে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দেওয়া এবং বিগত সরকারের আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনুসন্ধানে জানা গেছে, আনিস রহমানের বাবা বনানী থানা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এমনকি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা আনিসের দায়িত্বাধীন ঢাকা-১৭ আসনের টিঅ্যান্ডটি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে দলীয় প্রধান তারেক রহমান (প্রতীকী অর্থে দলীয় প্রার্থী) ১০০ ভোটে পরাজিত হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আনিসের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের বড় অংশই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, যার প্রভাব তাঁর নির্বাচনী দায়িত্বেও পড়েছিল। এছাড়া আনিস প্রচারণা অংশ নেওয়া অনেক কর্মীর পারিশ্রমিকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিভিন্ন উপহার সামগ্রী নিজে রেখে দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ২০নং ওয়ার্ড জ-ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,”আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং দলীয় পদ থেকে আমাকে সরাতে এসব ছড়াচ্ছে। আমি কারো কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড বা রিকশার লাইসেন্সের নামে কোনো টাকা নিইনি। সিটি কর্পোরেশনের প্রক্রিয়া পরিবর্তনের কারণে হয়তো সাধারণ মানুষের কিছু সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু এর সাথে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন নেই।”

এ বিষয়ে বনানী থানা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন,”বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ, প্রতারক বা মাদক ব্যবসায়ীর জায়গা নেই। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি কড়াইল বস্তির অসহায় মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় দল নেবে না।”